Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, বুধবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৪শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

ক্ষমতাবানরা অনেক কিছু করে নিচ্ছে: সুলতানা কামাল


প্রকাশঃ ৩০-০৭-২০১৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ৩০-০৭-২০১৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

sultan

কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক:  যারা ক্ষমতায় আছে, যারা উচ্চস্তরে আছে, যাদের হাতে অনেকগুলো হাতিয়ার আছে তারা নিজেদের জন্য অনেক কিছু করে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, তার নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে নিচ্ছে। জণগণের স্বার্থ দেখা হচ্ছে না।

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ইউনিয়ন পরিষদে নারীর  প্রতিনিধিত্ব ও রাজস্ব  আহরণ এবং উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত দপ্তরসমূহের জবাবদিহিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অফ্ গভর্ন্যান্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত দপ্তরসমূহে কাজের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা মানা হচ্ছে না। সেটা আমাদের তৈরি করতে হবে। তৈরি করতে গেলে নিজেদের অঙ্গীকারে প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সেটা না করতে পালে এটি প্রতীয়মান হবে যে, আমরা নিজেদের কাজটা নিজেরা করতে পারছি না।

তিনি বলেন, হস্তান্তরিত দপ্তর সমূহে সেন্টাল গভর্নমেন্ট থেকে ইনফ্লুয়েন্স করেত করতে অনেক সময় ইন্টারফেয়ার করে। তখন সেখানে যার কাজে আছেন তাদের কাজের উৎসাহ চলে যায়। কারণ দায়বদ্ধতা তখন আসে তখন সেই কাজের মর্যাদা দেওয়া হয়। কারণ আমি কতক্ষণ অন্যের কাজ করবো। তাই তাদের কাজের উৎসাহ থাকে না।

অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, এমন ভাবে শাসন ব্যবস্থা তৈরি করার কথা যেখানে একেবারে তৃণমূল থেকে শাসন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ হবে। নিচ থেকে সমস্ত কার্যবিধি নিয়ন্ত্রিত হবে, প্রণীত হবে, কার্যবিধি সঞ্চারিত হবে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রনীতি হিসেবে রূপ পাবে। এটাই বাস্তবায়ন করতে হবে। মহান মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি এবং সকল ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছিল তা রক্ষার তাগিদ দেন সুলতানা কামাল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত খ্রিস্টিয়ান ফচ্ বলেন, বাংলাদেশে দারিদ্র বিমোচনের জন্য আমরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা দিচ্ছি। তিনি এসডিসি-এর ২০১৩ থেকে ২০১৫ সনে বাংলাদেশে ২৭৭টি ইউনিয়ন পরিষদে সহযোগিতার উল্লেখ করে বলেন, যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা এবং জনগণের সচেতনতা বাড়ানো গেছে সেখানে শতকরা ১৮ ভাগ হারে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে। সংরক্ষিত আসনের নারী প্রতিনিধিরা সাধারণ আসনের পুরুষ জনপ্রতিনিধিদের সমান ক্ষমতা ভোগ করছে না এবং সংরক্ষিত আসনে নারীরা আবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইউনিয়ন পরিষদে নারীর  প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায় এটা তাদের জন্য করুণা নয়। এটা তাদের তাদের অধিকার। এটা পুরুষ নীতি নির্ধারকদের উপলব্ধি করতে।

তিনি বলেন, এক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নারীরা যারা সংরক্ষিত আসনে লড়াইয়ে অংশ নেয়, পরে তারা অংশ নিতে চায় না। আমরা দেখেছি ১৯৯৭ সালে ৪৩ হাজার ৯৬৯ জন নারী নির্বাচনে অংশ নেয়। পরে ২০০৭ সালে তার থেকে ২০০ নারী নির্বাচনে অংশ নেয়নি। কিন্ত কেন, সেটা পর্যালোচনার বিষয়।

তিনি বলেন, নারীদের জন্য সংরক্ষণ পদ্ধতিটি ত্রুটিপূর্ণ। এটা নারীর ক্ষমতায়ন বিকাশে সহায়ক নয়। এক্ষেত্রে তিনি ভারতের ঘূর্ণায়মান পদ্ধতি চালুর পক্ষে মত দেন, যে পদ্ধতিতে নারীরা সাধারণ আসনের সমান ক্ষমতা ও মর্যাদা ভোগ করেন।

বিআইজিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিআইজিডির গবেষক সিমিন মাহমুদ এবং সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (এসডিসি)-এর কর্মসূচি কর্মকর্তা মেলিনা ত্রিপোলিনী । এছাড়া বেশ দুই জন ইউপি চেয়ারম্যান ও একজন সংরক্ষিত নারী প্রতিনিধি নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

সেমিনারে ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব আহরণ, নারীর প্রতিনিধিত্ব এবং উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত দপ্তরসমূহের জবাবদিহিতা বিষয়ে তিনটি পৃথক গবেষণা প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন ড. সুলতান হাফিজ রহমান, মাহিন সুলতান এবং ড. মির্জা হাসান। ড. সুলতান হাফিজ তার উপস্থাপনায় করমূল্যায়ন প্রশিক্ষণসহ স্থানীয় সরকারের জনবল ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কর আদায়ে স্থানীয় সরকারের সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণের পক্ষে মত দেন। ড. মির্জা হাসান তার উপস্থাপনায় স্থানীয় সরকারে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্তিকে সকল সমস্যার মা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের সদস্যগণ সত্যিকার অর্থে ক্ষমতায়িত নন। তারা সরকারি কর্মকর্তাদের বার্ষিক পারফরম্যান্স প্রতিবেদন লিখেন না, বেতন দানে তাদের এখতিয়ার নেই, তাদের কাছে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নেই, এবং উপজেলা পরিষদের তহবিল নিয়ন্ত্রণেও তাদের কোন ক্ষমতা নেই। তিনি আরও বলেন যে, সংসদ সদস্যগণ স্থানীয় সরকারের সকল বিষয়ে নাক গলান। ড. আখতার হোসেন উপজেলা পরিষদে হস্তান্তরিত দপ্তর প্রসঙ্গে বলেন, কার্যকর অর্থে কোন দপ্তরই হস্তান্তরিত হয়নি। তবে হস্তান্তর এবং জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতায়িত করার প্রচেষ্টা চালু রাখতে হবে। তিনি জনপ্রতিনিধিদের কাছে নিয়োগদানের কর্তৃত্ব রাখা এবং স্থানীয় সরকারের একটি সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করার পক্ষে মত দেন।

রাজশাহী জেলার দুটি থানার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এ গবেষণাপত্র তৈরি করা হয়। তাই অনুষ্ঠানে গবেষণার পরিধি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন।



পাঠকের মতামত...

Top