বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মিয়ানমারের চার গুপ্তচর আটক

কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মিয়ানমারের ৪ গুপ্তচরকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি সূত্র জানায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা সীমান্তে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা।

- বিজ্ঞাপন -

এসব সাধারণ রোহিঙ্গাদের সাথে মিশে যায় এই চার গুপ্তচর। আটককৃতরা হল, মিয়ানমারের মংডু শহরের ফকিরাবাজার আমতলির বাসিন্দা আব্দু শুক্কুরের পুত্র আনোয়ার হোসেন (৪০), মৃত নজির আহমদের পুত্র জাফর আলম (৪৫), নুরে আলমের পুত্র মো: আজমল হোসেন (৩৮), এবং ইউসুফ আলীর পুত্র মো. কালু মিয়া (৫৫)।

বুধবার বিকালে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ফুলতলী ঢেঁকুবুনিয়া ৪৮নং পিলারের এলাকা থেকে ৪ জনকে সন্দেহজনক ঘুরাঘুরি করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি’র) সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এই চার গুপ্তচরকে আটক করে। বর্তমানে তাদের বান্দরবান সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে আটক চার গুপ্তচর চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। এই চার গুপ্তচর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে রাখাইন রাজ্যে সেনাদের সাথে রোহিঙ্গা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও বসতবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার কাজে অংশ নিয়েছিল। আটকৃত চার জনের হাত দিয়ে কয়েকশ’ রোহিঙ্গা হত্যা করা হয়েছে মর্মে তারা স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে।

চার রোহিঙ্গা গুপ্তচর আটকের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৩১-বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আনোয়ারুল আযীম জানান, তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করছিল। তারা মিয়ানমার থেকে অন্যান্য নির্যাতিত সাধারণ রোহিঙ্গাদের সাথে এপারে এসে আশ্রয় নিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অডিও ভিডিওসহ সকল ধরনের তথ্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রমাণ মিলেছে। তিনি আরো জানান, চার গুপ্তচরকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।