Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, রবিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

সৈয়দ শামসুল হকের লেখা জনপ্রিয় গানগুলো (ভিডিও)


প্রকাশঃ ২৮-০৯-২০১৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ২৯-০৯-২০১৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ

shamsul-huq-bg2016092815032কাগজ বিনোদন প্রতিবেদক: সৈয়দ শামসুল হক কখনও গান লিখতে চাননি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি একথা জানিয়েছেন। চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের বাজেট বাঁচাতে প্রথম গান লিখতে হয়েছিলো তাকে।

সব্যসাচী লেখকের বেশকিছু গান দেশীয় সংগীত ভান্ডারের অন্যতম সম্পদ। হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কালজয়ী গানগুলো প্রবীণদের মতো নতুন প্রজন্মকেও সমান আলোড়িত করে।

প্রয়াত সুরকার সত্য সাহার সঙ্গেই গান নিয়ে বেশি কাজ করেছেন সৈয়দ শামসুল হক। এ ছাড়া আলম খান, আবদুল আহাদ, সমর দাস, বশীর আহমেদও তার লেখা গান সুর করেছেন।

প্রয়াত এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার লেখা কয়েকটি গানের ভিডিও দেওয়া হলো এখানে। শুনতে পারেন।

* তুমি আসবে বলে কাছে ডাকবে বলে

সৈয়দ শামসুল হকের লেখা প্রথম গান এটি। ১৯৬১ সালে ফরাশগঞ্জে একটি বাড়ির চিলেকোঠায় মেসে থাকতেন সত্য সাহা। সেখানে একসঙ্গে বসেই গানটি সাজান তারা। ‘সুতরাং’ ছবির গানটি গেয়েছেন আঞ্জুমান আরা বেগম। শেষ মুখরাটুকু কাজী আনোয়ার হোসেনের গাওয়া। এ ছবির চিত্রনাট্য, সংলাপ এবং সব গান সৈয়দ হকের লেখা। ওই মেসে বসেই সব গান লিখেছিলেন তিনি এবং সবই শ্রোতাপ্রিয় হয়।

* নদী বাঁকা জানি

সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ ছবির এ গানটির মাধ্যমে প্রথম একসঙ্গে প্লেব্যাক করেন দুই ভাইবোন মুস্তাফা জামান আব্বাসী ও ফেরদৌসী রহমান। এর কথা এমন- ‘নদী বাঁকা জানি, চাঁদ বাঁকা জানি, তাহার চেয়ে আরও বাঁকা তোমার ছলনা’।

* এই যে আকাশ, এই যে বাতাস

‘সুতরাং’ ছবির এ গানটি দ্বৈতকণ্ঠে গেয়েছিলেন আব্দুল আলীম ও কাজী আনোয়ার হোসেন। এর কথা এমন- ‘এই যে আকাশ, এই যে বাতাস, বউ কথা কও সুরে যেন ভেসে যায়, বেলা বয়ে যায়, মধুমতি গাঁয় ওরে মন ছুটে চল চেনা ঠিকানায়’।

* এমন মজা হয় না, গায়ে সোনার গয়না

‘সুতরাং’ ছবিতে শিশুশিল্পী আলেয়া শরাফী গেয়েছিলেন ‘এমন মজা হয় না, গায়ে সোনার গয়না, বুবুমণির বিয়ে হবে বাজবে কত বাজনা’।

* যার ছায়া পড়েছে

সুভাষ দত্তের আরেক ছবি ‘আয়না ও অবশিষ্ট’র জন্য সৈয়দ হক লিখেছিলেন ‘যার ছায়া পড়েছে মনেরও আয়নাতে, সে কি তুমি নও, ওগো তুমি নও’। সত্য সাহার সুরে এটি গেয়েছিলেন ফেরদৌসী রহমান। এ প্রজন্মের কাছেও গানটি ভীষণ জনপ্রিয়।

* হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস

‘বড় ভালো লোক ছিলো’ ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপের সঙ্গে সব গান লিখেছিলেন সৈয়দ হক। এর মধ্যে আলম খানের সুরে এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস’ মানুষের শেষ গন্তব্য নিয়ে। সবশ্রেণীর শ্রোতার মুখে মুখে আজও ফেরে এটি।

* তোরা দেখ দেখ দেখরে চাহিয়া

১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ ছবিতে সৈয়দ হকের এ গানটিও গেয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। এর কথা এমন- ‘তোরা দেখ দেখ দেখরে চাহিয়া, রাস্তা দিয়া হাঁইটা চলে রাস্তা হারাইয়া’।

* আমি চক্ষু দিয়া দেখতাছিলাম

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ ছবিতে এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘আমি চক্ষু দিয়া দেখতাছিলাম জগৎ রঙ্গিলা’ সৈয়দ হকের আরেকটি কালজয়ী গান। ছবিটিতে তার কথায় ‘চাম্বেলিরও তেল দিয়া কেশ বান্ধিয়া’ রুনা লায়লা ও বিপুল ভট্টাচার্য এবং ‘পাগল পাগল মানুষগুলো পাগল সারা দুনিয়া, কেহ পাগল রূপ দেখিয়া, কেহ পাগল শুনিয়া’ একক কণ্ঠে গেয়েছিলেন রুনা লায়লা।

* অনেক সাধের ময়না আমার

‘ময়নামতি’ ছবির গানটি গ্রিন রোডে পরিচালক কাজী জহিরের বাসায় বসে লিখেছিলেন সৈয়দ হক। বশীর আহমেদের সুর ও কণ্ঠে এর কথা এমন- ‘অনেক সাধের ময়না আমার বাঁধন কেটে যায়, মিছে তারে শিকল দিলাম রাঙা দুটি পায়’।

* কারে বলে ভালোবাসা

‘মান সম্মান’ ছবির জন্য সৈয়দ হকের লেখা এ গানটি আলম খানের সুরে গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। এর কথা এমন- ‘কারে বলে ভালোবাসা কারে বলে প্রেম, মিলনে বিরহে আমি জানলেম, লোকে বলে ভালোবাসা আমি বলি ভাঙ্গাবাসা, তাকে হারালেম সবই হারালেম’।

* চাঁদের সাথে আমি দেবো না

‘আশীর্বাদ’ ছবির জন্য সৈয়দ হকের কথা ও আলম খানের সুরে রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া এটিকে ভাবা হয় দেশীয় চলচ্চিত্রের সেরা ১০টি প্রেমের গানের মধ্যে অন্যতম। এরপর বহু বছর আর কোনো গান লেখেননি সৈয়দ হক। তবে চলতি বছরের গোড়ার দিকে ‘মাটির ঘরে চাঁদ নেমেছে’ শিরোনামের একটি গান লিখেছিলেন ‘বাসর হবে মাটির ঘরে’ ছবির জন্য। আলাউদ্দিন আলীর সুর-সংগীতে এতে কণ্ঠ দেন রুনা লায়লা ও সুবীর নন্দী।



পাঠকের মতামত...

Top