বাজাই আমার ভাঙা রেকর্ড

আগের সংবাদ

আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাই রিমান্ডে

পরের সংবাদ

পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিতেই জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২, ২০১৭ , ৯:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ২, ২০১৭, ৯:১৬ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ নাসিম

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলার ইতিহাসে ঘটে আরেকটি নির্মম ঘটনা। ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালনকারী বঙ্গবন্ধুর চার সহকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামরুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুরতম হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়েছিল গোটা বিশ্ব। সেই ভয়াল সময়, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও শহীদ পিতা এম মনসুর আলীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তার ছেলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভোরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার ঝর্ণা মনি ও স্টাফ রিপোর্টার মুহাম্মদ রুহুল আমিন

ভোরের কাগজ : কলঙ্কিত জেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দুঃসংবাদ আপনারা কখন, কীভাবে পেলেন?
মোহাম্মদ নাসিম : জাতির জন্য জেলহত্যা দিবস আর আমাদের পরিবারের জন্য শোকের মাস। অবশ্য এর আগে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট আমরা স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে হারাই। শুধু বিদেশ থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। স্বাধীনতাযুদ্ধে সফল নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর আজীবন সহচর বাবা মৃত্যুতেও সহচর হলেন, সঙ্গে জাতীয় তিন নেতাও। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি মোশতাক নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে আমার বাবাকে পাশে পেতে চেষ্টা করে; কিন্তু পাশে পায়নি। পরে নানারকম হুমকি দেখানো হয়।

সেই হুমকিতেও আমার বাবা মাথা নত করেননি। বেঈমান মোশতাক জানতো আসামির কাঠগড়ায় তাকে দাঁড়াতেই হবে। কারণ খুনি মোশতাক ও জিয়া ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। যে কারণে বন্দি অবস্থায় স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বন্দি অবস্থায় হত্যা ও শারীরিক নির্যাতন ইতিহাসে বিরল। বাবার মৃত্যুর সময় আমি আত্মগোপনে ছিলাম। কারণ আমার নামে হুলিয়া জারি করা হয়েছিল। বারবার আমাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। আত্মগোপনে থেকেই আমি বাবাসহ জাতীয় চার নেতা হত্যার খবরাখবর পেয়েছি। এটা কতটা কষ্টের, কতটা নির্মম, কতটা নিষ্ঠুর- এটা কখনো কাউকে বুঝাতে পারব না।

একদিকে আমি আত্মগোপনে, অন্যদিকে সব মিলিয়ে থমথমে পরিস্থিতি- কারো সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছিলাম না। জেল কর্তৃপক্ষ কবে, কখন, কার কাছে লাশ হস্তান্তর করবে- কিছুই জানতে পারছিলাম না। পরে জানতে পারলাম, চার নেতাকে হত্যার পর যেহেতু তাদের লাশ পরিবারকে দেয়া হয়নি, সেহেতু কারাগারেই একদিন ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে সেনা প্রহরায় লাশ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাবা মারা যাওয়ার সময় তার মুখখানি শেষ বারের মতো দেখতে পারিনি আমি। মোশতাক-জিয়ার ভয়ে দেশের বাইরে পলাতক ছিলাম। তবুও মৃত্যুর হুলিয়া মাথায় নিয়ে দেশে ফিরতে চেয়েছি কিন্তু আমার মা, ভাইয়েরা ফিরতে দেননি। তারা চাননি, বাবার মতো আমারও নির্মম মৃত্যু হোক।

ভোরের কাগজ : কবে এবং কীভাবে আপনার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়?
মোহাম্মদ নাসিম : পবিত্র শবেবরাতের রাতে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে তাকে প্রথমে রমনা পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং পরে সেন্ট্রাল জেলে নেয়া হয়। এ সময় জাতীয় নেতা হিসেবে তার প্রতি সামান্য সৌজন্যবোধও দেখায়নি। সাধারণ বন্দিদের মতোই আচরণ করা হয়েছিল। বন্দি অবস্থায় কেন্দ্রীয় কারাগারে তার সঙ্গে আমার মা একবার কি দুইবার দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

ভোরের কাগজ : জেল হত্যাকাণ্ডের পর আপনাদের পরিবারের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
মোহাম্মদ নাসিম : রাজনৈতিক জীবনে আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর মতোই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। সারা জীবন দেশের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তাই তার মৃত্যুর পর আমরা অস্বাভাবিক রকমের অভাব-অনটনে পড়ে যাই। আমাদের ঢাকায় থাকার কোনো জায়গা ছিল না। সরকারি বাসভবন ছাড়ার পর ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় থাকতাম। পরে কাঁঠালবাগানের সেন্ট্রাল রোডে এক ভাড়া বাড়িতে উঠি। বড় ভাই লন্ডন থেকে কিছু টাকা পাঠাতেন, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলত।

ভোরের কাগজ : ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের সময় আপনার বাবা দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ওই রাতে আপনি তার পাশে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অধীনস্থদের ওপর আপনার বাবার কী নির্দেশ ছিল তখন?
মোহাম্মদ নাসিম : ১৫ আগস্টের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি বাবার সঙ্গেই ছিলাম। রাতে শুধু একটু সময়ের জন্য মণি (শেখ ফজলুল হক মণি) ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাই। ভোর রাতে যখন খবর পেলাম তখন দেখেছি কী উদ্বেগ ও প্রচণ্ড বেদনা নিয়ে একদিকে বঙ্গবন্ধুকে হারানোর কথা মনে করছেন, অন্যদিকে প্রতিশোধ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার অদ্যম ইচ্ছে নিয়ে দলীয় সহকর্মী এবং তদানীন্তন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।

শুধু তাই নয়, পরবর্তী সময়ে আত্মগোপন অবস্থায়ও চেষ্টা করেছেন নানাভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য। কিন্তু কিছু সহকর্মীর ভীরুতা, আপসহীনতা এবং জীবন রক্ষার প্রাণান্ত চেষ্টা, অন্যদিকে তখনকার সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা, চরম কাপুরুষতায় জাতীয় চার নেতা ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং হতাশ হয়েছিলেন। কিছু করতে না পারার বেদনা এবং অশ্রুসিক্ত চেহারা আমি দেখেছিলাম। কিন্তু একটা জিনিস ধ্রুবতারার মতো ছিল সত্য, তারা জীবন দেবেন, কিন্তু মোশতাকের সঙ্গে হাত মেলাবেন না। তারা তাদের কথা রেখেছেন। জাতীয় চার নেতা আপস করেননি, আত্মসমর্পণ করেননি, জীবনের ভয়ে মাথানত করেননি, ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে বন্দি অবস্থায় ঘাতকের হাতে জীবন দিয়েছেন।

জাতীয় চার নেতা জীবনেও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন, মরণেও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। আমার বাবা তার পরিবারের বাইরে প্রতিটি মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুর কথা ভাবতেন, বঙ্গবন্ধুর কথা বলতেন। বঙ্গবন্ধু ছাড়া যেন তার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। মাঝে মাঝে আমার মনে হতো তিনি যেন আমাদের চাইতে বঙ্গবন্ধুকে বেশি ভালোবাসতেন। তিনি যখন রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছেন সেই মুহূর্ত থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ছাড়া তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো কিছু করারই চিন্তা করতেন না।

ভোরের কাগজ : ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক গুণ কী ছিল বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ নাসিম : তার সবচেয়ে বড় গুণ একনিষ্ঠতা। আমি তার সন্তান হিসেবে দেখেছি ৬ দফা আন্দোলনে যখন বঙ্গবন্ধুর অনেক সহকর্মী তাকে ত্যাগ করে চলে গেছেন, কারাবন্দি অবস্থা থেকেও আমার পিতা এম মনসুর আলী শত প্রলোভন ও চাপের মুখেও তখনকার পিডিএমপন্থী আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান, সালাম খানদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অথচ দীর্ঘ কারাজীবন ভোগ করেছেন। কিন্তু নেতা শেখ মুজিবের সঙ্গে বেইমানি করেননি। আমার পিতার দৃঢ় অভিব্যক্তি মনোভাবকে দেখেছি তখন আমি। ১৯৬৬-৬৭ সালে যখন বাবা পাবনা কারাগারে বন্দি ছিলেন, আমিও ছাত্রাবস্থায় পিতার সঙ্গে সে মুহূর্তে একই কারাগারে আটক ছিলাম।

দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, সংগ্রাম শেষে যখন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি তখন আমার বাবাসহ জাতীয় চার নেতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে মুজিবনগর সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব দেন। সেই বিরল মুহূর্তগুলো দেখার বা জানার আমার সুযোগ হয়েছে। আমি দেখেছি সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে বাবা কী দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ মনোভাব নিয়ে স্বাধীনতার বিজয় এবং জীবিত বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করার জন্য অন্য তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কাজ করে গেছেন। খন্দকার মোশতাকের মতো একজন সুযোগ সন্ধানী বিশ্বাসঘাতক ওই প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের মুহূর্তেও চেষ্টা করেছে এই চারজনের মধ্যে ফাটল ধরাবার জন্য এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করার নানা প্রলোভনের জাল বিস্তার করে মুজিবনগর নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করার। কিন্তু একটি বিপজ্জনক এবং জাতির যুগসন্ধিক্ষণে এম মনসুর আলী অন্য তিন নেতার সঙ্গে থেকে সব ভয়-ভীতি, অনিশ্চয়তা ও প্রলোভন উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধকে সফল করেছেন।

সফেদ-সাদা-পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে আমার অত্যন্ত সাধারণ জীবন-যাপনের মধ্য দিয়ে মুজিবনগরের রণাঙ্গনে ছুটে বেড়িয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন। প্রবাসী সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে শত শত তার দলীয় সহকর্মী, দেশ থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার কর্মীকে আর্থিক সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। আমি দেখেছি হাজারো অনিশ্চয়তা ও অমানিশা অন্ধকারের মধ্যেও সাধারণ বাঙালির চেয়ে দীর্ঘদেহী আমার পিতার উজ্জ্বল প্রত্যয়ী মুখচ্ছবি। তিনি সর্বদা বলতেন, ‘জীবিত বঙ্গবন্ধুকে আমরা ইনশাল্লাহ মুক্ত করব।’ আসলে জাতীয় চার নেতার নেতৃত্বে মুজিবনগরে যে মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব সংগঠিত হয়েছিল তা নিয়ে একটি মহাকাব্য রচনা করা যেতে পারে।

একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম ও খুলনা পোর্ট পুনরায় চালু করে কার্যকর বন্দরে পরিণত করা, সর্বোপরি এক নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্বাধীনতাবিরোধী এবং তথাকথিত হটকারী বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী নামধারীদের অপতৎপরতা রোধ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবু তিনি সেসবের মোকাবেলা করেছেন।

ভোরের কাগজ : জেলহত্যার বিচারের রায় কার্যকরে আপনি ও আপনার পরিবার সন্তুষ্ট?
মোহাম্মদ নাসিম : কতটা ভয়ঙ্কর ছিল সেই বেইমানরা। কারাগারের মধ্যেও মানুষকে হত্যা করেছে। আজকের প্রজন্ম এ কথা জানলে বিশ্বাসই করতে চাইবে না। আজকাল অনেকের মুখেই শুনি আইনের শাসনের কথা। ছোট কোনো ঘটনাতেও হুমড়ি খেয়ে পড়ে আইন ব্যবস্থার সমালোচনা করতে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, কোথায় ছিল সেই আইন, কোথায় ছিল মানবতা যেদিন এতটা নির্মমভাবে রাতের অন্ধকারে বাবাসহ চার নেতাকে খুন করা হয়েছিল।

যেদিন বঙ্গবন্ধুসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না এলে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডর বিচার হতো না। পাহাড়সম বাধা দূর করে এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর নানা অজুহাতে জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলা ঝুলিয়ে রেখে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আপিলের মাধ্যমে আমরা এ মামলার বিচারের রায় পেয়েছি। এ জন্য বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

ভোরের কাগজ : আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় অহঙ্কার কী বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ নাসিম : ১৯৮০ সালে আমি কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলাম। যে কক্ষে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই কক্ষেই আমি বন্দি ছিলাম। চার নেতার রক্তের দাগ এখনো মুছেনি। আমার বাবার শেষ নিঃশ্বাসের উত্তাপ আমি এখনো পাই। বাবার মুখ শেষবারের মতো দেখতে পারিনি। বাবার মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ না পেলেও দুঃখ নেই। আমি তখন রাজনীতি করতাম। আমাকে পেলে তখন মেরে ফেলা হতো। কিন্তু আমি গর্ব ও অহঙ্কারের সঙ্গে বলতে পারি, আমি মোশতাকের মতো বেইমানের সন্তান নই। আমার পিতা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেননি। যখনই আমি কোনো কাজ করি, চিন্তা করি সে সময় আমার চিন্তা-চেতনায় সব সময় আমার বাবার স্পর্শ- আবেগ অনুভব করি।

যিনি আমার গর্বিত পিতা এবং সব সময় সব মুহূর্তে আদর্শিক নেতা। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ও আমার জীবনের বড় পরিচয় আমার বাবা শহীদ এম মনসুর আলী। এটিই আমার অহঙ্কার। আমার শহীদ পিতার এই আদর্শ ধরেই আমি কাজ করছি, কাজ করে যাব।

ভোরের কাগজ : জাতি আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে মহান স্বাধীনতার চার বীর সেনানীকে। ৩ নভেম্বরে নতুন প্রজন্মের প্রতি আপনার কী আহ্বান থাকবে?
মোহাম্মদ নাসিম : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের পরেই চার মৃত্যুঞ্জয়ী নেতার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে চিরদিন। যারা জীবন দিয়েছেন কিন্তু জাতির জনকের সঙ্গে বেইমানি করেননি। নেতা বা নেতার আদর্শের সঙ্গে বেইমানি নয়, বিশ্বাসঘাতকতা নয়, কোনো আপসকামিতা নয়। ৩ নভেম্বরে শহীদ জাতীয় চার নেতার প্রতি এটাই আমার প্রত্যয়দীপ্ত শ্রদ্ধা। আর তরুণ প্রজন্মকে বলব, তোমরা ইতিহাস পড়, ইতিহাস জান। দেশকে ভালোবাসো। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।