Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০১৯ ইং | ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

স্বাভাবিকভাবেই সংবাদপত্র হবে আমার রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ : রবিউল হুসাইন


প্রকাশঃ ০৬-০৩-২০১৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ০৬-০৩-২০১৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

rabiul-haooসংবাদপত্র সমাজের প্রতিচ্ছবি বা আয়না। আমরা নিশ্চয়ই চাই সংবাদপত্রে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব ছবি উঠে আসবে। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক কোনো দিকই বাদ যাবে না। বর্তমানে সংবাদপত্র আমাদের জীবনে একটি অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হিষেবে জায়গা করে নিয়েছে। প্রতিদিন সকালে সংবাদপত্রের পাতায় চোখ না বুলালে আমাদের দিন শুরু হয় না।

দেশে এখন অনেক সংবাদপত্র। নানা মতের, নানা চেহারার। অনুরূপভাবে পাঠকদেরও নানা মত, নানা চাহিদা রয়েছে। একেক পাঠক একেক সংবাদপত্র পছন্দ করেন। স্বাভাবিকভাবেই যে সংবাদপত্র আমার রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যে সংবাদপত্র আমার চাহিদা পূরণ করবে, সেই সংবাদপত্রই আমি পড়তে চাইব।

তাহলে সংবাদপত্রের কাছে চাহিদা কী? আসলে সংবাদপত্র যেমন এখন আর সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বিচিত্র বিষয় ধারণ করে চলেছে, এর সঙ্গে সঙ্গে পাঠকের চাহিদাও বেড়ে যাচ্ছে। আমরা দেখছি এখন সংবাদপত্র সবকিছুই কাভার করছে। রাজনীতি, অর্থনীতি, বিনোদন, সংস্কৃতি, খেলাধূলা, লেখাপড়া, রম্যরস, চিকিৎসা পরামর্শ, ঘরকন্নার টিপস কোনোকিছুই বাদ থাকছে না।

তবে আমার কাছে যা বিশেষ আগ্রহের বিষয় তা হলো সংবাদপত্রে পাঠকের চিন্তা ও মতামত তুলে ধরার বিষয়টি। আজকাল অনেক সংবাদপত্রই একটি নির্দিষ্ট বিষয় পাঠকের কাছে তুলে ধরছে, পাঠক ওই বিষয়ে তার ভাবনা প্রকাশ করছেন। পাঠকের সঙ্গে সম্পর্ক ও আদান-প্রদানের এই ব্যাপারগুলো যে সংবাদপত্রের যত বেশি হবে, সেই সংবাদপত্র তত বেশি পাঠকপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

সংবাদপত্রে শিক্ষা বা পড়ালেখা বিষয়ক পাতাটিও আমার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। দেশ-বিদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, খবরাখবর, ভর্তি বা পরীক্ষা সংক্রান্ত জরুরি তথ্য, সহায়ক পরামর্শ সংবাদপত্র মারফত পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উপকারী। এর বাইরে শিক্ষা পাতায় একাডেমিক বিষয়াদিরও পাঠ অনুশীলন থাকে। আমার কাছে এটাও দরকারী মনে হয়।
আর যে বিষয়ে আমি গুরুত্ব দিতে চাই, তা হলো গ্রামবাংলার খবর। আমাদের দেশের ৮০ ভাগ মানুষ এখনো গ্রামেই বাস করেন। অবস্থানগত কারণে তাদের ওপর মিডিয়ার নজর কম পড়ে। গ্রামবাংলার মানুষের খবর পত্রপত্রিকায় গুরুত্ব পাওয়া উচিত। এখন আমরা প্রতিদিনই পত্রিকা খুলে নানা রকম অনাচারের খবর পাচ্ছি। খুন-খারবি, শিশুহত্যা, নারী নির্যাতন ইত্যাদি ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

এগুলো যে কেবল আইনশৃঙ্খলাাজনিত সমস্যা তা নিশ্চয় নয়। এর নেপথ্যে রয়েছ সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের অধঃপতন, পারিবারিক-সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়াসহ আরো নানাবিধ কারণ। শুধু এসব অনাচার আর অপরাধের খবর প্রকাশই নয়, এর নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান এবং এ ব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরি এবং নৈতিকতা, মূল্যবোধের জাগরণেও সংবাদপত্রের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করি।

জাতীয় সংবাদ, সংবাদ বিশ্লেষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদ ও সংবাদ বিশ্লেষণও সংবাদপত্রে যথেষ্ঠ গুরুত্ব পাবে সেটা আমি প্রত্যাশা করি। বিশ্ব ছোট হয়ে এসেছে। আমরাও বিশ্বরাজনীতির বাইরে নই। বিশ্বে যা কিছু ঘটে চলেছে, তার অনিবার্য অভিঘাত রয়েছে আমাদের ওপরও। বিশ্ব রাজনীতি-অর্থনীতির প্রেক্ষাপটেই এখন নিজেদের অবস্থান বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী এবং তার যৌক্তিক বিশ্লেষণ আমরা চাই সংবাদপত্রের পাতায়।

অনেক ঘাত-প্রতিঘাত চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এ দেশে পরাধীনতা মুক্তি ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এগিয়ে নিতে সংবাদপত্রের উজ্জ্বল ভূমিকার দৃষ্টান্ত রয়েছে। বর্তমানে স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের সংগ্রামেও সংবাদপত্রকে তার বস্তুনিষ্ঠ সাহসী দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে। জনগণের পক্ষে থেকে সরকারের কাজের যৌক্তিক প্রশংসা বা সমালোচনা করতে হবে। বাংলাদেশে সংবাদপত্রকে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আবহমান সংস্কৃতি, ঐতিহ্য-কৃষ্টি ইত্যাদির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।

এগুলোর লালনে সংবাদপত্রকে ভূমিকা রাখতে হবে। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নিজস্ব সংস্কৃতি-কৃষ্টির বিপরীত দিকে পরিচালনার সুযোগেই এ দেশে ধর্মীয় মৌলবাদী, উগ্রবাদী চিন্তা-চেতনা বিস্তার লাভ করেছে। মনে রাখতে হবে, এ দেশকে এগিয়ে যেতে হলে তাকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চেতনা ও নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতিকে ধারণ করেই এগোতে হবে।



পাঠকের মতামত...

Top