হামলার আশঙ্কায় চট্টগ্রামে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্থানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হোটেল, স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে যে সব জায়গায় বিদেশিরা অবস্থান করছেন, সে সব জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকধারী পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাখা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।

নগর পুলিশ ও র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, নেভাল একাডেমি, মেরিন একাডেমি, ইপিজেড, চট্টগ্রাম কাস্টমস, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী দেশের প্রধান জ্বালানি তেল স্থাপনা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ইস্টার্ন রিফাইনারি ও এশিয়াটিক স্টান্ডার্ড অয়েল কোম্পানির ডিপো, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

- বিজ্ঞাপন -

বিমান বন্দরের ম্যানেজার উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবির জানিয়েছেন, দর্শনার্থী প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। আগে বিদেশগামীর সঙ্গে একাধিক দর্শনার্থী বিমানবন্দরে প্রবেশের সুযোগ পেত; এখন তা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। প্রত্যেক যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজনকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরে প্রবেশের আগে চেকপোস্টে তল্লাশি করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) আনোয়ার হোসেন আমাদের সময়কে জানিয়েছেন, সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিহিংসা-পরায়ণ হয়ে জঙ্গিরা হামলা করতে পারে- এমন আশঙ্কায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সতর্ক অবস্থা জারি করা হয়েছে। এছাড়া শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর, পতেঙ্গায় জ্বালানি তেলের স্থাপনাগুলো এবং বিদ্যুতের গ্রিড সাব স্টেশনে সাদা পোশাকধারী পুলিশ বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হোটেল, গেস্ট হাউস এবং ইপিজেডে যেসব বিদেশি কর্মরত রয়েছেন- তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। বিদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেন তিনি।

র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিনতানুর রহমান বলেন, র‌্যাব-৭ এর আওতাধীন ৬ জেলায় জঙ্গি মোকাবেলায় বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি টহল দ্বিগুণ করা হয়েছে। পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। একই সময়ে চেকপোস্ট বসালে জনগণের ভোগান্তি বাড়তে পারে। তাই আপাতত তল্লাশি চালাচ্ছে না র‌্যাব। সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতেই তল্লাশি চালানোর নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান তিনি।