ঢাবি ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার

আগের সংবাদ

সতর্কতাই পারে ব্লু হোয়েলের থাবা থেকে তরুণদের বাঁচাতে

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা গণমাধ্যমে অতিরঞ্জিত: বর্মী সেনাপ্রধান

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১২, ২০১৭ , ৯:২১ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৭, ৯:২৪ অপরাহ্ণ

বুধবার ইয়াঙ্গুনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মারসিয়েলের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে নিজেদের অবস্থান বিস্তারিত তুলে ধরেন মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হ্লাইং। ওই বক্তব্য তার ফেইসবুক পাতায় তুলে দেওয়া হয়েছে।

রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সঠিক তথ্য আসছে না দাবি করে হ্লাইং বলেন, “বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া বাঙালির সংখ্যা ‘অনেক বড়’-একথায় অতিরঞ্জন আছে।”

তবে কত সংখ্যক মানুষ পালিয়ে এসেছে সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান দেননি তিনি।

জাতিসংঘের হিসেবে গত দেড় মাসে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। এই স্রোত এখনও থামেনি।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেন, পর্দার অন্তরাল থেকে সংবাদ মাধ্যমকে ব্যবহার করে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ‘অপপ্রচার ও উস্কানি’ দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলে উল্লেখ করেন মিন অং হ্লাইং। এই দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে

তিনি বলেন, ১৮২৪ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীনে আসার পর বাঙলা থেকে বাঙালিরা ওই এলাকায় কৃষি শ্রমিক হিসেবে আসে। এছাড়া ওই আমলেই বুচিডং-মংডু রেললাইন প্রকল্পের শ্রমিক হিসেবে তারা আসে। এরপর তারা সেখানে স্থায়ী বসবাস শুরু করে। পরে তাদের জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ে।

“সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাঙালিরাই ওই এলাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ, মোট জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশ। রাখাইন ও অন্যান্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ হওয়ায় তারা সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে।

“সেখানে অনেক বাঙালি পরিবার। অনেক পরিবারে ৪০ জনের মতো সদস্য।”

সেনাপ্রধান বলেন, “বাঙালিদের এই দেশে মিয়ানমার নিয়ে আসেনি, উপনিবেশিকরা নিয়ে এসেছিল। তারা এখানকার স্থানীয় নয় এবং রেকর্ড বলছে, উপনিবেশিক আমলে তাদের রোহিঙ্গা বলা হত না, বাঙালি বলা হত।”

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানের কারণ হিসেবে ২৫ অগাস্টের যে হামলার কথা বলছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ, সে বিষয়েও বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেছেন মিন অং হ্লাইং।

তিনি বলেন, ওই দিন ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ঘাঁটিতে সমন্বিতভাবে হামলা চালানো হয়। আটটি সেতুও উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। ১০ বা ১৫ জনের একটি পুলিশ চৌকিতে লাঠি, ছোরা ও ছোট অস্ত্র নিয়ে দুইশ’র বেশি মানুষ হামলা করে।

ওই হামলায় চার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী ১৭৮৫ জন ‘সন্ত্রাসী’র তালিকা তৈরি করেছে। এতে তাদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান বলেন, অগাস্টের ঘটনায় ৯০ জনের বেশি হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের ৪৫ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত ১৯২ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মেরে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলা রোহিঙ্গাদেরও হত্যা করা হয়েছে এবং সে সখ্যা ৩০ জনের বেশি।

হামলার জন্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে (এআরএসএ) দায়ী করে তিনি বলেন, “এআরএসএ-র নেতৃত্বে স্থানীয় বাঙালিরা এসব হামলা চালিয়েছে। সম্ভবত সে কারণেই নিরাপত্তাহীনবোধ করে তারা পালিয়ে গেছে।

“বাঙালিদের সত্যিকারের জায়গা বাঙলা। সে কারণে তারা হয়ত একই ভাষা, জাতিগোষ্ঠী ও সংস্কৃতির অন্য একটি দেশে পালিয়ে গেছে এটা ভেবে যে, তারা সেখানেই বেশি নিরাপদ।”

ওই হামলার কারণ হিসেবে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের শনাক্তে পরিচালিত ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন প্রসেসের’ কথা বলেন হ্লাইং। রোহিঙ্গা স্বীকৃতি না দিয়ে ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করায় ওই ‘ভেরিফিকেশনে’ অংশ নেয়নি এই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা।

ঢাকার সফর করে যাওয়া মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির মন্ত্রী ১৯৯৩ সালের মিয়ানমার-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার যে কথা বলেছেন, তার পুনরাবৃত্তি করেছেন সেনাপ্রধান।

এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের কর্মকর্তারা মিয়ানমার সফরে যাবেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।