Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, বুধবার, ১৩ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৪শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

ইউএন-রেড বাংলাদেশ জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত


প্রকাশঃ ১০-০৮-২০১৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ১০-০৮-২০১৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

image-0-02-01-93e4b2ad156afe4ec067937b246ad7e89957e6a4b9e5a80ba359e3ccfe02ac81-Vঅনলাইন ডেস্ক : ইউএন-রেড বাংলাদেশ জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে এক কর্মশালা ০৩ অগাস্ট ২০১৬-তে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়াধীন বাংলাদেশ বন বিভাগের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এর সহযোগিতায় রাজধানীর হোটেল রেডিসনে অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালার মাধ্যমে সরকারের “বন উজাড় ও বনের অবক্ষয় রোধ করার দ্বারা কার্বন নিঃসরণ হ্রাস”-সংক্ষেপে রেডপ্লাস বাস্তবায়নের যাত্রাপথে আর এক ধাপ অগ্রগতির একটি মাইলফলক খচিত হয়। এই কর্মসূচি বর্তমানে জাতিসংঘের তিনটি সংস্থার সমন্বয়ে বিশ্বের ৬৪টি উন্নয়নশীল দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউএন-রেড বৈশ্বিক কার্যক্রমে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যোগ দান করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে যথাযথ ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করে বিশ্বসভায় বেশ সমাদৃত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিহত করার এই চলমান যুদ্ধে, বাংলাদেশ সরকারের মুখ্য সংস্থা তথা পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের সাথে ইউএন-রেড বাংলাদেশ জাতীয় কর্মসূচি যুক্ত করেছে জাতিসংঘের বিশেষায়িত দুটি সংস্থাকে- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার দ্বারা জাতিসংঘের এই সংস্থাগুলো জাতীয় কর্মসূচিটি বাংলাদেশ সরকারকে রেডপ্লাস নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সক্ষম করে তুলতে সকল প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রদান করবে। বাংলাদেশ বন বিভাগের আয়োজনে এই কর্মশালায় প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেছেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব- জনাব ডঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ। মিস পলিন থেমেসিস, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ইউএনডিপি এবং মিঃ ডেভিড ডুলান, বাংলাদেশ প্রতিনিধি (ভারপ্রাপ্ত), এফএও সম্মানিত অতিথি হিসেবে এ আয়োজনে সামিল হয়। বাংলাদেশ বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক, জনাব মোঃ ইউনুছ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, সরকারী সংস্থা ও বিভাগসমূহ সহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, এনজিও, সুশীল সমাজ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ যোগদেন। ইউএন-রেড কর্মসূচি শুধুমাত্র কার্বন নিঃসরণের মাত্রা হ্রাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রান্তিক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবিকায়ন নিশ্চিত করে একটি দেশের দারিদ্র্য নির্মূলে অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের মত ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশের জন্য তার বিশাল বন র্নিভর জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই হল রেডপ্লাস বাস্তবায়নের ফলে অর্জিত অতিরিক্ত সক্ষমতাসমূহ।“ স্বাগত বক্তব্যে বলেন প্রধান বন সংরক্ষক, জনাব মোঃ ইউনুছ আলী।
ইউএন-রেড বাংলাদেশ জাতীয় কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক, জনাব মোঃ রকিবুল হাসান মুকুল এ প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পাশাপাশি কিভাবে সেগুলো বাংলাদেশ সরকারের রেডপ্লাস বাস্তবায়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে তা তুলে ধরেন।
“জলবায়ু পরিবর্তন আজ বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে সুস্পষ্ট একটি চ্যালেঞ্জ যা সরকারকে অবিলম্বে জলবায়ু পরিবর্তন দুর্যোগ প্রতিরোধে জনগনের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি; দেশের জানমাল, সম্পদ ও অবকাঠামো সুরক্ষায় কার্যকরী জাতীয় বিনিয়োগ কৌশল প্রণয়ন সহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সকল নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় উদ্ভাবনী অর্থায়নে উদ্বুদ্ধ করছে।” বললেন কর্মশালার প্রধান অতিথি, সচিব মহোদয় ।
মিস পলিন থেমেসিস, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) পক্ষে বন উজাড় ও বনের অবক্ষয় রোধে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে বাংলাদেশে রেডপ্লাস বাস্তবায়নের অভিযানে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।তিনি বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইউএনডিপির চলমান ও সম্পন্ন বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্জিত সাফল্যের কথা বিশেষভাবে আলোকপাত করেন। এছাড়াও তার বক্তব্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)যেমনঃ জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ (লক্ষ্য ১৩); স্থলভূমির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন (লক্ষ্য ১৫); দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন(লক্ষ্য ১২)ইত্যাদি অর্জনে জঊউউ+ বাস্তবায়নের সুদূরপ্রসারী ভুমিকার প্রসঙ্গ গুরুত্ব পায়।
মিঃ ডেভিড ডুলন, এ প্রকল্পে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় এফএওর ভূমিকাকে প্রাধান্য দেন। তিনি জাতীয় বন মনিটরিং সিস্টেম এবং রেড+ প্রক্রিয়া এর গুরুত্ব প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি টেকসই বন ব্যবস্থাপনার উপর জোর দেন।
মুক্ত আলোচনায় অধিবেশনে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বন ব্যবস্থাপনায় বন বিভাগের দক্ষতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বন নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী বিশেষ করে আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে রেড+ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।



পাঠকের মতামত...

Top