বিএসএমআরএইউএ ‘দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিকল্পনা’ কর্মশালা

আগের সংবাদ

কালাইয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর আত্মহত্যা

পরের সংবাদ

নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা অনেক তাদের তা প্রয়োগ করতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ২৫, ২০১৭ , ৯:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৭, ৪:০৩ অপরাহ্ণ

এম সাখাওয়াত হোসেন

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.)

 

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম কর্মী, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশ্লেষক, নারী নেত্রী ও সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সংলাপ করেছে। এ সংলাপ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কতটা ভূমিকা রাখবে; গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমান ইসির সক্ষমতা, প্রতিবন্ধকতা; নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে কী কী বিষয়ের ওপর জোর দেয়া প্রয়োজন; সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত- এসব নিয়ে ভোরের কাগজের মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভোরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার এন রায় রাজা

ভো. কা : আগামী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বর্তমান কে এম নুরুল হুদা কমিশন একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছেন, এটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে কতটা সহায়ক হবে?
ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : আসলে কোনো নির্বাচন করার ক্ষেত্রে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কমিশনের একটি রোডম্যাপ বা পরিকল্পনা থাকা বিশেষ প্রয়োজন। বর্তমান কে এম নুরুল হুদার কমিশন এটি করেছে। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। তবে রোডম্যাপে তারা যে ৭টি বিষয় এনেছে তার বাইরেও অনেক বিষয় রয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটানোর উদ্যোগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে সহায়তা করা ইত্যাদি। সেই সঙ্গে জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে ব্যাপারে একটি মনোরম বা সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির জন্য ইসিকে উদ্যোগী হতে হবে। তবে তারা যে ৭টি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এটিকে নিশ্চয় সাধুবাদ জানানো যেতে পারে।

ভো. কা : দীর্ঘদিন ধরে চলা সংলাপ শেষ হয়েছে। এর ফলে ফল কী পাওয়া যাবে বলে আপনি মনে করেন?
ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছাকাছি আসতে পারে ইসি। দলগুলো মতামত দিতে পারে, কিছু বিষয়ে তারা ইসির সঙ্গে সহমতও পোষণ করে, এসবের মধ্য দিয়ে কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা হলেও বাড়ে, আস্থাও বেড়ে যায়। যা সংলাপ থেকে ইসির প্রাপ্তি বলা চলে। তবে সংলাপ কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে সে বিষয়ে এখনো কিছু বলা যাবে না, যতক্ষণ না তাদের কার্যক্রম না দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সংলাপের আয়োজন একটা ভালো উদ্যোগ, এর মাধ্যমে সবগুলো রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা ইসির কাছে কী চাইছেন তা জানাতে পেরেছেন, মতামত দিতে পেরেছেন, ইসি তা মনোযোগ সহকারে শুনেছেন, আশ্বাস দিয়েছেন যা পরস্পরের মধ্যে একটা যোগসূত্র গড়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে ইসি নিজের আস্থা কিছুটা হলেও প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।

আসলে সংলাপ একটা প্রক্রিয়া। এর মধ্য দিয়ে পরস্পরের মধ্যে মনোভাব বিনিময় হয়। দলগুলো কী ধরনের নির্বাচন আশা করে, নির্বাচনে আইনের কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন দরকার কিনা, নির্বাচন পদ্ধতি, আরপিও ইত্যাদিতে কোনো কিছু সংযোজন-বিয়োজন দরকার কিনা ইত্যাদির ফয়সালার জন্য সংলাপ বিশেষ জরুরি। আর ভালো দিক হলো সবগুলো দল ইসির এ সংলাপে অংশ নিয়েছে। তবে এবারের সংলাপের বিষয়ে দলগুলো যেসব কথাবার্তা বলেছে বা প্রস্তাব দিয়েছে তার সঙ্গে ইসির রোডম্যাপের অনেকাংশে মিল নেই। কেননা, বিএনপির সব প্রস্তাবই প্রায় ছিল সাংবিধানিক। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার, সংসদ ভেঙে দিয়ে সব দলের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন- এসব তো সবই সাংবিধানিক বিষয়। এসব পূরণ করার ক্ষমতা ইসির হাতে নেই। এগুলো ইসি কীভাবে সমাধা করবে? নির্বাচনী আইনের কোনো সংশোধন, আরপিওর কোনো বিষয়ে মতামত এসব তো সংলাপে দেখলাম না। তাছাড়া সেনা মোতায়েনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ইসির বিষয়, কীভাবে ডিলিমিটেশন করা হবে সে সিদ্ধান্তও ইসির। তাই এসব নিয়ে অনেকেই মতামত দিয়েছেন। এগুলো ইসি শুনতে পারে, তবে তা মানা হবে কি হবে না এটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার।

ভো. কা : বর্তমান ইসির পক্ষে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করা কতটা সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?
ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : বর্তমান ইসি আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ কতটা করতে পারবে তা এখনই বলা মুশকিল। তাদের সদিচ্ছার হয়তো অভাব নেই। জাতীয় নির্বাচনের আগে বেশ কয়টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে দলীয়ভাবে, এসব নির্বাচন দেখে বোঝা যাবে কতটা ক্ষমতার প্রয়োগ তারা করতে পারেন, তা দেখেই বিচার করা যাবে জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে তারা কতটা সক্ষম হবেন। তবে এসব বিষয়ে সরকারের ভ‚মিকা সদর্থক থাকতে হবে। সরকারি মেশিনারিজ যদি কাজ না করে তবে তো ইসি কিছু করতে পারবে না। যদি প্রিজাইডিং অফিসার ঠিকঠাক কাজ না করেন, পুলিশ যদি নিরাপত্তা না দেয় তাহলে ইসির কী ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন পরিচালনার? নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে। সব স্টেকহোল্ডারদের সদিচ্ছা ও সহযোগিতা থাকতে হবে। একটা বিষয়, ইসির কিন্তু সব ধরনের ক্ষমতা সংবিধানে দেয়া রয়েছে, সেগুলোর প্রয়োগের ব্যাপারে তাদের সাহস ও সদিচ্ছা থাকা দরকার।

ভো. কা : রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই- বিএনপিসহ কয়েকটি দল সংলাপে অভিযোগ করেছে, এ বিষয়ে ইসির ভূমিকা কী হতে পারে?
ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : আসলে নির্বাচনের আগে সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা বিশেষ জরুরি। এটি কমিশনের একটি গুরুদায়িত্ব। কোনো দল যদি বিশেষ সুযোগ পায় বা কোনো দল যদি কম সুযোগ পায়, কেউ যদি স্বাধীনভাবে প্রচার-প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করে তাহলে নির্বাচনের আগেই পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। তাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখা বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করা ইসির জন্য বিশেষ জরুরি। বাস্তবে সরকারি দল বেশি সুবিধা ভোগ করে থাকে। তারা ক্ষমতায় থাকার সুবাদে অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। তাই বিরোধী দলগুলোর জন্যও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এখানে মুশকিল হলো নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরেই ইসি তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চায়।

তার আগে সারা বছর তো ইসির দায়িত্ব বা মনিটরিংয়ের সুযোগ থাকে না। কেননা, দেশের কোথায় কে নির্বাচনী প্রচারে বাধা পাচ্ছে তা দেখা ইসির পক্ষে সম্ভব নয়। তবে যদি অভিযোগ আসে তাহলে ইসি সেটা আমলে নিয়ে দেখতে পারে বা প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিতে পারে। তাই, যদি সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে না ওঠে তা হলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো।

ভো. কা : সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় কী কী রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : সুষ্ঠু নির্বাচনের সব চেয়ে বড় অন্তরায় দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অভাব। তারা ভাবে না ভোটে হারজিত হবেই- কেউ জিতবেন, কেউ হারবেন। তবে এখানে দেখা যায়, দল যদি নির্বাচনে হেরে যায় বা হারার সম্ভাবনা রয়েছে দেখে তখনই গণ্ডগোল পাকাতে চায়, জোর করে বুথ দখল, জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করে, কোনো কোনো নির্বাচনে তো ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়েছে, বাক্স ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এগুলো প্রায়ই দেখা যায়। তাই সবার আগে দরকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো। দলগুলোর নিয়মিত কাউন্সিল করা, দলে গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়ানো, দলের কেন্দ্রীয়ভাবে স্থানীয় বা মাঠ পর্যায়ের কমিটিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো- এসব বিশেষ প্রয়োজন। তাছাড়া দলগুলোর নিজেদের মধ্যে সহমর্মিতা বা সম্মান প্রদর্শন, একে অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এগুলো থাকা দরকার। এর পরে দেখা যায় কোনো কোনো স্থানে প্রশাসনেরও দলীয়করণ হয়ে যায়।

তারা কোনো বিশেষ প্রার্থীর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে, কারো হয়ে কাজ করে বা নিশ্চুপ থাকে। সেই সুযোগে কোনো প্রার্থীর কর্মীরা ভোটে কারচুপি বা গণ্ডগোলের সুযোগ নেয়। তাই এসব ব্যাপারে ইসির কড়া নির্দেশনা থাকা বিশেষ প্রয়োজন। এছাড়া নির্বাচনী মামলাগুলো দ্রæত নিষ্পত্তি করা হলে দোষীরা দ্রæত শাস্তি পায়, তাহলে কিছুটা হলেও নির্বাচনী সহিংসতা বা গণ্ডগোল কমতে বাধ্য। তাই বলা চলে ইসির একার পক্ষে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব হবে না যদি দলগুলো তাকে সহযোগিতা না করে। এখানে দল, প্রার্থী, ভোটার, প্রশাসন, কর্মকর্তা সবার ভ‚মিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

ভো. কা : নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চেয়েছে বিএনপিসহ অনেকগুলো দল। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : নির্বাচনে দলগুলো সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়টি তো ইসির দায়িত্বে। তারা যদি মনে করে পরিস্থিতির প্রয়োজনে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন প্রয়োজন তাহলে ইসি তো নিজেই সে পন্থা নেবে। তাই দলগুলো দাবি করুক বা না করুক ইসির প্রয়োজনে তারা তা করবে। কেননা, কমিশন তো চাইবে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিক। তাই নির্বাচনের আগে-পরে পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে সেনা মোতায়েন করার দায়িত্ব ইসির। তবে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা ইসি দিতে পারে না। তাদের সঙ্গে ম্যাজিট্রেট থাকতে পারেন। সেনাবাহিনী বিষয়ে সিআরপিসিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ রয়েছে।

ভো. কা : সংলাপে বিএনপিসহ অনেক দল সাংবিধানিক কিছু পরিবর্তনের দাবি বা প্রস্তাবনা জানিয়েছে। এ বিষয়ে ইসির কতটা করার রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : হ্যাঁ, আমি সংলাপে যা দেখলাম, অধিকাংশ দল ইসির সংলাপে সাংবিধানিক প্রস্তাবনা করেছে। যেমন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, নারী আসন বাড়ানো ইত্যাদি। এসব বিষয়ে ইসির তো করণীয় নেই। তারা সংবিধানের আলোকে নির্বাচন পরিচালনা করবে। তারা তো সংসদ ভাঙবে কি ভাঙবে না, কোন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে তা দেখতে যাবে না। যে কোনো ফরমেটে বা সেটে তারা নির্বাচন পরিচালনা করবে। ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী সংলাপ হলেও দেখা গেছে, সংলাপে দলগুলো প্রস্তাবিত বিষয়ে আলোচনা না করে ইসির কাছে বেশি বেশি সাংবিধানিক প্রস্তাবনা দিয়েছে। এ বিষয়ে ইসির সরাসরি কিছু করার নেই। তবে কমিশন সরকারের কাছে দলগুলোর প্রস্তাব পেশ করতে পারে। প্রয়োজনে আলোচনাও করতে পারে। তবে তারা এসব বাস্তবায়নের দায়িত্বে নেই।

ভো. কা. : সংলাপে আসা প্রস্তাবনা ইসি কীভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে?
ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : সংলাপ থেকে যেসব প্রস্তাব এসেছে সেগুলো কনসাইজড করে ইসি এটি লিখিত আকারে সবার কাছে দেবে। সরকারের সঙ্গে নিশ্চয় কিছু বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করবে। জনগণ জানতে পারবে সংলাপের সারাংশ। এটাতে বেশ কিছু কাজ হবে। দলগুলোর মনোভাব সবাই জানতে পারবে, তারা কী ধরনের নির্বাচন চায় সেগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে ইসির কথাবার্তা হবে, সরকারও নির্বাচনে ইসিকে সহায়তা দেবে। তবে কমিশন সংলাপের বিষয়গুলো কীভাবে র‌্যাশনালাইজড করে সেটাই দেখার। এছাড়া সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সুষ্ঠু নির্বাচন করার প্রতিবন্ধকতা দূর করাও ইসির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে আমি বলব, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) ২২টি ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজন। ইসিকে তার নিজস্ব জনবল বাড়িয়ে তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া দরকার। তাদের আরো কঠোরভাবে মাঠ সামলাতে হবে। এছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ইসির ভ‚মিকা আরো কার্যকরী করা, কাজের মাধ্যমে সব দলের আস্থা অর্জন করতে হবে।

ভো. কা. : সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের বিষয়ে আপনার মতামত কী?
ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : সীমানা পরিবর্তন সাধারণত আদমশুমারি অনুযায়ী হয়। ২০০৮ সালে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তার পরে সেটির ওপরেই নির্বাচন হচ্ছে। তবে দেশের অনেকগুলো নির্বাচনী আসনের সীমানা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেক উপজেলা বা ওয়ার্ড ভাগ হয়েছে, যা ডিলিমিটেশন আইনের পরিপন্থী। এগুলো ঠিক করা প্রয়োজন। নিয়ম-নীতি মেনেই সীমানা পরিবর্তনে হাত দেয়া প্রয়োজন। তবে সময় কম, এ সময়ের মধ্যে সীমানা নির্ধারণের মতো বিষয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। কেননা, এটি করতে সময়ের প্রয়োজন। তা ছাড়া এটি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা হয়। তাই অল্প সময়ে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা রিস্ক হয়ে যেতে পারে ইসির পক্ষে।

ভো. কা. : সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : কে এম নুরুল হুদার অধীনে বর্তমান কমিশন নির্বাচনী রোডম্যাপ করেছে, সংলাপ করল। তারা এ কাজগুলো ভালো করেছে। কিন্তু এর সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার কোনো সম্পর্ক নেই। এতে তাদের সক্ষমতার কোনো প্রকাশ হয়নি। তবে এর আগে ৬টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করতে হবে। দেখি সেখানে তারা কতটা সুষ্ঠুভাবে এগুলো সম্পন্ন করতে পারে। এটি হবে তাদের অগ্নিপরীক্ষা। দেখি যদি এসব নির্বাচন ভালো হয়েছে, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন, তাহলে বোঝা যাবে তারা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারবে। দল ও জনগণ সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে। তারা যদি চেষ্টা করে, দলগুলো এবং সরকার যদি তাদের কাজে সহায়তা করে তাহলে কেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তবে ইসি একা কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারে না। যদি দল, সরকার, প্রার্থী ভোটার সবাই মিলে নির্বাচনে সহায়তা না করে তা হলে ইসির একার পক্ষে নির্বাচন সুষ্ঠু করা অসম্ভব।

ভো. কা. : বর্তমান ইসির প্রতি আপনার কোনো পরামর্শ :
ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন : সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা অনেক, তাদের তা প্রয়োগ করতে হবে। এটা প্ল্যান করে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। সে জন্য স্টেকহোল্ডার-রাজনৈতিক দল, ভোটার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কর্মীবাহিনী সবাইকে আওতায় রাখতে হবে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কর্মীরা যদি ঠিকমতো কাজ না করে তা হলে ইসির কিছু করার থাকে না। কেননা, কমিশন তো স্পটে থাকে না। মাঠ শান্ত রাখার দায়িত্ব তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তাই তাদের কঠিন হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সেই সঙ্গে কোনো কর্মী বা ডিসি, এডিসি, এসপি, টিএনও বা অন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যাতে কোনো দলের হয়ে কাজ না করেন সেদিকে মনিটরিং করা প্রয়োজন।

মোট কথা সবাইকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজটি ইসির। সেই সঙ্গে যদি কোনো আইনের সংস্কার করতে হয়, বিশেষ করে আমি আরপিওর ২২টি ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছি, এগুলোও সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করি।
তবে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা সংলাপে বড্ড বেশি কথা বলে সমালোচনার খোরাক হয়ে পড়েছেন। তার এটা বর্জনের দরকার ছিল। যদি কোনো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তাকে কোনো কথার জন্য দলগুলোর কাছে কৈফিয়ত দিতে হয়, সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এটা তার গ্রহণযোগ্যতাকে ছোট করবে। তাই কম কথা বলা ভালো। অপ্রয়োজনীয় কথা বর্জন করা দরকার।