সেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে কমিটি

কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ডায়াগনস্টিক ফি নির্ধারণ, বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সেবার মান উন্নয়নে সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) হাবিবুর রহমানকে মনোনীত করে বিএমএ, স্বাচিপ, বিএমডিসি, বাংলাদেশ বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটিকে সুপারিশ প্রদানের জন্য তিনি নির্দেশ প্রদান করেন।

- বিজ্ঞাপন -

পাশাপাশি মানহীন ও অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনেরও নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুধবার সচিবালয়ে রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্বকালে একথা বলেন। হাসপাতালগুলোর সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের সহযোগী শক্তি হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালগুলো কাজ করে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষার মূল্য এবং সার্ভিস চার্জ অত্যধিক উচ্চ হারে থাকায় দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত জনগণের জন্য তা বহন করা দুঃসাধ্য। বড় বড় নামকরা হাসপাতাল ও মধ্যম সারির হাসপাতালের মধ্যেই এই মূল্যের পার্থক্য অনেক। এক্ষেত্রে সব বেসরকারি হাসপাতাল সমন্বিতভাবে স্বেচ্ছায় উদ্যোগী হয়ে দেশের অধিকাংশ মানুষের কথা বিবেচনা করে সহনীয় মাত্রার মধ্যে ফি নির্ধারণ করলে জনগণ উপকৃত হবে।

সভায় অন্যান্যের মাঝে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. এনামুর রহমান, স্বাস্থ্য সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, নার্সিং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তন্দ্রা শিকদার, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম. ইকবাল আর্সলান, বিএমএর মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহসহ রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

কোনো হাসপাতাল থেকে কোনো রোগী যেন আর্থিক কারণে চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত না যায় সেদিকে মানবিক দৃষ্টি রাখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে সরকার নির্ধারিত ১০ শতাংশ শয্যা দরিদ্র ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ রাখার বিধান ক্লিনিকগুলোকে মানতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ ও মানহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযানে সহায়তা করার জন্যও মন্ত্রী সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতার বাজারে মান বজায় রাখতে না পারলে দুর্বল ক্লিনিকগুলো এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। তবে তাদের অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতা সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার সুনামের জন্য ক্ষতিকারক।

সভায় বিভিন্ন হাসপাতালের প্রতিনিধিরা বিদ্যমান সেবার ধরনসহ সংশ্লিষ্ট নানাবিধ বিষয় ও সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এর আগে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের মানোন্নয়নে অপর এক মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে সবাই বুঝে গেছে যেনতেনভাবে মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানো যাবে না। পরিচালনা নীতিমালার শর্ত পূরণ না করায় বর্তমান শিক্ষাবর্ষে চারটি কলেজের নতুন ছাত্র ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে। কয়েকটি কলেজকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলো সবার জন্য সতর্ক সংকেত। সবাই বুঝে গেছে, শিক্ষার মানের অবনতি হতে পারে এমন কোনো কাজকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না। মালিকরাও জেনে গেছে কলেজ চালানোর দায়িত্ব নিয়ে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

সভায় অন্যান্যের মাঝে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খান, বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপকা ডা. কামরুল আহসান, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আলহাজ মকবুল হোসেন, বিএমএর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনসহ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিসিপিএস ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।