ঝিকরগাছা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

আগের সংবাদ

নবাবগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

পরের সংবাদ

হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হোক যৌক্তিক হারে

প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৪, ২০১৭ , ৭:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৭, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্যাক্স বাড়বে, এতে দ্বিমতের কিছু নেই। তবে সেটা অবশ্যই যৌক্তিক হারে হতে হবে। বহু বছর বাড়ানো হয়নি বিধায় একসঙ্গে বাড়িয়ে দিয়ে সমতা আনার চিন্তা অবাস্তব। আমরা আশা করব উল্লিখিত অভিযোগ-অসন্তোষগুলো গুরুত্বসহ বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষ হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর ব্যাপারে নীতি-সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রায় সব এলাকার বাড়িওয়ালারা এখন ভুগছেন হোল্ডিং ট্যাক্স আতঙ্কে। হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন করে বর্ধিত হার জানিয়ে বাড়ির মালিককে চিঠি দিচ্ছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। অভিযোগ-অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এই ট্যাক্স বাড়ানোর হার নিয়ে। বাড়িওয়ালাদের দাবি, মাত্রারিক্ত বাড়ানো হয়েছে ট্যাক্স- অনেক ক্ষেত্রে যা বর্তমানের চার-পাঁচগুণ পর্যন্ত। একধাপে এতটা উল্লম্ফন একটা বড় চাপ তো বটেই। আবার ট্যাক্স মূল্যায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও উঠছে। শুধু বাড়িওয়ালারা নয়, ভাড়াটিয়ারাও এখন আতঙ্কে, কারণ ট্যাক্স বাড়া মানে বাড়ি ভাড়া বেড়ে যাওয়া। একটা অস্থির অবস্থা তাই সব শ্রেণির নগরবাসীর মধ্যে।

গতকালের ভোরের কাগজের এ সংক্রান্ত রিপোর্টে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি নিয়ে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকার লোকজনের অভিযোগ-প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর খিলগাঁও তারাবাগ এলাকার একজন বাড়ির মালিক হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়ে আসছিলেন ১২ হাজার টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) চলতি বছর পুনর্মূল্যায়নের পর তা নির্ধারণ করেছে প্রায় ৬৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রায় পাঁচগুণেরও বেশি। হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনগুলোর বক্তব্য হলো, প্রায় ২৭ বছর ধরে ট্যাক্স বাড়ানো হচ্ছে না। সমতা আনার জন্য তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি, এর জন্য ২৭ বছরের সম্ভাব্য বৃদ্ধি এক ধাপে বাড়িয়ে দেয়া কি কোনোভাবে যৌক্তিক হতে পারে? অন্যদিকে কথিত সমতার নীতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিজাত গুলশান, ধানমন্ডির সঙ্গে মিল রেখে একই হারে বেশিরভাগ স্বল্প আয়ের মানুষের আবাস ওয়ারী, খিলগাঁও, মুগদা ইত্যাদি এলাকায় ট্যাক্স নির্ধারণকে যৌক্তিক মনে করছেন না নগরবাসী। অন্যদিকে যে বাড়ির মালিক ১০ হাজার টাকা বাড়িভাড়া আদায় করেন তার ক্ষেত্রে যে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে, যিনি ২৫ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করেন তার ক্ষেত্রেও একই মূল্য ধরা হয়েছে- এতেও ন্যায্যতা থাকেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি চলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বাড়িওয়ালা ট্যাক্স কমানোর জন্য সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে ছুটছেন। এই সুযোগে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সুবিধা নিয়ে হোল্ডিং ট্যাক্স কমিয়ে দিচ্ছেন। যারা ট্যাক্স আদায় ও মূল্যায়নের বিষয়ে কাজ করেন, তারা টাকা নিয়ে কিছু কিছু বাড়িতে ট্যাক্স কম ধরেছেন, আর যারা তাদের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হননি, তাদের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে। নগরীর বাসিন্দাদের বড় অংশই ভাড়া বাসায় থাকেন, যাদের আয়ের সিংহভাগ ব্যয় হয় বাড়ি ভাড়া খাতে। হোল্ডিং ট্যাক্সের বড় উল্লম্ফনে বাড়ি ভাড়াতেও যে বড় উল্লম্ফন ঘটবে তা বলাই বাহুল্য। গোটা নগরবাসীর জীবনযাত্রায়ই এর বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে। বাসাভাড়া মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেলে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ পড়বে মহাবিড়ম্বনায়। কিছুদিন আগে পর্যায়ক্রমে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন আবার উচ্চ হারে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির খড়গ। এটা নগরবাসীর ওপর এক বিরাট চাপ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্যাক্স বাড়বে, এতে দ্বিমতের কিছু নেই। তবে সেটা অবশ্যই যৌক্তিক হারে হতে হবে। বহু বছর বাড়ানো হয়নি বিধায় একসঙ্গে বাড়িয়ে দিয়ে সমতা আনার চিন্তা অবাস্তব। আমরা আশা করব উল্লিখিত অভিযোগ-অসন্তোষগুলো গুরুত্বসহ বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষ হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর ব্যাপারে নীতি-সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।