সিলিয়াক রোগ বৃদ্ধি করতে পারে নিরীহ একটি ভাইরাস

কাগজ অনলাইন ডেস্ক: ইঁদুরের উপর করা নতুন একটি গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে যে, এক ধরণের নিরীহ ভাইরাস সিলিয়াক রোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

গবেষকেরা দেখেছেন যে, জেনেটিক এঞ্জিনিয়ারিং করার মাধ্যমে সিলিয়াক রোগে আক্রান্ত ইঁদুরদের মধ্যে রিও ভাইরাসের দ্বারা সংক্রমিত হতে দেখা যায়। রিও ভাইরাসে আক্রান্ত নয় এমন ইঁদুরদের তুলনায় এদের মধ্যে গ্লুটেন এর বিরুদ্ধে ইমিউন প্রতিক্রিয়া হতে দেখা যায়। মানুষের সিলিয়াক সমস্যার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইমিউন প্রতিক্রিয়া হতে দেখা যায়।

- বিজ্ঞাপন -

যদিও মানুষের ক্ষেত্রে রিও ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া সাধারণ একটি বিষয়, কোন লক্ষণ প্রকাশিত হয় না। কিন্তু গবেষণায় জানা গেছে যে, সিলিয়াক রোগে আক্রান্তদের শরীরে রিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবডি থাকে।

গবেষকেরা বলেন যে, রিও ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্তদের ইমিউন সিস্টেমে স্থায়ী চিহ্ন রেখে যায় যা সিলিয়াক রোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো সিলিয়াক ডিজিজ সেন্টার এর গবেষণা পরিচালক এবং গবেষণার সহ লেখক ডা. বানা জাবরি একটি বিবৃতিতে বলেন যে, ‘একটি ভাইরাস যার চিকিৎসাগত কোন লক্ষণ প্রকাশিত হয় না সেটিও ইমিউন সিস্টেমের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং সিলিয়াক ডিজিজের মত অটোইমিউন ডিজঅর্ডার তৈরি হয়’।

গবেষকেরা বলেন, সিলিয়াক রোগে আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে যাদের উচ্চমাত্রার রিও ভাইরাস অ্যান্টিবডি ছিলো তাদের মধ্যে একটি জিনের প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায় যা IRF1 নামক প্রোটিন। ইঁদুরের উপর করা গবেষণায় গবেষকেরা দেখেন যে, রিও ভাইরাসের সংক্রমণের পরে গ্লুটেনের প্রতি অসহনিয়তা তৈরিতে IRF1 গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষকেরা উল্লেখ করেন যে, T1L নামক রিও ভাইরাসের একটি নির্দিষ্ট ধরণ ইমিউন প্রতিক্রিয়াকে বৃদ্ধি করে বলে দেখা গেছে গবেষণায়। তারা বলেন, এটি পরিষ্কার না যে অন্য ধরনের রিও ভাইরাসের ও একই ধরনের প্রভাব আছে কিনা। তারা T3D নামক অন্য আরেকটি জাত পরীক্ষা করে দেখেন যে এটি জেনেটিক ভাবে T1L এর চেয়ে ভিন্ন এবং এটি ইমিউন প্রতিক্রিয়াকে বৃদ্ধি করেনা।

গবেষকেরা বলেন যে, রিও ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে অন্য কারণ যেমন – ব্যক্তির জিন এবং তাদের সার্বিক স্বাস্থ্য ও সিলিয়াক রোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সিলিয়াক রোগ একটি অটোইমিউন ডিজিজ যার ফলে মানুষের ইমিউন সিস্টেম গ্লুটেন নামক প্রোটিনের প্রতি অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখায় যা পাওয়া যায় গম, রাই এবং বার্লিতে। এই প্রতিক্রিয়ার ফলে ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই সমস্যাটি আমেরিকায় প্রতি ১০০ জনে ১ জনের মধ্যে দেখা যায়।

নির্দিষ্ট ভাইরাসের সাথে এই সংক্রমণের লিংক আছে বলে পূর্ববর্তী গবেষণায় পরামর্শ দেয়া হয়েছে (হেপাটাইটিস সি ভাইরাস ও রোটা ভাইরাস এবং সিলিয়াক রোগ তৈরি হওয়ার মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান)।

গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, T1L দুইভাবে কাজ করে – নিয়ন্ত্রক ইমিউন কোষের নির্দিষ্ট ধরনের গঠনকে দমন করে এবং গ্লুটেনের প্রতি ইনফ্লামেটরি প্রতিক্রিয়াকে উৎসাহিত করে।

গবেষকেরা উল্লেখ করেন যে, যেহেতু রিও ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে গ্লুটেনের প্রতি ইমিউন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এই প্রতিক্রিয়ার ফলেই শুধু ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্ষতি হয় না। ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্ষতির পেছনে অন্য কারণগুলোর বিষয়ে আরো গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।

গবেষণাটি সায়েন্স নামক জার্নালে প্রকাশিত হয় এপ্রিলের ৬ তারিখে।