তামাকের ওপর সারচার্জের টাকা তামাক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত সঠিক

আগের সংবাদ

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

পরের সংবাদ

সুষমা স্বরাজের সফর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশিত

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২৩, ২০১৭ , ৬:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৭, ৫:২৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সব রোহিঙ্গাকে অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে। বলেছেন বাংলাদেশ সফরে আসা ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই কেবল সেখানে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে ভারতের নীতিগত অবস্থানও ব্যক্ত করেছেন তিনি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাস্তুচ্যুতদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার দাবির সমর্থনে ভারতীয় মন্ত্রীর বক্তব্য ইতিবাচক। শুধু সমর্থন নয়, এই দাবি বাস্তবায়নে প্রতিবেশী দেশ ও বৃহৎ শক্তি হিসেবে ভারতের সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করি আমরা।

২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর ওই বছরের ২৫ জুন তিনদিনের সফরে প্রথম ঢাকা এসেছিলেন সুষমা স্বরাজ। এটা তার দ্বিতীয় সফর। দুই দিনের সফরে গত রোববার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেন তিনি। রোববার সন্ধ্যায় সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের চতুর্থ বৈঠকে যোগ দেন তিনি। বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের পক্ষে তার সরকারের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-নিষ্পেষণ চলে আসছে কয়েক দশক ধরে। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্টের সেনা অভিযানের মুখে সেখান থেকে পালিয়ে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। অত্যাচার, নির্যাতন, ধর্ষণ করে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর আগে থেকেই কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছে আরো চার লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলে ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রিত। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হওয়ায় জাতিসংঘসহ সব আন্তর্জাতিক সংঘ, সংস্থা এবং বিশ্বের বহু দেশ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তারা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলমান ৭২তম অধিবেশনেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এখনো অব্যাহত রয়েছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ। বাংলাদেশ মানবিক কারণে এদের আশ্রয় দিচ্ছে, যদিও লাখ দশেক বাড়তি আশ্রিতের চাপ বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় রকমের বিরূপ প্রভাব ফেলার ঝুঁকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সরকারি নিপীড়ন বন্ধে এবং বাস্তুচ্যুতদের দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ মিয়ানমারের নিপীড়ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তাদের জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশের এই বড় সংকটের সময়ে নিকটতম প্রতিবেশী এবং বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতের সেরকম জোরালো কণ্ঠ না থাকা এ দেশবাসীর মনে যে হতাশা তৈরি করেছে, তা বলাই বাহুল্য। এ সময় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর তাই বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে তার দেশের অবস্থান তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা স্পষ্ট কেবল বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই রাখাইন রাজ্যের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। মিয়ানমারের সহিংসতায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাই যেসব রোহিঙ্গা জনগণ মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার মুখে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন চায় ভারত। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, কফি আনানের নেতৃত্বাধীন রাখাইন পরামর্শক কমিশনকে ভারত সমর্থন করে এবং আনান কমিশনের সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন চায়। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পক্ষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা প্রত্যাশা করব কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে ভারত জোরালো ভূমিকা রাখবে।