ঢাকা উত্তরে এবারও চমক দিতে চায় আ.লীগ

আগের সংবাদ

নওগাঁয় দুই হাজার ইয়াবাসহ বিক্রেতা আটক

পরের সংবাদ

আনিসুল হক

এক অনন্ত নক্ষত্রের বিদায়

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ , ৮:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০১৭, ৮:০৯ অপরাহ্ণ

আহমেদ আমিনুল ইসলাম

অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

চৌকস ব্যক্তিত্বের অধিকারী, তরুণ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস আনিসুল হকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার স্বপ্ন যেন শেষ না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে তারই প্রিয় ঢাকাবাসীকেই। তাহলেই আনিসুল হক বেঁচে থাকবেন। আনিসুল হকের জন্য শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমাদের প্রতি তার ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে পারি নিশ্চয়ই।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘মরণ রে, তুঁ হুঁ মম শ্যামসমান’। কোনো কোনো মৃত্যু প্রকৃতই তাই- এই মৃত্যু মৃত্যু নয়। বরং জীবনকে করে তোলে মহীয়ান। কোনো কোনো মৃত্যুর মধ্য দিয়েই জীবনের সব শেষ হয়ে যায় না। কোনো কোনো মৃত্যু জীবনকে, একদা জীবনের অধিকারী মানুষকে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করে তোলে। নশ্বর দেহের মরণ ঘটলেও কর্মী মানুষটির মৃত্যু হয় না। মৃত্যু হয় না সে সব মানুষের যারা পৃথিবীকে, দেশকে, দেশের মানুষকে সত্যিই কিছু দিতে এসেছিলেন। দিতে এসেছিলেন তাদের কর্মের মধ্য দিয়ে। সাধারণ মানুষের নিরন্তর ভালোবাসার মধ্যে তারা বেঁচে থাকেন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কর্ম ও পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনো যে সব তথ্য পাচ্ছি তাতে করে বুঝতে অসুবিধা হয় না তিনি মানুষের ভালোবাসার মধ্যে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। তার প্রতি সাধারণের প্রাণের আকুতি দেখে আমাদের এমনটিই মনে হয়েছে। আর নিখিল চরাচরের কোথাও না কোথাও থেকে আনিসুল হক নিশ্চয়ই এসব প্রত্যক্ষ করেছেন। আর মনে মনে রবীন্দ্রবাণীর মৌন উচ্চারণে বিভোর হতে ‘মরণ রে, তুঁ হুঁ মম শ্যামসমান’।

মৃত্যু অনিবার্য। তবু মৃত্যু নিয়ে আমাদের কত বিচিত্র রকমের ভাবনা, কত বিচিত্র রকমের অনুভব-অনুভ‚তি! মৃত্যু নিয়ে আমাদের কল্পনারও কোনো শেষ নেই। সব ভাবনা-চিন্তা-কল্পনা ছাপিয়ে মৃত্যু নিয়ে এটিই বোধ হয় জীবিত মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় ভাষণ : ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই’। মরণশীল মানবের এই আকুতি কোনোভাবেই চিরন্তন সেই অমোঘ ও অনিবার্যতাকে স্পর্শ করতে পারে না। অন্তত শারীরিকভাবে তো কোনোক্রমেই নয়। তবে, শারীরিক মৃত্যুর পরেও অনন্তকাল মানুষ ভবিষ্যৎ মানবের মাঝে বেঁচে থাকতে পারেন- কেউ কেউ বেঁচে থাকেন। বেঁচে থাকেন তার কর্মে, বেঁচে থাকেন তার সৃজনশীলতার নানা বর্ণ-গন্ধ-গানে। বেঁচে থাকেন তার চিন্তা ও দর্শনের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাহিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ এমনি করেই মানবের মাঝে বেঁচে থাকেন। এখনো অনেকেই আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন, শারীরিকভাবে মরণের পরেও তারা অমরত্ব লাভ করে আছেন। তারা বেঁচে আছেন তাদের কর্ম, দর্শন ও সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে। আমাদের মাঝে আলো ছড়িয়ে, আমাদের আলোকিত করে। আমরা জীবিতরা তাদের ভুলতে পারিনি। জীবনযাপনের নানা অনুষঙ্গে আমরা তাদের স্মরণ করি। তারা মৃত্যুঞ্জয়ী।

কোনো কোনো মৃত্যু ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’ হলেও তা আমাদের স্বাভাবিক চলার গতিকে ক্ষণিকের জন্য হলেও স্তব্ধ করে দেয়। কোনো কোনো মৃত্যু আমাদের থমকে দেয়, আমাদের ভাবিয়ে তোলে। কোনো কোনো মৃত্যু আমাদের ভাবনার অথৈ পাথারে ভাসিয়ে দেয়। কোনো কোনো মৃত্যু আমাদের সম্মুখের সহস্র দৃশ্যমানতাকে কেমন যেন শূন্যও করে তোলে। কোনো কোনো মৃত্যু এক অনির্বচনীয় বেদনায় আপ্লুত ও আচ্ছন্ন করে রাখে দীর্ঘ সময় ধরে। মৃত্যুর এই বেদনা অনিঃশেষ। মৃত্যুর এই অনিঃশেষ বেদনা তখনই হৃদয়কে আরো বেশি আচ্ছন্ন করে যখন সেই মৃত্যু হয় কোনো কর্মঠ, স্বপ্নবাজ এবং মানবকল্যাণে নিবেদিত দূরদর্শী চিন্তকের। শুধু চিন্তাই নয়, কর্মের মাধ্যমে যিনি তার চিন্তাকে মানবকল্যাণের নিমিত্তে প্রয়োগের জন্য সর্বদা সচেষ্ট। যে কোনো পরিকল্পনা ব্যক্তিত্বের দাপুটে কারিশমায় কার্যকর করতে সক্ষম- এমন মানুষের সহসা অনুপস্থিতিই যেখানে আমাদের ব্যথিত করে- মৃত্যু সেখানে আমাদের শোকে মুহ্যমান করবে এটাই স্বাভাবিক। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (উত্তর) মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যু উপরে ব্যক্ত সবগুলো বাক্যের সত্যতা নিয়ে আমাদের সম্মুখে কী রূঢ়ভাবে দণ্ডায়মান তা গত কয় দিনে আমরা সবাই কম-বেশি উপলব্ধি করেছি। আনিসুল হক তার পরিকল্পনা মতো নাগরিকের সব সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেননি এ কথা সত্য। কিন্তু সবচেয়ে বড় সত্য হলো সাধারণ নাগরিকের সহজাত সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি অসাধারণ নাগরিকদের প্রচণ্ড শক্তির বিরুদ্ধে প্রবল সংগ্রামটি করেছেন- অনেকটা একাই এই সংগ্রাম করেছেন। এ সংগ্রামে তিনি পরাজিত হননি। অনেকের মধ্যেই তার মতো সাহসের খুবই অভাব আছে। কিন্তু আনিসুল হকের সে সংগ্রামের সবটাই জনসমক্ষে আসেনি- ‘মিডিয়া কভারেজ’ পায়নি।

আনিসুল হক একজন আধুনিক মানুষ ছিলেন, আধুনিক নাগরিকও ছিলেন। ঢাকার মানুষের জন্য একটি আধুনিক ‘সিটি’ কল্পনা করতেন তিনি। তার মৃত্যুর পর নানাভাবে আনিসুল হকের স্বপ্নের কথা আমরা একের পর এক জানতে পারছি আর জানতে পারছি ঢাকাকে নিয়ে তার স্বপ্নমাখা বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও। আমরা নগরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে নগর পরিকল্পনাবিদ পর্যন্ত সবার মুখে আজ এ কথা শুনছি। মেয়র হয়েও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে বসে চা-খাওয়া তথা সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার অসাধারণ সম্পর্কের কথা শুনে আজ আমাদের মন%E