যক্ষ্মা নির্মূলে বাংলাদেশকে অনুসরণের পরামর্শ হুর

কাগজ অনলাইন ডেস্ক: যক্ষ্মা চিকিৎসায় বাংলাদেশের গৃহীত স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

বুধবার ভারতের নয়াদিল্লিতে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের যক্ষ্মা নির্মূল সম্মেলনে সংস্থাটির প্রতিনিধিরা এ আগ্রহ দেখান বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

- বিজ্ঞাপন -

এতে বলা হয়, ভারতের নয়াদিল্লির হোটেল লা মেরিডিয়ানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে দুদিনব্যাপী স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তার বক্তব্যে সরকারের গৃহিত স্বল্পমেয়াদি কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। তার কথা শোনে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী বাংলাদেশের গৃহিত কর্মসূচি অনুসরণের পরামর্শ দেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মালটি ড্রাগস রেজিস্ট্যান্স যক্ষ্মা রোগীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশই প্রথম এই অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করে শতকরা ৮৫ ভাগ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যে রোগের চিকিৎসায় পূর্বে ২৪ মাস সময় প্রয়োজন হতো, সেই রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশে এখন নয় মাসেই হচ্ছে।

তিনি বলেন, যক্ষ্মা নির্মূলের মাধ্যমে ১.২ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ সরকার আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক্ষেত্রে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করছে। যক্ষ্মা প্রতিরোধে সরকার আগামী বছর থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছে বলে এ সময় তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের সময়ে যক্ষ্মা নির্ণয় ও প্রতিরোধে আগের তুলনায় অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই রোগের উঁচু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে খুঁজে বের করার মতো দুরূহ কাজটিতে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন রোগী শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। শৈশব ও কৈশোরকাল থেকেই এই রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা প্রদানে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি এ সময় গুরুত্বারোপ করেন।

যক্ষ্মায় মৃত্যুর সংখ্যাকে শূন্যের কোটায় নামাতে হলে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি এ খাতে আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর জন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, যক্ষ্মা নির্মূলের পথে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে থাকলেও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সারা দেশের তৃণমূল জনগণের মাঝে রোগ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পৌঁছে দিতে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।

মা ও শিশু স্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি, ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা, নতুন নতুন বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ব্যবস্থা সংযোজনসহ সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অর্জনের চিত্র তুলে ধরে নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসহ আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে যে সাফল্য অর্জন করেছে তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত ও স্বীকৃত। বাংলাদেশকে আজ অনেক দেশে মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, জাতিসংঘ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, বিভিন্ন দেশ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যে নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন এবং বিদ্যমান কার্যক্রম মূল্যায়ন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এই সম্মেলনে বাংলাদেশের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।