বিএনপিকে না পাওয়ার অতৃপ্তি কমিশনার শাহ নেওয়াজের

কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: পাঁচ জানুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপি জোটকে ভোটে না পাওয়া নিজেদের অপ্রাপ্তি বললেন বিদায়ী নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ। একই সঙ্গে সবার অংশগ্রহণে ভোট করতে না পারাটাও বিদায় কমিশনেরও ‘অতৃপ্তি’ বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে মেয়াদের শেষ কর্মদিসবে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

- বিজ্ঞাপন -

মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, কোনো বিষয়কে কখনোই চ্যালেঞ্জিং মনে করি নি; কখনো আমাদের অসহায়ত্বও প্রকাশ পায় নি। তবে অতৃপ্তি অথবা অপ্রাপ্তি জায়গা ছিল। আমরা চেয়েছিলাম অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন করতে, রাজনৈতিক কারণে একটি দল ও তাদের জোট ভোটে আসে নি।

এক প্রশ্নের জবাবে শাহ নেওয়াজ বলেন, তবে আমাদের কিছু ডিস্যাটিসফ্যাকশন ছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের সময় একটা রাজনৈতিক দল ও তার জোট নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় সেটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়নি। এতে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়দায়িত্ব ছিল না। সবার অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় খারাপ লেগেছে।

তিনি জানান, দলগুলো রাজনৈতিক কারণেই নির্বাচনে আসেনি। তবে ইনক্লুসিভ না হওয়ায় সে জাতীয় নির্বাচনের কিছুটা ফাঁক রয়েছে।

নিজেদের মেয়াদের মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, আমাদের মেয়াদে অধিকাংশ নির্বাচন ভাল হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কিছু নির্বাচনী কর্মকর্তার অসহযোগিতার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু নির্বাচন খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে কিছু কিছু প্রার্থী নির্বাচনে জেতার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছিল। সে কারণে কিছু নির্বাচন খারাপ হয়েছে। সার্বিকভাবে ভালো নির্বাচন হয়েছে, সুন্দর সময় গেছে আমাদের। নিজেদের মেয়াদে কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই ভোট করার দাবি করেন তিনি।

বিকাল পাঁচটায় আগারগাঁওস্থ ইসি কার্যালয় ছাড়েন মো. শাহ নেওয়াজ। এ দিন পরিবারের কয়েকজন সদস্যও এসেছিলে নির্বাচন ভবনে। বিদায় বেলায় আবেগাপ্লুত ছিলেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীনসহ তিন নির্বাচন কমিশনার ৮ ফেব্রুয়ারি বিদায় নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ বিদায় নেন আজ। আগামীকাল বুধবার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নতুন কমিশন শপথ নিয়েই নির্বাচন কমিশনে যোগ দেবেন বলে জানান গেছে।

কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে অন্য নির্বাচন কমিশনাররা হলেন-সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, রাজশাহীর অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম কবিতা খানম, সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী।