সীতাকুণ্ডে ‘স্বামী-সন্তান’সহ ‘আত্মঘাতী’ নারী আটক

কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে যে দুটি বাড়িতে অভিযান চলছে তার একটি থেকে এক পুরুষ এবং এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে দুই মাস বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। তাদেরকে আটক করার সময় ওই নারী তার কোমরে থাকা বোমার বিস্ফোরণের হুমকি দিচ্ছিলেন। পরে তা খুলে নেয়া হয়।

পুলিশের হাতে আটক দুইজন নিজেদেরকে স্বামীণ্ডস্ত্রী বলে পরিচয় দিয়েছেন। এদের একজন নিজের নাম বলেছেন জসিম উদ্দিন, অপরজন নিজের পরিচয় দিয়েছেন আরজিনা বলে। শিশুটি তাদের সন্তান বলে জানিয়েছেন তারা।

- বিজ্ঞাপন -

বুধবার দুপুরের দিকে সীতাকুণ্ডের নামার বাজার এলাকায় সাধন কুঠির নামে সন্দেহভাজন আস্তানাটিতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেখান থেকে ‘জঙ্গি দম্পতি’কে আটকের পর তাদেও কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পাশের আরেক ‘আস্তানা’ ‘ছায়ানীড় ভবনে’ অভিযানে যায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বেলা আড়াইটার দিকে সাধন কুঠির নামে বাড়িটির নিচতলায় ঢুকে তারা। গত ৪ মার্চ এই বাড়িটি তার মালিক সুরেশ দাসের কাছ থেকে বাড়িটি ভাড়া নেন জসিম উদ্দিন নামে একজন। এ সময় তাঁর স্ত্রী এবং দুই শ্যালক পরিচয়ে দুই জন আসেন। ভাড়া নেওয়ার পর জসিমের দুই শ্যালক চলে যান। ভাড়া দেওয়ার সময় জসিমের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নেন বাড়িওয়ালা।

ভাড়া নেওয়ার পর থেকে বাড়ির দরজাণ্ডজানলা সব সময় বন্ধ রাখতেন জসিম। এ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বাড়িওয়ালা ওই পরিচয়পত্র নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, এটা ভুয়া।

প্রতিবেশীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে প্রচুর ক্যাবল আর সার্কিট নিয়ে সাধন কুঠিতে ঢুকেন কয়েকজন। এ নিয়ে সন্দেহ বাড়ে এলাকাবাসীর। পরে বাড়ির মালিক কিছু ক্যাবল ও একটি সার্কিট নিয়ে পরিচিত এক বিদ্যুৎ মিস্ত্রিকে দেখান। মিস্ত্রি তাকে জানান, এটা টাইমার। এটা জানার পর বুধবার সকালে স্থানীয়রা সীতাকুণ্ড থানা পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশ জানায়, বাড়িটিতে তারা ঢুকতে চাইলে তাদেরকে বাধা দেন জসিম ও আরজিনা। এ সময় বাসাটি থেকে পুলিশের ওপর বোমা ছুড়ে মারা হয়। এতে একজন পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন। একপর্যায়ে পুলিশ জোর করে বাসায় প্রবেশ করলে আরজিনা তাঁর কোমরে হাত দিতে যান। সেটা দেখে ওই নারীর দুই হাত শক্ত করে ধরে ফেলে তারা। পরে পুলিশ আরজিনার কোমর থেকে বোমা উদ্ধার করে।

গত ডিসেম্বরে রাজধানীর উত্তরার আশকোনায় সন্দেহভাজন একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরুর পর ভেতর থেকে এক নারী বের হয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের ভান করে কোমরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। এতে তিনি মারা যান এবং তার সঙ্গে থাকা ছোট্ট মেয়ে শিশু আহত হয়। শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে তার নানার কাছে তুলে দেয়া হয়।

সীতাকুণ্ডে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা থেকে দুইজনকে আটকের পর তাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পাশের ‘ছায়ানীড় ভবন’ এ অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেখানে প্রচুর বোমা, গ্রেনেড ও বিস্ফোরক আছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি। আস্তানাটি চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার নুরে মিনা সন্ধ্যার পর ঢাকাটাইমসকে জানান, অভিযানে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশের সঙ্গে জেলা রিজার্ভ পুলিশের একটি দল যোগ দিয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয় দলকেও ডাকা হয়েছে। তারা আসলেই অভিযান শুরু করা হবে। এই বাড়ির ভেতরে বেশ কয়েকজন জঙ্গি থাকতে পারে বলে জানান তিনি।