ক্যান্টারবারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষ উদযাপন

আগের সংবাদ

মুজিবনগর দিবস স্মরণে

পরের সংবাদ

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উপড়ে ফেলার প্রত্যয় হোক

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৬, ২০১৮ , ৭:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০১৮, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতাসহ যারাই নেতৃত্ব দিয়েছেন মুক্তি সংগ্রামে-যুদ্ধক্ষেত্রে, জাতিগঠনে- ইতিহাস তাঁদের যে স্থান দিয়েছে সে মতোই সম্মান দিতে হবে। মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের মাইলফলক ঘটনা ও দিবসগুলোকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ, তাৎপর্য অনুধাবন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন আমাদের ঐতিহাসিক দায়। এর মাধ্যমেই উদ্ভাসিত হবে সঠিক ইতিহাস; মূল্যায়িত হবেন জাতির প্রকৃত নায়করা।

আজ বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের পথে একটি ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১-এর এ দিনে পাকিস্তানের কারাগারে আটক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক করে গঠিত বিপ্লবী সরকার মেহেরপুর বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শপথগ্রহণ করে। শপথগ্রহণের এই স্থানটির নামকরণ করা হয় ‘মুজিবনগর’ এবং এই দিনটি ইতিহাসে স্থান পায় ‘মুজিবনগর দিবস’ হিসেবে। মুক্তিসংগ্রামের ধারাবাহিকতায় দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই বিপ্লবী সরকারই হচ্ছে বাংলাদেশের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের বৈধ সরকার, যাদের কৃতিত্ব হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধকে সংঘটিত করা এবং বিজয় অর্জন পর্যন্ত যথাযথ নেতৃত্বদান। এই সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ক‚টনৈতিক ও প্রচার ক্ষেত্রে বিশ্ব জনমত গঠন এবং এক কোটি উদ্বাস্তুর পুনর্বাসন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছিল। আজকের এই দিনে মুজিবনগর বিপ্লবী সরকারের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় ৪ নেতাসহ ওই সরকার পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত সবার প্রতি রইল আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।

কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের এমএনএ এবং এমপিএদের অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়। এই মন্ত্রিপরিষদ এবং এমএনএ ও এমপিএরা ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেন। সে সরকারে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়। তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নিয়োগ করা হয়। ১১ এপ্রিল এম এ জি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়। এরপর ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরে বৈদ্যনাথতলার এক আমবাগানে মন্ত্রিপরিষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশকে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ রূপে ঘোষণা করা হয়। এরপর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি একে একে প্রধানমন্ত্রী ও তার তিন সহকর্মীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং নতুন রাষ্ট্রের সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান হিসেবে কর্নেল এম এ জি ওসমানী এবং সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ পদে কর্নেল আবদুর রবের নাম ঘোষণা করেন। এরপর সে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ পাঠ করা হয়। যে ঘোষণাপত্রটি ১০ এপ্রিল প্রচার করা হয়েছিল এবং এর কার্যকারিতা ঘোষণা করা হয়েছিল ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে। বাংলাদেশ কী কারণে স্বাধীনতা ঘোষণা করে তার ব্যাখ্যা দেয়া হয় ওই ঘোষণাপত্রে। ওই ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখে ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন এবং বাংলাদেশের মর্যাদা ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান’। এই ঘোষণাপত্রেই বলা হয়, ‘সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি থাকিবেন।’ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হওয়ার পরও নতুন সংবিধান প্রণীত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই ঘোষণাপত্র সংবিধান হিসেবে কার্যকর ছিল। স্বাধীনতার এই ঘোষণাপত্র ২৩ মে ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এবং সংবিধান প্রণয়নের পর এর অংশে পরিণত হয়।

আমরা মনে করি, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতাসহ যারাই নেতৃত্ব দিয়েছেন মুক্তি সংগ্রামে-যুদ্ধক্ষেত্রে, জাতিগঠনে- ইতিহাস তাঁদের যে স্থান দিয়েছে সে মতোই সম্মান দিতে হবে। মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসের মাইলফলক ঘটনা ও দিবসগুলোকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ, তাৎপর্য অনুধাবন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন আমাদের ঐতিহাসিক দায়। এর মাধ্যমেই উদ্ভাসিত হবে সঠিক ইতিহাস; মূল্যায়িত হবেন জাতির প্রকৃত নায়করা।