Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

সত্যনিষ্ঠ ইতিবাচক সংবাদপত্র চাই : এম এম আকাশ


প্রকাশঃ ০৪-০৩-২০১৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ০৪-০৩-২০১৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

M-M-AKASHসকালে উঠেই চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চোখের সামনে সংবাদপত্র মেলে ধরার অভ্যাস ছোটকাল থেকেই। যখন অল্প বয়স ছিল তখন প্রথম খুলতাম খেলার পাতা। যখন ছাত্র রাজনীতি শুরু করলাম তখন রাজনীতির খবরগুলোই মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। এখন নিজে সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় লিখি, সে জন্য ওই পাতাগুলোও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সুতরাং সংবাদপত্রের কাছে এক এক পাঠকের এক এক প্রত্যাশা। এ জন্যই বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল পত্রিকাটি তার পাঁচ মিশেলি চরিত্র নিয়ে উল্কার মতো ঊর্ধ্বে আরোহন করে গেছে। আমি কোন পত্রিকার কথা বলছি তার নাম নাইবা উল্লেখ করলাম। তাই সফল পত্রিকা যদি চাই ওই ধরনের পত্রিকাই তৈরি করতে হবে।

কিন্তু পত্রিকার আরেকটি দিক আছে সেটা হলো- দেশ, জাতি ও জনগণের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা। সেটা কার্যকর করতে হলে একই সঙ্গে দরকার সত্যনিষ্ঠা এবং বড় স্বপ্নের প্রতি বড় অঙ্গীকার। কিছুটা দরকার নেটওয়ার্ক। পাঠকের সঙ্গে নিয়মিত জীবন্ত যোগাযোগ, ইতিবাচক বক্তব্য এবং খবরের সুষম ভারসাম্য।

বর্তমানে সংবাদপত্রে একটি জিনিসের খুবই অভাব অনুভব করি সেটা হলো- অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলতে শুধু খুন-খারাবি, অর্থ কেলেঙ্কারি ইত্যাদির কেচ্ছা-কাহিনী বোঝাচ্ছি না, বোঝাচ্ছি নিভৃতে হারিয়ে যাওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ লোককাহিনী। যে ট্র্যাডিশনটা সংবাদের পাতায় মোনাজাতউদ্দিন শুরু করেছিলেন। কেউ কেউ এখন ‘অন্য আলো’ নাম দিয়ে কিছুটা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের লেখা ব্যক্তিগতভাবে আমার খুবই পছন্দ। কোনো এককালে শৈশবে গ্রামে জীবন কাটিয়েছি। এখন শহুরে পাখিতে পরিণত হয়েছি। তাই ওই ধরনের সংবাদের জন্য এক ধরনের নস্টালজিয়া অনুভব করি।

ফুল-ফল-পাখি ইত্যাদির ছবি সংবাদপত্রের সৌন্দর্য কিছুটা বাড়াতে পারে। আনতে পারে উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য। আজকাল ইন্টারনেট থেকে অনেক জিনিস অনায়াসে ডাউনলোড করা যায়। ভালো অনুবাদক থাকলে সেগুলো ব্যবহার করেও সংবাদপত্রের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সংবাদপত্রের সংবাদ যত তরতাজা হবে তত তার বেশি মূল্য। এটা ঠিক সংবাদপত্রের ই-ভার্সন থাকলে টাটকা সংবাদ পরিবেশন সহজতর হয়। পাঠকের সঙ্গে মতবিনিময়ও সহজতর হয়। ধারণা করি এখন সব সংবাদপত্রেরই ই-ভার্সন আছে। তবে সবারটা ইউজার-ফ্রেন্ডলি নয়। ত্রুটিপূর্ণ হলে, আকর্ষণীয় না হলে পাঠক অপেক্ষা করবে না, অন্য পত্রিকার দিকে চলে যাবে।

সংবাদপত্র কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতের অনুসারী হয়ে পড়লে সেটা আর সংবাদপত্র থাকে না, মতের মুখপত্রে পরিণত হয়। আমাদের দেশে সাধারণত টিকে থাকার জন্য সংবাদপত্রকে কিছুটা সরকারের মতের প্রতিফলক হতেই হয়। কিন্তু সেখানেও মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে বিপদ। ন্যায্য সমালোচনা করতেই হবে- এমনকি তাতে যদি বিজ্ঞাপন কমে যায় তাহলেও। ঝুঁকি নিয়ে বন্ধ হয়ে গেলেও পাঠক তাকে মনে রাখবে, একদিন সে সগৌরবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। উল্টোদিক থেকে একটি বিরোধী মতাদর্শের কট্টর অনুসারী হয়ে নির্বিচারে শুধু সরকারের নিন্দা অব্যাহত রাখলে সেটাও পাঠক গ্রহণ করবে না।

এক কথায় আমি বলতে চাইছি- সরকারের প্রশ্নে সংবাদপত্রের একচক্ষু হওয়া চলবে না। এ ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় নীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মালিকের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি।

সব দিকে আদর্শ ভারসাম্য বজায় রাখা একটি আদর্শ পত্রিকার সাক্ষাৎ এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে সংবাদপত্রকে যেহেতু বলা হয় সমাজের দর্পণ, সে জন্য যে মাত্রায় আমাদের সমাজ আদর্শ সমাজে পরিণত হয়েছে সে মাত্রায়ই এ দেশে আদর্শ সংবাদপত্রের উপস্থিতি তৈরি হবে- এটাই স্বাভাবিক।



পাঠকের মতামত...

Top