Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, বুধবার, ১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ১০ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

নাট্যজন আবদুল্লাহ আল-মামুনের জন্মবার্ষিকীতে নানা আয়োজন


প্রকাশঃ ০৭-০৮-২০১৫, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ০৭-০৮-২০১৫, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

tvgicnhtকাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: বাংলাদেশে মঞ্চনাটক চর্চা ও প্রসারে আবদুল্লাহ আল-মামুন এক জ্বলজ্বলে নক্ষত্রের নাম। কী রচনা কী প্রযোজনা, নির্দেশনা ও পরিচালনা, কী অভিনয়, কী নাট্যশিল্পী সৃষ্টি, সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। অসাধারণ এক নাট্য পরিমণ্ডল সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। গত ১২ জুলাই ছিল এ নাট্যব্যক্তিত্বের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী। রজমান মাস থাকায় তখন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেনি তার হাতে গড়া নাট্যদল থিয়েটার। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ‘আবদুল্লাহ আল-মামুন ও আমাদের সময়ের নাটক’ শীর্ষক সেমিনার ও বিশেষ নাট্যপ্রদর্শনীর।
বিকাল সাড়ে ৪টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার হলে আয়োজিত সেমিনারে স্মারক বক্তব্য দেন সাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
এ সময় অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে সেলিম আল দীন বা আবদুল্লাহ আল-মামুনের মতো নাট্যকার আর তৈরি হচ্ছে না। তরুণদের মধ্যেও এমন কাউকে দেখি না যে এঁদের মতো নিবেদিতপ্রাণ, নাটকে গভীরতা সৃষ্টিকারী। এখন নাটকের নামে যা হচ্ছে তার সবই চমক সৃষ্টিকারী, মানুষকে বিনোদিত করা মাত্র। ফিউশন বা নিরীক্ষার চাইতেও মৌলিক নাটক সৃষ্টি এখন সবচেয়ে বেশি দরকার।’
দৃশ্যমাধ্যমে নয়া উপনিবেশকতা প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবকিছুকেই যেহেতু পণ্য করে তোলা যায়, সেহেতু লোভের সংস্কৃতিকে জাগানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক সম্পর্ক। যেমন ভারতীয় চ্যানেল স্টারবাহিনী বা এএক্সএন, এগুলো থেকে পাওয়ার কিছু নেই, তবু আমরা হুমড়ি খেয়ে দেখছি এসব। আমাদের দেখতে বাধ্য করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশের মঞ্চনাটক বা টেলিভিশন নাটকে আবদুল্লাহ আল মামুনের মতো দ্বিতীয় নাট্যজন খুঁজে পাওয়া মুশকিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন নাটক খুব জীবন্ত ছিল। নাটক থেকে মানুষ গভীরতা সৃষ্টিকারী উপাদান পেত। এতে আরও মননশীল হওয়ার সুযোগ ছিল। আমরা কখনও নাটককে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখিনি। এখন নাটককে শুধু হাসির বা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
নাট্যজন রামেন্দু মজুমদারের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন আতাউর রহমান, ফেরদৌসী মজুমদার, ঝুনা চৌধুরী, আকতারুজ্জামান, কেরামত মাওলা, ত্রপা মজুমদারসহ দেশের বিশিষ্ট নাট্যকর্মীরা।
এরপর সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মঞ্চে প্রদর্শিত হয় আবদুল্লাহ আল-মামুন রচিত ও নির্দেশিত থিয়েটারের ‘মেরাজ ফকিরের মা’। ছিল নাটকটির ১৫৮তম প্রদর্শনী। এটিই থিয়েটারের সর্বাধিক মঞ্চস্থ নাটক।
ধর্ম ব্যবসাকে পুঁজি করে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে গুটিকয়েক সমাজপতি প্রতিনিয়ত সমাজের মানুষের ক্ষতি করে যাচ্ছে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি। ধর্মের ভিন্নতার কারণে পুত্র কি অস্বীকার করতে পারে তার মাকে? নাটকটিতে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ঘটমান কিছু বাস্তবতা।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, ত্রপা মজুমদার, মজিবর রহমান জুয়েল, তানজুম আরা পল্লী, মারুফ কবির, সাইফ জোয়ারদার, আব্দুল কাদের, তোফা হোসেন প্রমুখ।



পাঠকের মতামত...

Top