Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

এ কেমন বর্বরতা ! এ কেমন বিচার !


প্রকাশঃ ২১-০৯-২০১৫, ১২:০২ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ২১-০৯-২০১৫, ১২:০২ অপরাহ্ণ

downloadমোঃ কামরুজ্জামান, ফ্রান্স থেকে: পুলিশের এ কেমন বর্বরতা !! পুলিশ এ কেমন নিষ্ঠুর কান্ড ঘটালো টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে !!! যার জন্য তিনটি প্রাণ অকালে ঝরে গেল ! কি দোষ ছিল তাদের ? যার জন্য পুলিশের গুলিতে ঝাঁজরা হল তাদের দেহ। তাদের একটাই দোষ ছিল, একজন মায়ের ইজ্জত যারা হরণ করেছে, ছেলের সামনে মাকে নির্যাতন ও ধর্ষণ করেছে, এই বর্বরতাকারীদের তারা বিচার দাবী করেছিল। এটা কি তাদের অন্যায় ? কোন বর্বরতম যুগে বাস করছি আমরা! মা-ছেলেকে বিবস্ত্র করা, ছেলেকে দিয়ে মা-কে ধর্ষণের চেষ্টা, পরে মা-কে ধর্ষণ,এই রকম নিষ্ঠুরতা, এ রকম বর্বরতা শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে কোথাও হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নাই। এই ঘটনা আমাদের গোটা জাতিকে হেয় করেছে। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে এই বর্বরতায় ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে । তাই এই নিন্দনীয় বর্বরতম কাজের জন্য সর্বাগ্রে এগিয়ে আসার উচিত ছিল পুলিশের।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি পুলিশ এখানেও পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নিয়েছে, পুলিশ অপরাধী ও প্রভাব শালীদের যোগসাগোজে মামলা ঘুরিয়ে দিতে চেষ্টা করেছে। শুধু তাই নয়, ভিকটিম ধর্ষণ মামলা করতে চাইলে, পুলিশ তা না করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করে। আর এতেই ঘটে বিপত্তি।এতোকিছুর পরও পুলিশ ধর্ষণ মামলা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভের জন্ম নেয়, বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে সাধারণ জনতা। মিডিয়ার অনুসন্ধানে চরম অসভ্যতা ও বর্বরতা এবং পুলিশের পক্ষপাতিত্বসহ বিস্তারিত চিত্র ফূটে এসেছে। পুলিশের সঠিক তদন্ত ও দোষীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে সাধারণ জনতা। এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়, এটা তাদের নাগরিক অধিকার। কিন্তু এই জঘন্য ও নির্মম ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের নগ্ন হামলার শিকার হয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন জন নিহত ও প্রায় অর্ধশত আহত হয়েছেন,যা গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।তাদের তাজা রক্ত শুধু টাঙ্গাইলের কালিহাতী নয়, রক্তে রঞ্জিত হয়েছে গোটা বাংলাদেশ । মা-ছেলেকে বিবস্ত্র করা, ছেলেকে দিয়ে মা-কে ধর্ষণের চেষ্টা, পরে মা-কে ধর্ষণ– এতোকিছুর পরও পুলিশ ধর্ষণ মামলা না নেওয়া এবং অপরাধীদের পক্ষপাতিত্ব করার জন্যই মূলত সাধারণ জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তাহলে এর জন্য দায়ী কে ? নিঃসন্দেহে পুলিশ ! আমার প্রশ্ন দেশে কি আইনের শাসন নাই , তাহলে এই পুলিশ নিরীহ মানুষের বুকে গুলি চালানোর মত জঘন্য,বর্বরতম কাজ করল কিভাবে ? এ কেমন নিষ্ঠুরতা, এ কেমন অবিচার, এ কেমন আইন, এ কেমন আইন দিয়ে হত্যা ! কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশ শান্তির শপথে বলীয়ান আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, নির্যাতিত মানুষের পাশে বন্ধুর মতো দাড়ানো এবং অপরাধীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর কাজ করার কথা । কিন্তু পুলিশ তা না করে, তাদের হাতেই রক্তে রঞ্জিত হল কালিহাতী, যাদের উচিত ছিল জনগণকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কিন্তু তারা তা না করে আইনের রক্ষকের দায়িত্বে থেকে, আইনের ভক্ষক হয়ে খোদ জনগণকেই শিকার করেছে ।এই ঘটনা নিন্দা জানানোর ভাষা নাই ।

অপরদিকে, এই জঘন্য ও নির্মম ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের নগ্ন হামলার শিকার হয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারেরই বা কি অবস্থা ! যে ৩ জন নিহত হয়েছেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজন হারানোদের মতোই এখন নির্বাক কালিহাতী ও ঘাটাইল উপজেলার মানুষ, সাথে শোকে স্তব্ধ গোটা বাংলাদেশের মানুষ।এই ঘটে যাওয়া নির্মম, পৈশাচিক ঘটনায় নিহত প্রতিটি পরিবারকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক। এটা প্রশাসনের হাস্যকর কার্যকলাপ ছাড়া আর কিছু নয় !এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, একজন মানুষের জীবনের মূল্য কি তাহলে মাত্র ৫০ হাজার টাকা ? যারা পুলিশের নগ্ন,আগ্রাসী হামলার শিকার হয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন, ঐ পরিবার গুলোর ভবিষ্যত কি হবে ? তাদের পরিবার ও ছেলে মেয়েদেরই বা ভবিষ্যৎ কি হবে, এটা কি একবার ভেবে দেখেছে প্রশাসন ?

আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই ধর্ষণ, এই নির্মমতা, এই বর্বরতা, এই পৈশাচিকতার, এই হত্যা-ধর্ষণযজ্ঞের শেষ কোথায়? অবস্থাদৃষ্টে স্পষ্ট যে, দেশে মানুষের জীবন ও সামাজিক নিরাপত্তা বলে এখন আর কিছু নেই। এই ভাবে পুলিশ মানুষের বুকে গুলি চালালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর মানুষের আস্থা থাকবে না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ায় এমনিতেই দেশের মানুষ পুলিশের প্রতি আস্থাহীন ও বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ছে। তাই ভবিষ্যতে এমন হীন ঘটনার পুণরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে জন্য এই বর্বরতম ঘটনার সাথে জড়িতদের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আমাদের সমাজের মূল্যবোধের আরো অধঃপতন ঘটবে। এর সুদূর প্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আমাদের গোটা সমাজ ব্যবস্থার উপর।

অপরদিকে, এ নিন্দনীয় ঘটনায় জড়িত অপরাধী সহ পুলিশ সদস্যদের উপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে, এই বর্বরতম ঘটনা কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসাবে ইতিহাসের পাতায় লিখা থাকবে ।



পাঠকের মতামত...

Top