Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, সোমবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৬ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী

ধার-দেনা করে পুঁজিবাজারে না আসার পরামর্শ


প্রকাশঃ ১৯-০১-২০১৭, ৭:১১ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ১৯-০১-২০১৭, ৭:১১ অপরাহ্ণ

dhakaকাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: ছয় বছর পর পুঁজিবাজারে তেজিভাবের কারণে অনেকে আগ্রহী হওয়ায় খরচের অতিরিক্ত টাকা বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমান বৃহস্পতিবার এক সম্মেলনে ব‌্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের এই পরামর্শ দেন।

প্রায় দুই সপ্তাহ তেজি ভাবের পর বুধবার থেকে পুঁজিবাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। টানা দুই দিন লেনদেন কমেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বাজারে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির মৌলভিত্তি দেখেই বিনিয়োগ করতে হবে।

“ধার-দেনা করে, বোনের গয়না বেচে, বাড়ির গরু বেচে বিনিয়োগের দরকার নেই। খরচের অতিরিক্ত টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের করতে হবে।”

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসে অনেকে সর্বস্ব হারিয়েছিলেন। এরপর গত ছয় বছর ধরে বাজার পড়তির দিকে হলেও এই বছরের শুরু থেকে তেজিভাব দেখা যাচ্ছে।

পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসইর ডাকা এই সংবাদ সম্মেলনে রকিবুর বলেন, সূচক ও লেনদেন যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে পাচ্ছে, তাতে ‘ভয়ের কোনো কারণ নেই’।

“তবে মনে রাখতে হবে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কোম্পানি সম্পর্কে জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করতে হবে।”

গত কয়েকদিনের তেজিভাবে অনেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হওয়ায় ব্রোকারেস হাউসগুলোতে ভিড় বেড়েছে। অনেকে আগের মতো ধার করে কিংবা সম্পত্তি বিক্রি করে বিনিয়োগ করতে চাইছেন বলেও খবর এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব‌্যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘জেনে-বুঝে’ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

পুঁজিবাজারের এই উল্লম্ফনের বিষয়ে রকিবুর বলেন, “বিগত কয়েক বছর দেশের অর্থনীতি যে পরিমাণে এগিয়েছে, পুঁজিবাজার সেই গতিতে নিচের দিকে নেমেছে।

“কিন্তু এই সময়ে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কার হয়েছে। যার ফলে দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। প্রতিদিনই বিনিয়োগকারীরা শেয়ার হাত-বদল করছেন। যার ফলে বাজারের লেনদেন ও সূচক উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসই পরিচালক বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে মনে করছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পুঁজিবাজার বড় অবদান রাখতে পারে। যার ফলে বাজারের প্রতি তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অর্থনীতিতে সে দেশের পুঁজিবাজারের অবদান ৭০ শতাংশ, আর আমাদের দেশে সেটি মাত্র ১৯ শতাংশ। আমাদের অর্থনীতি বড় হচ্ছে। আর এই বড় অর্থনীতিতে পুঁজিবাজার ভূমিকা রাখতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।”

অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে ‘পুঁজিবাজারকেও এগিয়ে নিতে হবে’, বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রকিবুরের সঙ্গে ডিএসইর চেয়ারম্যান বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান, পরিচালক আবুল হাশেম, পরিচালক রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।



পাঠকের মতামত...

Top