এতিমদের জন্য আসা অর্থ আত্মসাতের সেই মামলা!

আগের সংবাদ

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিএনপির হামলা

পরের সংবাদ

দল চলবে কার নেতৃত্বে? : লন্ডন থেকে নির্দেশনা দেবেন তারেক রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮ , ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ

এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হলে দল চলবে কার নেতৃত্বে- বিএনপির ভেতরে ও বাইরে এটি এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। দলের সিনিয়র নেতারা এ বিষয়ে খালেদা জিয়াকে একাধিকবার প্রশ্ন করেও কোনো সদুত্তর পাননি। সর্বশেষ গত রবিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একাধিক নেতা এ বিষয়ে কথা তুললেও খালেদা জিয়া বিষয়টি স্পষ্ট না করে এড়িয়ে গেছেন কৌশলে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার দিন। এ মামলায় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দলে। এমন আশঙ্কা যদি বাস্তব হয়েই যায় তাহলে দলের হাল ধরবে কে- এমন ভাবনা জেঁকে বসেছে দলটির ভেতরে। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার নীরবতা রহস্যের সৃষ্টি করেছে। নেতাকর্মীরা আছেন ধোয়াশায়। খালেদা অন্তরীন থাকলে তারা কার নির্দেশনায় চলবেন তা স্পষ্ট হচ্ছে না। জানা যায়, বিএনপির বিকল্প নেতৃত্ব নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ কষছেন খালেদা জিয়া। তবে বিষয়টি নিয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাইরে অন্য কারো সঙ্গেই আলোচনা করতে চান না তিনি।

এমনকি তিনি চান রায়ের আগ পর্যন্ত নেতৃত্বের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত মহাসচিব এবং তার ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকুক। এ বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে কোনো প্রকার আলোচনা করতেও বারণ করেছন তিনি। তবে আপৎকালীন সময়ে তারেক রহমানের নির্দেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির ৭ সিনিয়র নেতার সমন্বয়ে দল পরিচালনার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে মহাসচিবের পাশাপাশি দলের একজন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের নামও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি দলের নির্বাহী কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তৃণমূল নেতাদের কথা শোনেন খালেদা জিয়া। এ সময় তৃণমূল নেতারা মামলায় যদি দলীয় প্রধানের সাজা হয়েই যায়, সে ক্ষেত্রে বিকল্প নেতৃত্ব ঠিক করার বিষয়ে ভেবে-চিন্তে চূড়ান্ত করার কথা বলেন। যাতে বিগত ১/১১-এর মতো দলের সংকটময় মুহূর্তে তারা বিশ্বাসঘাতকতা না করেন। এ সময়, তৃণমূল নেতাদের কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে খালেদা জিয়া সিনিয়র নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এদিক-ওদিক, এক পা এদিকে অন্য পা অন্যদিকে রাখবে, তাদের চিহ্নিত করা হবে। এদের মূল্যায়নের জায়গা থাকবে না। এদের তারাও (সরকার) নেবে না, আমরাও নেব না। আমরা আগে একবার ক্ষমা করেছি, ক্ষমা বারবার হয় না।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নির্বাহী কমিটির বৈঠকে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য মাথায় রেখেই গত রবিবারের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পুরো সময়টি ছিল সন্দেহ আর অবিশ্বাসে ঘেরা। ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের বৈঠকে অর্ধেকটা সময়ে খালেদা জিয়া দলের ভাঙনে বিশ্বাসঘাতকতার পরিণামের বিষয় নিয়ে কথা বললেন। বৈঠক শেষে সিনিয়র নেতারাও একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন অবিশ্বাস আর সন্দেহের দৃষ্টিতে। এ সময় স্থায়ী কমিটির এক সদস্য মির্জা ফখরুলের হাত ধরে খুব জোরে ‘সেক’ করেন। তখনো মির্জা ফখরুল বুঝতে পারেননি তিনি কী বলতে চাইছেন, ওই নেতা মির্জা ফখরুলের কানের কাছে গিয়ে বলেন, তোমার বিএনপির চেয়ারপারসন কে? তখন মির্জা ফখরুল হাত সরিয়ে নিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর কসম আমি দালাল না, আমি বেইমানি করব না’।

সূত্র আরো জানায়, ১/১১-এর সময়ে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন এমন কথা প্রচার রয়েছে। যার ফলে ওই সময়কালে দলে বিভক্তি দেখা দেয়। খালেদা জিয়া যাদের ওপর বিশ্বাস করে দলের দায়িত্ব দিয়েছেন, তারাই দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন- এমন দুশ্চিন্তাও রয়েছে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এবার এ বিষয়টি পুরোটাই ছেড়ে দিয়েছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। পরিস্থিতি বুঝে সংকটকালীন সময়ের জন্য বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন তারেক। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দলের নেতৃত্ব দেয়ার বিধান থাকলেও এই মুহূর্তে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন।

তবে এ বিষয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য অত্যন্ত কৌশলী। তারা বলেন, দল পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না। যে মামলায় খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তবু ‘রাজনৈতিক’ কারণে চেয়ারপারসনকে জেলে নেয়া হলে দল কীভাবে পরিচালিত হবে, সে ব্যাপারে একটা ধারণা শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আছে। তাদের মতে, খালেদা জিয়া বিদেশে অবস্থানের সময় স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব তার সঙ্গে পরামর্শ করে দল পরিচালনা করেন। তারা জানান, তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকলেও দেশে থাকা দলের নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। সবদিক বিবেচনা করে চেয়ারপারসন অনুপস্থিত থাকলে দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেকের পরামর্শে দল চলবে, এটাই স্বাভাবিক। এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোরের কাগজকে বলেন, এসব বিষয়ে আমরা আপাতত ভাবছি না। কারণ, যদি ন্যায়বিচার থাকে তাহলে ম্যাডামের সাজা হওয়ার কোনো কারণই নেই। এটা অসম্ভব। কারণ মামলাগুলো সবই সাজানো মামলা। তিনি বলেন, তবুও তেমন কিছু যদি হয়েই যায়, তবে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তো বাইরে আছেনই। তার নির্দেশনায় দল চলবে। তা ছাড়া দেশনেত্রী তিন মাস ছিলেন না, কিন্তু আমরা দলের বড় কাজগুলো করেছি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, তিন মাস যে খালেদা জিয়া ছিলেন না, আমরা বিএনপি পরিচালনা করিনি? স্থায়ী কমিটির সদস্যরাই আমরা সময়-সময় বসে যেটা ভালো মনে করেছি, সেটা মহাসচিব বাস্তবায়ন করেছেন। খালেদা জিয়া সাজা হবে- এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি হবে না বলে আমাদের বিশ্বাস। আর যদি হয়, তাহলে আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সমষ্টিগতভাবে আলোচনা করে আমাদের দল পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেব। তিনি বলেন, আমাদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডনে আছেন, তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করার সুযোগ তো থাকবেই।