শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি আস্থা কেন?

আগের সংবাদ

বাঘের মুখ থেকে স্বামীকে বাঁচালেন স্ত্রী

পরের সংবাদ

২০১৮ সাল : নির্বাচনী বছর

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ , ৭:০৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৮, ৭:০৯ অপরাহ্ণ

রণেশ মৈত্র

রাজনীতিক, কলাম লেখক

সরকারের গর্বিত বিষয়টি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ হাতে নিয়ে বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন করে- শাস্তির রায়ও কার্যকর করেছেন। কিন্তু সেই বিচার প্রক্রিয়া হঠাৎ স্তিমিত হয়ে পড়ায় মানুষের মনে সন্দেহ-সংশয় দানা বাঁধতে শুরু করেছে। একজন যুদ্ধাপরাধীও যেন বিচারের আওতার বাইরে না থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করা হোক।

আসলে খ্রিস্টীয় নববর্ষ ও বর্ষবিদায় বাঙালির জাতীয় জীবনে তেমন একটা আলোড়ন সৃষ্টি করে না। করার কথাও না তেমন একটা। কারণটা প্রধানত হলো দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীর শতকরা ৮০ ভাগ সম্ভবত এখনো গ্রামীণ। গ্রামবাংলার এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে, এমন কি ইংরেজরা থাকাকালেও নতুন বছরের আগমন-নির্গমন সংক্রান্ত খবরটাই পৌঁছে না। অতীতে আরো পৌঁছাত না। তদুপরি খ্রিস্টীয় বছর হওয়াতে স্বভাবতই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিবস দুটি গভীর তাৎপর্য বহন করায় তারা ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের উৎসব পালন থেকে শুরু করে তা ৩১ ডিসেম্বর বর্ষবিদায় বা থার্টিফার্স্ট নাইট এবং পরদিন পহেলা জানুয়ারি নববর্ষ বা নিউ ইয়ার্স ডে ব্যাপকভাবেই আনন্দে-উৎসবে মেতে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী সংখ্যায় এতই অল্প যে তা নেহায়েতই হাতে গোনা এবং খ্রিস্টানপল্লী যে কয়টি এ দেশে আছে তার সংখ্যাও খুবই কম হওয়াতে তারা যে উৎসবাদি পালন করে থাকেন তা ব্যাপক বাঙালি জীবনে দৃশ্যমানতা অর্জনে সক্ষম হয় না। সে কারণে গ্রাম-জীবনে খ্রিস্টীয় বর্ষপূর্তি ও নববর্ষ ব্যাপকভাবেই অজানা দুটি দিন। বড়দিনও তাই। তার পরেও দিবস দুটি বাঙালির নগর-জীবনে অনেকটাই স্থান করে নিয়েছে। ইংরেজ আমল থেকে ব্যাপক চর্চার এবং অভ্যাসবশত আমরা তো বছরের ৩৬৫ দিনই তারিখ মনে রাখি খ্রিস্টীয় বছরের। পহেলা বৈশাখ ছাড়া বাকি ৩৬৪ দিন বাংলা কোন মাস কবে শুরু হলো কবে শেষ হলো তাও আমরা কেউই বলতে পারি না, স্মরণেও রাখতে পারি না। কিন্তু ৩৬৫ দিনই যে মাস ও দৈনন্দিন তারিখগুলো মনে রেখে থাকি খুবই স্বচ্ছন্দ্যে তা হলো খ্রিস্টীয় বছরের। একেবারে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত। তারিখ গণনা বা মনে রাখার ক্ষেত্রে গ্রামগুলোতেও বাংলা মাস ও বছরের চর্চা আদৌ নেই। গ্রামের মানুষও দিব্যি খ্রিস্টীয় সাল, মাস ও তারিখ বলতে পারেন। বাংলা মাস কোনটা কত দিনের হবে তা অবশ্য সহজ করে দিয়েছে অনেক দিন আগেই বাংলা একাডেমি। এখন বাংলা বছরের প্রথম পাঁচ মাস ৩১ দিনে এবং পরবর্তী ৭ মাস ৩০ দিনে গণনা করা হয়। বাংলা ক্যালেন্ডারে তা ছাপা হয়, ছাপা হয় নিত্যদিনের সংবাদপত্রগুলোতেও। এতদসত্তে¡ও বাংলা সন, মাস ও তারিখের কোনো হদিস সমাজে আদৌ মেলে না। ফলে বাংলা সনের সংশোধনী কার্যত নিরর্থক এবং তাৎপর্যহীন হয়ে পড়েছে।

যা হোক ইংরেজদের ব্যাপার, বিদেশিদের ব্যাপার, খ্রিস্টানদের ব্যাপার প্রভৃতি যাই বলি না কেন গোটা পৃথিবীর সব দেশের মানুষই খ্রিস্টীয় বছরকেই নিজেদের বছর হিসেবে ধরে নিয়েছে। বড়দিনের ছুটিও পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই পালিত হয়। গোটা পৃথিবীর সংবাদপত্রগুলোও ডিসেম্বরের শেষ এবং জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্ষ বিদায় ও নববর্ষকে ঘিরে নানাবিধ খবর এবং প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করে থাকে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম নয়। নিত্যদিনের সংবাদপত্রগুলোর পাতা উল্টালেই দিব্যি আমরা তা দেখেতে পাই। বর্ষ পরিক্রমার অমোঘ নিমেশে তাই আমরা দিব্যি নতুন বছর ২০১৮ সালে ঢুকে পড়েছি। পেছনে ফেলে এলাম বহু অঘটনঘটনপটীয়সী ২০১৭ সালকে। তাই ২০১৭ কে জানাই বেদনামথিত বিদায়, ২০১৮ সালকে নুতন সম্ভাবনাময় এক বছর হিসেবে গণ্য করে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাগত জানানো হয়েছে।

২০১৮ সালে সম্ভাব্য সর্ববৃহৎ যে কর্মযজ্ঞটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে তা আমাদের জাতীয় সংসদের নির্বাচন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনটি এ বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনটি যেহেতু অতিমাত্রায় বিতর্কিত এবং প্রায় একদলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেইহেতু এ বছরের নির্বাচনটিতে সব রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য অংশ নেয়ার কারণে তা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে বলে সবার মনেই আশা জুগিয়েছে। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনটি পরিচালনা করে দেশবাসীকে তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবেন। আর তা করতে গেলে নির্বাচনী আইনকানুন যা কিছু ঘাটতি আছে সেগুলো সময় থাকতে সংশোধন করে নেবেন। আমার দেখা নির্বাচনগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে একটি নিবন্ধ লেখার ইচ্ছা রইল। এখন শুধু এটুকুই বলে রাখি, নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে হলে সরকার আমলাতন্ত্র, রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এবং সংবাদ মাধ্যমগুলোকে বিশেষ আগ্রহী ও উদ্যোগী হতে হবে। প্রত্যাশা এই যে, গণআকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে সবার পারস্পরিক সহযোগিতায় ২০১৮ সালের নির্বাচনটি গলদমুক্ত, ত্রুটিমুক্ত এবং সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত হবে। কিন্তু তা প্রত্যাশা মাত্র। পূরণ হবে কিনা তা ভবিষ্যৎ বলবে।

২০১৮-এর কাছে মানুষের প্রত্যাশা শুধু একটি সুন্দর নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রত্যাশা আরো অনেক। সেই প্রত্যাশাগুলোর শীর্ষে রয়েছে কোটি কোটি মানুষ যেন ক্রমবর্ধমান নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আকাশচুম্বী অবস্থান থেকে হ্রাস পায়। অন্তত তার এক-তৃতীয়াংশ মূল্যে যেন পণ্যদ্রব্য মানুষের কাছে পৌঁছায়। সেই ২০১৭ সালের সিলেটের (বৃহত্তম) হাওর অঞ্চলে বন্যায় ফসলহানির সময় থেকে চালের দাম সারা দেশে যেভাবে হু হু করে বাড়তে শুরু করল ক্ষমতাসীনদের নিস্পৃহতায় সেই প্রক্রিয়া আজো অব্যাহত। প্রথমে চালের দাম বাড়া শুরু করলেও শিগগিরই ওই মূল্যবৃদ্ধি প্রক্রিয়া তাবৎ সবজি, মসলা, পেঁয়াজ, দুধ, মাছ, মাংসের দামেও ছড়িয়ে পড়ে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, স্বল্পবিত্ত ও বিত্তহীনদের জীবনে নাভিশ্বাস তুলে দেয় এবং তাতে কোনো মহল থেকেই লাগাম টেনে ধরার দৃশ্যমান কোনো চেষ্টা শুরু না করায় অদ্যাবধি তা দিব্যি অব্যাহত আছে। বাজার করার আতঙ্কে মানুষ এখন আদতেই দিশাহারা। অতিথিবৎসল বাঙালি পরিবারগুলো এখন অতিথি আসবে শুনলে ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাদের আগমনে ব্যয়ের অঙ্কের কথা ভেবে। তাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো পণ্যমূল্য ব্যাপকভাবে হ্রাস করার প্রক্রিয়াটি। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আর একটি আতঙ্ক। সরকার উৎপাদন ব্যয় না কমিয়ে, বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ না করে, অফিস-আদালতে এসির ব্যবহার হ্রাস না করে বোঝা চাপাচ্ছেন সাধারণ মানুষের কাঁধে। সে বোঝায় তারা এতটাই ক্ষুব্ধ যে নতুন ভার বইবার শক্তি-সামর্থ্য তারা হারিয়ে ফেলেছেন।

সরকারের গর্বিত বিষয়টি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ হাতে নিয়ে বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন করে- শাস্তির রায়ও কার্যকর করেছেন। কিন্তু সেই বিচার প্রক্রিয়া হঠাৎ স্তিমিত হয়ে পড়ায় মানুষের মনে সন্দেহ-সংশয় দানা বাঁধতে শুরু করেছে। দ্রুতই কি তা পুনরায় চালু হবে? সরকার বিষয়টি পরিষ্কার করুন। একজন যুদ্ধাপরাধীও যেন বিচারের আওতার বাইরে না থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করা হোক। প্রত্যাশা এই যে, বন্ধ ঘোষিত সব সরকারি-বেসরকারি মিলে অবিলম্বে উৎপাদন নতুন করে শুরু করা হোক। জীবিত শ্রমিক-কর্মচারীদের অবিলম্বে কাজে যোগদান করতে বলে নিয়মিত বেতনভাতা প্রদান করা হোক।

যারা মারা গেছেন তাদের প্রাপ্য বেতনভাতা পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে পরিশোধ করে দেয়ার ব্যবস্থা হোক। নতুন করে কতিপয় কলকারখানা নানা স্থানে স্থাপনের সরকারি-বেসরকারি বা যৌথ উদ্যোগ সত্বর গ্রহণ করা হোক রপ্তানি বৃদ্ধি, আমদানি হ্রাস করার ও ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে। এ ব্যাপারে সুদূরপ্রসারী কর্মসূচি না নিলে বেকার সংখ্যা ও দারিদ্র্য বাড়তেই থাকবে। প্রত্যাশা সব ক্ষেত্রেই। কৃষি উৎপাদন আজো প্রকৃতিনির্ভর। ফলে নিয়ত উৎপাদন সংকট দৃশ্যমান হচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞানীরা যাতে নতুন নতুন গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রকৃত উৎপাদন বছরের একই ক্ষেতে বহুবার বহু ফসল উৎপাদনের মতো নতুন নতুন আবিষ্কার করেন। কৃষিজমির পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে হ্রাস পেয়েই চলেছে। ভূমি মন্ত্রণালয় তাদের ব্যাপারে অন্ধ যারা কৃষিজমি নানাভাবে কিনে ভিন্ন কাজে ব্যবস্থার করছেন। সেই ধনীকে এতে লিপ্ত থাকার অবসান ঘটানো অপরিহার্য। ২০১৮ তে তা ব্যাপকভাবে শুরু হোক। কৃষি, কৃষক ও দেশ বাঁচুক। শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা আশঙ্কায় জর্জরিত। মানসম্পন্ন শিক্ষা আজো দুরাশা। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অপ্রতুল। তাদের বেতন-এমপিওভুক্তি কেন আটকে রাখা হয়েছে তাও দুর্বোধ্য। শিক্ষকরা অনশন ধর্মঘট করবেন, দিনের পর দিন অভুক্ত থাকবেন শুধুমাত্র এমপিওভুক্তির দাবিতে- এটি জাতির জীবনে এক কলঙ্কই লেপন করে দিল মাত্র যার জন্য সরকার শতভাগ দায়ী। সরকার অবশ্য প্রাইমারি শিক্ষকদের দাবিদাওয়া পূরণের অশ্বাস দিয়েছেন। তারা অনশন থেকে স্কুলে ফিরে গেছেন। একই দাবিতে বর্তমানে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা অবস্থান ধর্মঘট করছেন।

২০১৮ সরকারি জোটে এমন একটি বার্তা দিল জোট সঙ্গীদের। মন্ত্রিসভায় দলীয় প্রভাব আরো বাড়ল জোটসঙ্গীদের দুর্বলতর অবস্থানে ফেলে। লক্ষণটি দক্ষিণপন্থিদের কাছে উৎসাহব্যঞ্জক। বার্তাটি জানান দিল দ্রুতই নতুন শক্তিশালী প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক জোট গঠনের বিকল্প নেই। বার্তাটি পৌঁছাল সবার কাছে আকস্মাৎ জানুয়ারি ২ তারিখে। সবিস্ময়ে জাতি তা প্রত্যক্ষ করেছে। কিন্তু প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো তবুও কি ঐক্যবদ্ধ হবে সামনের দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে?

২০১৮ নারী জীবনে কী প্রভাব ফেলবে? কমবে কি (বন্ধ হবে এমন আশা করি না) নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, নারী অপহরণ? প্রয়োজনীয় জাতীয় জাগরণ এ প্রশ্নে আর কত বিলম্বিত হবে? বিচারাঙ্গন ২০১৭ তে নানা প্রশ্নে বিদ্ধ হয়েছে। সচেতন মানুষ শঙ্কিত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা আর কতকাল অপূর্ণ থাকবে, কতকাল লাগবে বিচার বিভাগের মাথা তুলে দাঁড়াতে? একটু নড়াচড়া করতেই প্রচণ্ড আঘাত নেমে এসেছে সত্য কিন্তু তবুও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না। বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা অপরিহার্য। দলীয়করণ থেকেও বিভাগটিকে বাঁচাতে হবে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে। পারবে কি ২০১৮ এ ব্যাপারে গণআকাক্সক্ষা পূরণ করতে?

অনেকটা রুটিনের মতোই বিদায় নিল ২০১৭ বাঙালির জীবন থেকে। সাম্প্রদায়িকতা সারাটি বছর ধরেই ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বারংবার আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ রংপুরের গ্রামে এই তো সেদিন হিন্দু ঘরে জন্ম নেয়া এক নির্দোষ ছেলের নামে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ইসলামের ও নবীর অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে তাদের বাড়িঘরসহ প্রতিবেশী হিন্দুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়ে লুটপাট করার ঘটনাও ঘটেছে। বছরজুড়েই নানা স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে আগুন, বাড়িঘর, ফসলি জমি দখল করে হিন্দু বিতাড়ন বিস্তর ঘটেছে। কিন্তু তার প্রতিবিধানের আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেই বা অপরাধীদের বিন্দুমাত্র শাস্তি দানের কোনো উদ্যোগও নেই। এভাবেই কাটল সারাটি বছর।

২০১৭ সাল প্রাকৃতিক দুর্যোগের বছরও বটে। বন্যা-বৃষ্টির প্রাবল্য, ব্যাপক ফসলহানি সব মিলিয়ে কৃষি, কৃষক ও ভোক্তাজীবন ছিল বিপর্যস্ত। দুর্নীতিতে, বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টর আলোচিত ছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও, লুটপাট হয়েছে। বিস্ময়ের ব্যাপার, ব্যাংকিংয়ে দলীয়করণের ফল এতই ভয়াবহ যে, কারো গায়ে বিন্দুমাত্র আইনের আঁচড়ও লাগতে দেখা যাচ্ছে না- যা বিশ্বের কোথাও দেখা যাবে না। অপরাপর ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রাবল্য বিস্তর। দুদক যথারীতি চুনোপুঁটির গায়ে আঘাত হেনেছে, রাঘববোয়ালরা দিব্যি নিরাপদে থেকে গেল বরাবরের মতোই। এহেন বছরের বিদায় কাউকে বেদনার্ত করে না, আনন্দিত হওয়ারও কারণ দেখি না।

রণেশ মৈত্র : রাজনীতিক, কলাম লেখক।
mail:raneshmaitra@gmail.com