Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং | ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

মনে হচ্ছিল নিজের বাড়ির উঠোনেই হাঁটছি : আরতি প্রভা বণিক


প্রকাশঃ ২৮-০২-২০১৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ২৮-০২-২০১৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

Dili-Roadকাগজ প্রতিবেদক: এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলা খুবই ভালো লাগছে আমার। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। ধাক্কাধাক্কি নেই। মেলায় গিয়ে মনে হলো আমি বাধাহীন। এক স্টল থেকে অন্য স্টলে ঘুরে বেড়িয়েছি মনের আনন্দে। বইমেলা তো এমনই হওয়া চাই। মনে হচ্ছিল নিজের বাড়ির উঠোনেই হাঁটছি।

বইমেলা প্রসঙ্গে ভোরের কাগজের এক প্রশ্নের জবাবে লেখক আরতি প্রভা বণিক এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

সম্প্রসারিত মেলা কেমন লাগছে- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রকাশক ও স্টলের সংখ্যা বেড়েছে। মেলা সম্প্রসারিত হওয়ায় বাংলা একাডেমিকে অনেক ধন্যবাদ। আগের মেলাগুলোতে এমন ধাক্কাধাক্কি হতো যে মেলায় যেতেই ভয় পেতাম। এখন মেলায় ঘুরি শঙ্কাহীনভাবে।

আপনাদের সময়ে কেমন ছিল বইমেলা?

তিনি বলেন, আমার জন্ম চট্টগ্রামে, আর সে সময় বইমেলা ছিল না। কিন্তু ছাত্রজীবন থেকেই একটু

একটু করে লেখালেখি শুরু করি। আমার কবিতা, গল্প, দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক আজাদী এবং দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায় ছাপা হতো। এরপর কর্মজীবন শুরু করি কুণ্ডেশ্বরী বালিকা মহাবিদ্যালয়ে। অর্থনীতি বিষয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি লেখালেখির প্রতি আরো বেশি ঝুঁকে পড়ি। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতি বছর আসি। তাই এই মেলা আমাকে ভীষণভাবে টানে।

বইমেলার নিরাপত্তা নিয়ে আপনার কোনো শঙ্কা আছে কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, এবারের মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক ভালো। অধিকাংশ দিনই তো মেলায় আসলাম। কোনো ধরনের অনিয়ম চোখে পড়েনি। তাই এ বিষয়ে অন্তত আমার শঙ্কা নেই।
এ বছর পূর্বা প্রকাশনী থেকে আরতি প্রভা বণিকের ‘ছড়ার ডায়েরি’ নামে একটি ছড়াগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

তার প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। ‘আমার ছেঁড়া পাতার কবিতা যতো’ আর ছড়ার বই ‘বিড়াল আর মাছ খাবে না’। এগুলোও ছাপা হয়েছিল পূর্বা প্রকাশনী থেকে। যার প্রকাশক বাদল সাহা শোভন। বই প্রকাশ করার বিষয়টি কখনো ভাবিনি। আমার শুভাকাক্সক্ষীদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় বই প্রকাশ করার সাহস পেয়েছি। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে এক দারুণ অনুভূতি। আমার কাছে সেই অনুভূতি মঙ্গলবারতাই ছিল। তখন আকুল মন কেঁদে উঠেছিল। কারণ আমার স্বপ্নপূরণ হয়েছে।

আগামীতে সুপরিসর ও পরিচ্ছন্ন এ মেলার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বইমেলা প্রশস্ত হওয়ার কারণে স্টলের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রকাশকদের সংখ্যাও বেড়েছে। সবচেয়ে ভালোলাগার বিষয় হলো- তরুণদের লেখার প্রতি যে আগ্রহ বেড়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি ভীষণ আশাবাদী। বইপ্রেমী আর নতুন নতুন মুখের আগমনে বইমেলা ভবিষ্যতে আরো প্রাণবন্ত হবে এমন আশাবাদ রইল।



পাঠকের মতামত...

Top