সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্বপালনে অটল থাকবো: সিইসি নুরুল হুদা

কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কারও সঙ্গে কোনো আপস না করার অঙ্গীকার করেছেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

বুধবার শপথ নেওয়ার পর কর্মস্থল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করে তার মাধ‌্যমেই সব রাজনৈত্কি দলের আস্থা অর্জনে আশাবাদী তিনি।

- বিজ্ঞাপন -

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ পেয়ে বাংলাদেশের দ্বাদশ সিইসি হিসেবে শপথ নিলেন সাবেক আমলা নূরুল হুদা।

নতুন নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন সাবেক সচিব রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ কবিতা খানম ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ‌্যে নতুন ইসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন‌্যদিকে বিএনপি নতুন সিইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

দুপুরে প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে শপথ নেওয়ার পর বিকালে সহকর্মীদের নিয়ে আগারগাঁওয়ে নতুন নির্বাচন ভবনে যান নূরুল হুদা। সিইসির কক্ষে তাদের অভ্যর্থনা জানান ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

এরপর সবাইকে নিয়ে সিইসি হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসেন নূরুল হুদা। এক্ষেত্রে রেওয়াজ ভেঙেছেন তিনি। আগের সিইসিরা ইসির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করলেও নূরুল হুদা সাংবাদিকদের ‍মুখোমুখি হন উন্মুক্ত লনে।

নতুন সিইসি বলেন, “আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে শপথ গ্রহণ করেছি। সংবিধান ও সংবিধানের অধীনে প্রণীত আইনকানুন বিধিবিধানের ভিত্তিতে দায়িত্বপালনে অটল এবং আপসহীন থাকব।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সাংবিধানিক কাজে সরকারের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করব; কাজেই কারও দ্বারা প্রভাবিত হব না।”

নির্বাচন কমিশনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দক্ষতা ব্যবহার করে কাজ করবেন জানিয়ে তাতে সরকার, সব রাজনীতিক দল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন নূরুল হুদা।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৫ বছর ধরে ধাপে ধাপে নির্বাচন কমিশন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের একজন সচিবের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে রয়েছে একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো ও সুদক্ষ জনবল।

“অভিজ্ঞ এবং নিষ্ঠাবান নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে নিয়ে দায়িত্বপালনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ,” বলেন তিনি।

এই নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। দশম সংসদ নির্বাচন অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বর্জন করায় আগামী নির্বাচনে সব দলকে আনাই এই ইসির প্রধান চ‌্যালেঞ্জ হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন ইসিকে ‘সরকারের আজ্ঞাবহ’ বলে আসা বিএনপি নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নতুন ইসিকে সরাসরি প্রত‌্যাখ‌্যান না করলেও নানা প্রশ্ন তুলেছে।

ইসির উপর আস্থা রাখার বিষয়ে নূরুল হুদা বলেন, “আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল ও সবার আস্থা অর্জনে কাজ করে যাব। আমরা কাজের মাধ্যমে এমন অবস্থান সৃষ্টি করব, যাতে সবার আস্থা অর্জনে সক্ষম হব বলে আমি বিশ্বাস করি।”

নূরুল হুদাকে আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ত বলে বিএনপি অভিযোগ করে আসছে।

এনিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। কোনো দলের নির্বাচনী কাজেও আগে যুক্ত ছিলাম না।”

যোগ দিয়ে চ্যালেঞ্জ কী মনে করছেন- এ প্রশ্নে নতুন সিইসি বলেন, “আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ একটাই, দেশের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া। এজন্য আমরা কাজ করে যাব।”

নির্বাচনে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অযাচিত প্রভাব ঠেকাতে কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সাবেক এই সচিব।

“আমরা যে কোনো প্রভাব, হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে মোকাবেলা করব; আইন-বিধির বাইরে কোনো কিছুকেই প্রশ্রয় দেব না।”

দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়ার কথা রয়েছে নতুন ইসির। তারপরই কাজে নেমে পড়বেন তারা।

নূরুল হুদা জানান, চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেবেন।

“প্রথম কাজ হবে আলোচনা করব নিজেদের মধ্যে, দেখব, বুঝব; সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পরিকল্পনা নেব।”