ঈদযাত্রায় ২৭২ দুর্ঘটনা নিহত ৩২২

সোহেল রাহমান : এবারের কোরবানির ঈদে ঘরমুখি ও ফিরতি যাত্রায় সারা দেশে দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৭৫৯ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।  আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের ঈদুল আজহায় দুর্ঘটনা নিয়ে তৈরি প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রতিবেদনে উল্লেখ্য তথ্য মতে ২৮ অগাস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ২১৪টি প্রাণহারায় ২৫৪ ও আহত হয় ৬৬৯ জন, নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৫টি নিহত হয় ২৫ জন আহত হয় ৬৩ জন ও ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়ছে ৪৩ জন। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে মোট ২৭২টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৭৫৯ জন আহত হয়েছে।

- বিজ্ঞাপন -

মোজাম্মেল হক জানান, সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল ১০টি অনলাইন মিডিয়া ও ২২টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে ঈদের আগে-পরে ১৩ দিনের দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ে এ পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এবারের ঈদযাত্রা আগে শুরু হওয়ায় ঘরমুখো যাত্রায় দুর্ঘটনা কম ঘটলেও ফিরতি যাত্রায় ভোগান্তি ও সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ ঘটেছে পথচারীকে চাপা দেয়া, ১২ দশমিক ৬ শতাংশ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১ দশমিক ৪ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে, ৩ দশমিক ২ শতাংশ গাড়ির ছাদ থেকে পড়ে এবং ১১ দশমিক ২ শতাংশ দুর্ঘটনা অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
এসব দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের ৩৭ ভাগ বাস, ৩৫ ভাগ ট্রাক ও পিকআপ, ২৩ ভাগ নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল, ৫ ভাগ অন্যান্য যানবাহন ছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সমিতির পর্যবেণ অনুযায়ী দুর্ঘটনার কারণ, ভাঙা ও খানাখন্দপূর্ণ রাস্তাঘাট, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, বিপদজনক ওভারটেকিং, অতিরিক্তি মুনাফার আশায় যানজটে আটকে থাকা বাণিজ্যিক পরিবহনগুলোকে দ্রুত ফেরত আসতে মালিকপরে বারবার তাগাদা।
এ ছাড়াও বেপরোয়া নছিমন-করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্পাল্লার ও দ্রুতগতির বাস, কার এক সঙ্গে চলাচল এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
সংবাদ সম্মেলনে কিছু সুপারিশমালা তুলে ধরে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সেল গঠন, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া, মহাসড়কে দ্রুতগতি ও ধীর গতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের পাশাপাশি রোড সেফটি অডিট করা, সড়ক-মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন করা এবং মানসম্মত ও নিরাপদ যানবাহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা রয়েছে।
এ ছাড়াও শিতি ও প্রশিতি চালক গড়ে তোলা, দেশের সড়ক-মহাসড়কে পথচারী বান্ধব ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং, ওভারপাস, আন্ডারপাস গড়ে তোলা। ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা। মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারি চালিত রিকশা ও অটোরিকশা বন্ধে সরকারের গৃহিত সিদ্ধান্ত শত ভাগ বাস্তবায়ন করা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. মাহবুব আলম তালুকদার এবং সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক হানিফ খোকন উপস্থিত ছিলেন।