জনগণের আস্থায়শেখ হাসিনা আবারও বিজয়ী হবে

আগের সংবাদ

অনন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

পরের সংবাদ

বিশ্ব ইজতেমা

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১২, ২০১৮ , ৬:৩১ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০১৮, ৬:৩১ অপরাহ্ণ

বিশ্বব্যাপী যখন উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদ, জঙ্গিবাদ ও ধর্মীয় হানাহানি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তখন ইসলামের শান্তির বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার এই বৃহৎ সম্মিলনটি খুবই তাৎপর্যবহ। আমরা বিশ্ব ইজতেমার নির্বিঘ্ন ও সফল সমাপ্তি প্রত্যাশা করি।

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার বাদ ফজর থেকে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে তাবলীগ জামাত আয়োজিত এতদঞ্চলের সর্ববৃহৎ মুসলিম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়েছে। ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি সমবেত হয়েছেন রাজধানী ঢাকার অদূরে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে। এখানে বিশ্বের বড় বড় ইসলামি পন্ডিতরা- বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের মাঝে ধর্মীয় বয়ান করেন। বিশ্বমানবের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ গণজমায়েত।

তিরিশের দশকে লক্ষ্মৌর হজরত মওলানা ইলিয়াস (রহ.) যে তাবলিগ জামাতের সূচনা করেন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশেও এর বিস্তার ঘটে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ব ইজতেমার উদ্ভব হয়। বাংলাদেশে প্রথম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৬ সালে বর্তমান কাকরাইল মসজিদ-সংলগ্ন মাঠে। এরপর ১৯৪৮ সালে দ্বিতীয় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর হাজি ক্যাম্প-সংলগ্ন মাঠে। ১৯৫৮ সালে তৃতীয় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে। এরপর থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বর্তমান জায়গায়ই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারে হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার ৫৩তম সমাবেশ। এই মহতী সমাবেশ এখন মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য ভ‚মিকা পালন করছে। ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নেয়া একটি বিশেষ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বিগত সময়ে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা ও দেশের বিশিষ্টজনরা আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেছেন, এবারো নিশ্চয় তার ব্যতিক্রম হবে না।

আমরা দেখছি, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে এ সমাবেশটি প্রতি বছর সম্পন্ন হয়ে আসছে। লাখ লাখ মুসল্লির ইজতেমায় যাতায়াত নিয়ে কিছু ভোগান্তি থেকে যায়। কয়েক বছর ধরে সরকারের পক্ষ থেকে ইজতেমাস্থলে যাতায়াতে বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এবারো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের সুষ্ঠু যাতায়াতের জন্য বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। আমরা আশা করছি এতে যাতায়াত সহজ হবে। বিশ্ব ইজতেমায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের তরফে ইজতেমা উপলক্ষে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ময়দান ও আশপাশে পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যাতায়াত ও নিরাপত্তা ছাড়াও এই বিশাল জমায়েতে স্বাস্থ্যসেবা, পানি-বিদ্যুৎ-স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের পক্ষ থেকে উল্লিখিত সব রকম সেবা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এবারে শীতে বয়োবৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। তাদের সুস্থতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ভিন দেশ থেকে যেসব মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন তারা আমাদের অতিথি, তারা যেন কোনোরকম প্রতারণা বা বিড়ম্বনার শিকার না হন সেদিকেও সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এদিকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজনকে ঘিরে তাবলিগ জামাতের আমির মাওলানা সা’দ এর ইজতেমা ময়দানে উপস্থিতি নিয়ে যে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তার অবসান করেছেন মাওলানা সা’দ নিজেই। তিনি এবারের বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিচ্ছেন না। বিশ্বব্যাপী যখন উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদ, জঙ্গিবাদ ও ধর্মীয় হানাহানি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তখন ইসলামের শান্তির বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার এই বৃহৎ সম্মিলনটি খুবই তাৎপর্যবহ। আমরা বিশ্ব ইজতেমার নির্বিঘ্ন ও সফল সমাপ্তি প্রত্যাশা করি।