মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগের ২ কর্মী নিহত

আগের সংবাদ

আইফোনের চেয়েও দামী এলজি স্মার্টফোন

পরের সংবাদ

নারাজির আবেদন নামঞ্জুর

ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন মঞ্জুর

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ , ১০:০২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ডিসেম্বর ৭, ২০১৭, ১০:০২ অপরাহ্ণ

মিথ্যা মামলার করে বিভ্রান্ত ও হয়রানির করার অভিযোগে কবি, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী মানবাধিকার কর্মী ফরিদা আখতারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন (মামলা) দাখিলের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলার বাদীর নারাজি দাখিলের আবেদন নামঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম এ আদেশ দিয়েছেন।

এদিকে এ মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মেজবাহ জানান, ‘বৃহস্পতিবার সকালে যখন নারাজী দাখিলের জন্য সময় চেয়ে শুনানি করি তখন বিচারক সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৯ জনুয়ারি নারাজী দাখিলের দিন ধার্য করেন। কিন্তু এরপর কিভাবে নারাজী দাখিলের আবেদন নামঞ্জুর হলো তা আমাদের জানা নেই।

গত ৩১ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম আদালতে কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়নি মর্মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

একই সঙ্গে মিথ্যা অপহরণের মামলা করে বিভ্রান্ত ও হয়রানির করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবী, তদন্তকালে বিভিন্ন জনের জবানবন্দিসহ অন্যান্য স্যাপ্রমাণ বলছে, ফরহাদ মজহার অপহৃত হননি। আর তার স্ত্রী ফরিদা আক্তার অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ করেন। ফরহাদ মজহারও তার জবানবন্দিতে অপহরণের কথা উল্লেখ করেন। স্ত্রী মিথ্যা অভিযোগ করলেও পরবর্তীকালে তা প্রত্যাহার করেনি। মিথ্যা মামলার করে বিভ্রান্ত ও হয়রানির করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় প্রসিকিউশ দাখিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার জন্য দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় ২ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় প্রকারের শাস্তির বিধান রয়েছে।

এদিকে আদালত প্রসিকিউশন দাখিল মঞ্জুর হওয়ার পর করণীয় সম্পর্কে আদালতে সংশ্লিষ্ট জিআরও শাখার এসআই নিজাম উদ্দিন জানান, এখন আমরা আদেশ সংশ্লিষ্ট আদাবর থানায় পাঠাব। সেখানে আদেশ যাওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রসিকিউশন দাখিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য, ফরহাদ মজহার গত ৩ জুলাই ভোরে রাজধানীর শ্যামলী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপহরণ হণ বলে আদাবর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন আলোচিত এই ব্যক্তির স্ত্রী মানবাধিকার কর্মী ফরিদা আখতার। পুলিশ প্রথমে ফরহাদ মজহারের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে খুলনায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে খুলনার পরিচিত একটি রেস্টুরেন্টে তিনি খাবার খেয়েছিলেন বলে প্রমাণ পায়। এরপর খুলনা থেকে ঢাকার পথে একটি বাসে মিস্টার গফুর নামে টিকিট কাটেন ফরহাদ মজহার। যশোরের অভয়নগর এলাকায় বাসে তল্লাশি চালিয়ে রাতেই তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে সকালে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় তাকে। পরে আদাবর থানা থেকে গত ৪ জুলাই দুপুরের দিকে মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় ফরহাদ মজহারকে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তিনি অপহত হয়েছিলেন মর্মে জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে নিজ জিম্মায় বাড়ি ফেরার অনুমতি দেন। এরপর মামলাটিতে গত ৬ জুলাই নাজমুস সাদাত সাদী হানিফ পরিবহণের এক কর্মচারী এবং গত ১০ জুলাই অর্চনা নামে এক নারী সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি প্রদান করেন।

ফরিদা আখতারের করা মামলায় বলা হয়, আমার স্বামী সাধারণত খুব ভোরে ঘুম থেকে জাগেন এবং পড়ালেখা করেন। সকাল ৫টার দিকে আমার ঘুম ভাঙার পর আমি ওনাকে লেখার টেবিলে না দেখতে পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি এবং সারা ঘরে খুঁজতে থাকি। ইতোমধ্যে সকাল ৫টা ২৯ মিনিটে আমার স্বামী তার ফোন থেকে আমাকে কল দেন। তিনি ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, মেরে ফেলবে।’ এর পর ফোনটি কেটে যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতেই সারা দিনে ফরহাদ মজহারের ফোন থেকে আরও চারবার কল পান ফরিদা। সেসব ফোনালাপে ফরহাদ মজহার জানান, অপহরণকারীরা ৩৫ লাখ টাকা চেয়েছে; ওই টাকা পেলে তারা তাকে ছেড়ে দেবে।