রেডিওতে ভালোবাসার গল্প শোনাবেন তপু-নাজিবা

আগের সংবাদ

স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে রক্তাক্ত স্মরণ

পরের সংবাদ

দৃষ্টান্তমূলক রায়

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ , ৮:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮, ৮:১৪ অপরাহ্ণ

ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সব অপরাধীর এ রকম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে তা অবশ্যই অপরাধীদের মনে ভীতির সঞ্চার করবে। ঝুলে থাকা অন্য ধর্ষণ মামলাগুলো একইভাবে নিষ্পত্তি হোক, এটা প্রত্যাশা করছি। এভাবে মামলা নিষ্পত্তি হলে ধর্ষণসহ সব ঘৃণ্য অপরাধ অবশ্যই কমে আসবে এবং আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চারজনের ফাঁসি ও একজনের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত বছর ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ওই কলেজছাত্রীকে নৃশংসভাবে গণধর্ষণের পর হত্যা করে জঙ্গলে লাশ ফেলে যায় একদল পাষণ্ড। এই চরম বর্বরতার দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয়েছে বলেই আমরা মনে করি।

গত সোমবার ঘোষিত রায়ে আলোচ্য গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড সহ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জরিমানার অর্থ থেকে বাদীর মামলা পরিচালনার প্রকৃত ব্যয় বাদে বাকি টাকা রূপার পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের কাজে ব্যবহৃত ‘ছোঁয়া পরিবহন’-এর বাসটির মালিকানা পরিবর্তন করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে রূপার পরিবারকে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই রায়টি দৃষ্টান্তমূলক ও ধর্ষকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। লক্ষণীয় বিষয় যে, চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। মামলার অভিযোগ গঠন থেকে রায় হওয়া পর্যন্ত আদালতের সময় ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৪ কার্যদিবস এবং মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে ১৭১ দিনের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। দ্রুত বিচারের ক্ষেত্রেও এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। এ থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে, স্বল্প সময়েও মামলার নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব। একটি কথা আছে, বিলম্বিত বিচার ন্যায় বিচারের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দেয়। বিশেষ করে ধর্ষণ বা এ জাতীয় মামলার ক্ষেত্রে তা আরো বেশি প্রাসঙ্গিক। যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিলীন হয়ে যেতে থাকে অপরাধের আলামত। এ মামলায় যেমন দ্রুত বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, এর বিপরীত দিকে আরেকটি নৃশংস ঘটনা তনু ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার ঝুলে আছে দীর্ঘদির ধরে। এ রকম অনেক ঘটনায়ই বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কেঁদে ফিরছে।

অনেক ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে এবং মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং অন্যরাও উৎসাহিত হয়ে ওঠে। ভিকটিম অর্থনৈতিক বা সামাজিক দিক দিয়ে দুর্বল হলে মামলা এক সময় চাপা পড়ে যায়। প্রভাবশালীরা ভিকটিমের ওপর নানা রকম হুমকি-ধমকি দিয়ে বা অর্থের বিনিময়ে মামলা উঠিয়ে নিতে বাধ্য করে। দুর্বল ভিকটিমদের পক্ষে রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধ তদন্তে ও অপরাধীদের বিচারাধীন করায় পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে এগিয়ে আসতে হবে ব্যক্তি-সংগঠনকে। সময় মতো সঠিক বিচার না পেয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে আদালত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় নির্যাতিত ব্যক্তি বা পরিবার। এতে অপরাধীরা বারবার ঘৃণ্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে যায়। কিন্তু দ্রুত সময়ে বিচার সম্পন্ন হলে, অপরাধীর সমুচিত শাস্তি হলে সেসব সুযোগ কম থাকে এবং বিচার প্রার্থীর নতুন করে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। এ ক্ষেত্রে এই রায় একটি নজির সৃষ্টি করল। রূপার পরিবার এই রায়ে তাদের সন্তষ্টি প্রকাশ করেছে। এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন নারী অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন তারাও। এই রায়ে স্বস্তি পাবেন ভরসা পাবেন দেশের আপামর মানুষই। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সব অপরাধীর এ রকম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে তা অবশ্যই অপরাধীদের মনে ভীতির সঞ্চার করবে। ঝুলে থাকা অন্য ধর্ষণ মামলাগুলো একইভাবে নিষ্পত্তি হোক, এটা প্রত্যাশা করছি। এভাবে মামলা নিষ্পত্তি হলে ধর্ষণসহ সব ঘৃণ্য অপরাধ অবশ্যই কমে আসবে এবং আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।