Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং | ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

আমি কোনো শঙ্কা অনুভব করি না : মুহম্মদ জাফর ইকবাল


প্রকাশঃ ১৯-০২-২০১৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ১৯-০২-২০১৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ

muhammad-jafaকাগজ প্রতিবেদক: গতবার বইমেলা থেকে ফেরার পথে অভিজিৎকে হত্যা করা হলো, সম্প্রতি দীপনকে হত্যা করা হলো তো এবারের মেলা নিয়ে কোনো শঙ্কা আছে কিনা ভোরের কাগজের এমন এক প্রশ্নের জবাবে কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আমি আশা করছি এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে। যেটা হয়েছে সেটা সাংঘাতিক একটা ঘটনা। প্রতিবছর সেটা রিপিট হবে? এটা হতেই পারে না। এরকম ঘটনা যদি ঘটতে থাকে তাহলে আমাদের দেশটারই আর কোনো মান মর্যাদা থাকবে না। আশা করছি, ভবিষ্যতে যেন এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

লেখক হিসেবে আপনি কোনো শঙ্কায় আছেন কী? এর জবাবে তিনি বলেন, না, আমি কোনো শঙ্কায় নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনো শঙ্কা অনুভব করি না। কেউ যদি আমাকে মেরে ফেলতে চায় মেরে ফেলুক। মোস্ট ওয়েলকাম।

এই যে বাংলা একাডেমি ব-দ্বীপের স্টল বন্ধ করে দিয়েছে এ প্রসঙ্গে কোনো প্রতিক্রিয়া আছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ। প্রথমত, আমার প্রতিক্রিয়া ছিল যে, স্টল বন্ধ করা ঠিক হয়নি। গত মঙ্গলবার রাতে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ওই বইটা থেকে কিছু লাইন আমাকে পড়ে শোনালেন, শোনার পর মনে হলো এটা সহ্য করার মতো না। সহ্য করা সম্ভব না। কাজে নরমাল লেখক, নরমাল পাঠক, নরমাল প্রকাশক, নরমাল স্টল- তাদের নরমালভাবেই ডিল করা যায়।

কিন্তু এই পার্টিকুলার ঘটনাটা নরমাল না। এটা একধরনের অত্যন্ত বড়ো কোনো ষড়যন্ত্র। কারণ এই ধরনের বই কোনো মানুষের পক্ষে লেখা সম্ভব না। এ নিয়ে আমি খুবই দুঃশ্চিন্তায় আছি, কেন এই কাজটা করল ওরা! যারা এসব লিখেছে তারা কেউ লেখক না, প্রকাশকও না। অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে ওদের। এর ভেতরের ম্যাটেরিয়ালটা কি এবং কিভাবে লেখা হয়েছে তা আরো তলিয়ে দেখা উচিত।

কনকর্ডে তাদের কার্যালয়ও বন্ধ করে দিয়েছে; এটা কি ঠিক হয়েছে? এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তারা তো নরমাল ওয়েতে কাজটা করেনি। সুতরাং… এটা কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হচ্ছে আপনার?

জাফর ইকবাল বলেন, হ্যাঁ আমার তো তাই মনে হচ্ছে, এটা তো বোঝাই যাচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হোয়াট ইজ দিস? আমার তো মনে হচ্ছে এটা করে একটা গোলমাল পাকিয়ে লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আপনার কি মনে হয় এর মধ্য দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়েছে? এর জবাবে জাফর ইকবাল আরো বলেন, ধর্মীয় অনুভূতি না তো, এটা ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত। যে কোনো মানুষ কিম্বা যে কোনো ধর্মেরই মানুষ যদি বইটা পড়ে থাকেন, তিনি একদম শক্ট হয়ে যাবেন। কোনো মানুষ যেন লাইনগুলো না দেখে। এতো ভয়ঙ্কর সেই বইয়ের লাইনগুলো। আগে স্টলটা বন্ধ করে দেয়ার কথা শুনে আমার প্রতিক্রিয়া ছিল, কেন একটা স্টলকে বন্ধ করবে? কেন মুক্ত চিন্তায় বাধা দেয়া হচ্ছে? কিন্তু এটা মুক্ত চিন্তা নয়। মুক্তচিন্তা আমরা এভাবে করি না।

বইমেলায় এসে কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেলায় আমার খুবই ভালো লাগছে। বিশেষ করে সারা পৃথিবীতে মানুষজন প্রায় বই পড়া বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে যখন আমি দেখি যে, আমাদের ইয়াং ছেলেমেয়েরা বই পড়ছে। তখন আমার খুবই ভালো লাগে। আনন্দে বুক ভরে যায়।

আবারো জানতে চাইছি এর অজুহাতে তাদের কার্যালয়ও বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে কিম্বা যেটা লিখেছেন ওনারা। সেই ঘটনায় আই এম নট সারপ্রাইজ। এটাকে ইনভেস্টিগেট করা দরকার যে, কেন এ কাজ করল তারা। পৃথিবীতে লাখ লাখ বই ছাপা হয়, লাখ লাখ প্রকাশকের, এটা তার ভেতরে পড়ে না। আমি যেটা লিখতে চাই, আমি আমার মতো করে লিখতে পারব। যতো কঠিন কথাই হোক, আমি গুছিয়ে লিখতে পারব। কিন্তু তারা এমন বিকৃতভাবে না লিখলে কি হতো না ?

মেলা প্রসঙ্গে এই কথাসাহিত্যিক আরো বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে এলে প্রাণবন্ত লাগে। মেলা আবার অন্য অংশে গেলে মনে হয় ওই অংশটি বেশি সুন্দর।

অটোগ্রাফ শিকারীরা আপনাকে যেভাবে ঘিরে ধরেছে বিরক্ত লাগে কিনা এর উত্তরে মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, অটোগ্রাফ দিতে আমার কোনো সমস্যা নেই। যত ঝামেলাই হোক, আমি অটোগ্রাফ দিয়ে যাব। শিশুদের কাছে থাকা সবসময় আনন্দের।



পাঠকের মতামত...

Top