রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা গণমাধ্যমে অতিরঞ্জিত: বর্মী সেনাপ্রধান

আগের সংবাদ

নির্বাসিত রোহিঙ্গা ও বিপজ্জনক রাজনীতি

পরের সংবাদ

সতর্কতাই পারে ব্লু হোয়েলের থাবা থেকে তরুণদের বাঁচাতে

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১২, ২০১৭ , ৯:২১ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৭, ৯:২১ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

এ থেকে পরিত্রাণ পেতে গেমটির পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে বিশেষ করে তরুণদের ভালোভাবে অবহিত করা তাদের সতর্ক করাই প্রথম কাজ। সিনিয়র শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতায় এবং পুলিশের সময়োচিত হস্তক্ষেপ ও কাউন্সেলিংয়ে দুই তরুণের মৃত্যুপথ থেকে ফিরে আসার দৃষ্টান্ত খুবই ইতিবাচক। ব্লু হোয়েলের পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, সমাজের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই।

ব্লু হোয়েল গেম নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই গেমটি তরুণ-তরুণীদের আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করে। গেমের ফাঁদে পড়ে রাশিয়া, ভারত, চিলিসহ বেশ কয়েকটি দেশে অনেক কিশোর-কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীরাও এই মরণ খেলায় আকৃষ্ট হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অপূর্বা বর্মণ স্বর্ণা নামে ১৩ বছরের এক কিশোরী এই গেম খেলে আত্মহত্যা করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। গতকালের পত্রিকায়ই আছে আরো দুই তরুণের এই মৃত্যুপথ থেকে ফিরে আসার খবর। আতঙ্ক নয়, বরং সবার সচেতনতাই পারে এই মরণফাঁদ থেকে তরুণদের দূরে রাখতে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের বরাত দিয়ে গতকালের ভোরের কাগজের একটি রিপোর্টে জানানো হয়, গত ৫ অক্টোবর রাত ২ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস প্রথম বর্ষের এক ছাত্র কৌত‚হলবশত তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে আসা লিঙ্কে ক্লিক করে। ক্লিকের পরেই সরাসরি তার মোবাইলে ব্লু হোয়েল গেইমটি ডাউনলোড হয়ে যায়। এরপর সে খেলে ফেলে ৪টি ধাপ। প্রথম ধাপে সারারাত ক্যাম্পাসে হাঁটা। ২য় ধাপে হলের ছাদের রেলিং এ হাঁটা। ৩য় ধাপে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে নীল তিমি আঁকা আর ৪র্থ ধাপে সারাদিন চুপচাপ বসে থাকা। কিন্তু বাদ সাধেন তার হলের এক বড় ভাই। তিনি ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে সাহায্য চান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (উত্তর) কাছে। এরপর পুলিশ শিক্ষার্থীটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে। এরপর চলে কাউন্সেলিং। ভিক্টিম নিজের ভুল বুঝতে পারে।

গতকালই ভোরের কাগজ অনলাইনে প্রচারিত হয়েছে অনুরূপ আরেকটি খবর। খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর মিরপুরে ১৭ বছর বয়সী ব্লু হোয়েলের খপ্পরে পড়া এক কিশোরকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে কিশোরটিও কৌত‚হলবশত ব্লু হোয়েল খেলত। গেমের অ্যাডমিনের নির্দেশনা মানতে মানতে নিজের শরীরে বেøড দিয়ে ক্ষত করেছে সে। গেমটির শেষের স্টেজে সে আত্মহত্যার জন্য ঘুমের ওষুধ খায়। ওই কিশোর জানায়, গেমটি চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় সে গেমটি খেলা শুরু করে। সে আরো জানিয়েছে, অ্যাডমিনরা অনেক সময় অপমান করে কথা বলত, তাকে বোকা বলত। তাই সে চ্যালেঞ্জগুলো পার করত।

কিশোর তরুণরা স্বভাবতই চ্যালেঞ্জ বা অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়। এই প্রবণতা কাজে লাগিয়েই গেমের অ্যাডমিন তাদের আকৃষ্ট করে। এক পর্যায়ে গেম ছেড়ে চলে আসতে চাইলেও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের গেমে রাখা হয়। চ‚ড়ান্ত ধাপে তাদের আত্মহত্যা করার চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়। ভিকটিমরাও ঘোরে পড়ে তাই করতে উদ্যত হয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে গেমটির পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে বিশেষ করে তরুণদের ভালোভাবে অবহিত করা তাদের সতর্ক করাই প্রথম কাজ। সিনিয়র শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতায় এবং পুলিশের সময়োচিত হস্তক্ষেপ ও কাউন্সেলিংয়ে দুই তরুণের মৃত্যুপথ থেকে ফিরে আসার দৃষ্টান্ত খুবই ইতিবাচক।

ব্লু হোয়েলের পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য অভিভাবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, সমাজের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই। সন্তানদের আচরণে সন্দেহজনক কোনো কিছু দেখলেই পুলিশকে অবহিত করতে হবে। পরিবার ও বন্ধুবান্ধব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পারেন। শিশুদের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। শিশুরা যাতে মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট ব্যবহার নির্দিষ্ট বয়সের পর করে সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন হতে হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা