জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের একতরফা স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য নয়: হাসিনা

আগের সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ায় সমকামী বিয়ে বৈধতা পাচ্ছে

পরের সংবাদ

বিশ্বঐতিহ্যে শীতল পাটি

আমাদের গৌরব

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ , ৬:৪৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৭, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

এখন ইউনেস্কোর স্বীকৃতি স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে প্রত্যাশার জন্ম দিচ্ছে এ শিল্পটি ঘিরে। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও নতুন উদ্যম তৈরি হওয়ার কথা। এ শিল্পের প্রসারের পথে সংকটগুলোর উত্তরণ ঘটিয়ে সম্ভাবনার বাস্তবায়ন ঘটাতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হওয়া জরুরি।

ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটির বয়নশিল্প। ইউনেস্কোর আন্তঃরাষ্ট্রীয় কমিটি গত বুধবার শীতল পাটির বয়নপদ্ধতির স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছে। এটি আমাদের জন্য সুসংবাদ। এতে করে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলো সংরক্ষণে গুরুত্ব বাড়বে। এর আগে বাংলাদেশের বাউল সঙ্গীত, জামদানি আর মঙ্গল শোভাযাত্রা এই স্বীকৃতি লাভ করেছে। শীতল পাটি আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ওতপ্রোত অংশ। গর্ব করার মতো এমন আরো অনেক কিছুই আছে আমাদের। সেগুলো বিশ্বদরবারে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরার উদ্যোগ নিতে হবে।

জানা যায়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ২০১৬ সালে শীতল পাটিকে ইউনেস্কোর ‘ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিটি ফর দ্য সেফগার্ডিং অব দি ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর ১২তম অধিবেশনে বিশ্বের নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য প্রস্তাবনা উত্থাপন করে। জাতীয় জাদুঘরের প্রচেষ্টায় এই অর্জন। শীতল পাটির জন্ম মূলত সিলেট অঞ্চলে হলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় তা তৈরি হয়। এ পাটি তৈরির মূল উপাদান মুর্তা গাছ। প্রযুক্তি বিকাশের আগে গরমের দিনে মানুষকে অনাবিল প্রশান্তি এনে দেয়া শীতল পাটির কোনো জুড়ি ছিল না। হস্তশিল্প হিসেবেও এ পাটির যথেষ্ট কদর রয়েছে। গ্রামের মানুষ শীতল পাটিকে মাদুর বা চাদরের পরিবর্তে ব্যবহার করলেও শহরের মানুষ এই পাটিকে গৃহসজ্জার কাজে ব্যবহার করতে দেখা যায়। এই পাটি তৈরির কৌশলই এমন যে, গরমের মধ্যেও এ পাটিতে শীতল পরশ পাওয়া যায়। শীতলতার পাশাপাশি এ পাটির নকশা, রং ও বুনন কৌশল মুগ্ধ করে। এটি একান্তভাবেই আমাদের নিজস্ব কাঁচামালে তৈরি এবং স্থানীয় শিল্পীদের মৌলিক শিল্পবোধ এবং ধ্যান-ধারণার সৃষ্টি। এক একটি শীতল পাটি বুননে কখনো ৪ থেকে ৬ মাস সময় লেগে যায়। যত নানন্দিক নকশা, বুননে তত বেশি সময়। শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় পাটিতে ফুটে উঠে ফুল-ফল, প্রকৃতি, পশুপাখি ও প্রিয়জনের অবয়ব। কখনো কোনো ঐতিহাসিক বা প্রাকৃতিক দৃশ্যও ফুটিয়ে তোলেন শিল্পী। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক সময় শীতল পাটির কদর বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে নানা কারণে এক পর্যায়ে মুখ থুবড়ে পড়ে ঐতিহ্যবাহী এ কারুশিল্প।

এখন ইউনেস্কোর স্বীকৃতি স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে প্রত্যাশার জন্ম দিচ্ছে এ শিল্পটি ঘিরে। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও নতুন উদ্যম তৈরি হওয়ার কথা। এ শিল্পের প্রসারের পথে সংকটগুলোর উত্তরণ ঘটিয়ে সম্ভাবনার বাস্তবায়ন ঘটাতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হওয়া জরুরি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বিলুপ্তির দিকে ধাবমান রুপালি রংয়ের এই শীতল পাটি হতে পারে দেশের রুপালি শিল্প। আমরা মনে করি, বিশ্বস্বীকৃতির মধ্য দিয়ে এই শিল্প নতুন করে জেগে উঠবে। সরকার শীতল পাটির সুদিন ফেরানোর জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ নেবে।