Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, রবিবার, ২৩শে জুলাই, ২০১৭ ইং | ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাওয়াল, ১৪৩৮ হিজরী

স্তন ক্যানসার শনাক্তের সহজ পদ্ধতি আবিষ্কার


প্রকাশঃ ২১-০১-২০১৭, ১২:১৪ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ২১-০১-২০১৭, ১২:১৪ অপরাহ্ণ

18

কাগজ অনলাইন ডেস্ক: সীমিত খরচেই স্তন ক্যানসারের পরীক্ষা। মাত্র দুই হাজার টাকায় জানা যাবে স্তন ক্যানসার হয়েছে কিনা। এ অবস্থায় সমস্যার সমাধান নিয়ে এলো অপ্রচলিত একটি পরীক্ষা। স্তনের ‘মিল্ক ডাক্টে’ চুলের মতো সরু যন্ত্র ঢুকিয়ে যাচাই করলেই ধরা পড়বে স্তন ক্যানসার।

ডাক্টোস্কোপি। কিছু কিছু দেশে পদ্ধতিটির ব্যবহার এখনও বিরল। প্রধান কারণ-অনেক ব্যয় ও যন্ত্রের গুণগত মান সম্পর্কে সংশয়। আমেরিকা প্রবাসী এক বাঙালি বিজ্ঞানীর দাবি, তাঁর সংস্থা কম খরচে ডাক্টোস্কোপির সুযোগ দেবে।

তিন জায়গায় পরীক্ষামূলক ভাবে যন্ত্রটির ব্যবহার চলছে। টাটা মেডিক্যালের চিকিৎসক রোজিনা আহমেদ জানায়,  আমরা কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষাটি করছি। কয়েকটা কেসে ক্যানসার ধরাও পড়েছে।

ডাক্তারদের একাংশের বক্তব্য, স্তনে টিউমার তৈরি হলে তবেই ম্যামোগ্রামে ধরা পড়ে। তবে দেরি হলে বহু ক্ষেত্রে রোগ অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। ডাক্টোস্কোপিতে টিউমার হওয়ার আগেই আভাস পাওয়া সম্ভব। ফলে নিরাময়ের সম্ভাবনা বেশি। আবার অন্য অংশের মতে, রোগ না-থাকলে কেউ ডাক্টোস্কোপি’র মতো ‘ইনভেসিভ’ (শরীরের ভিতরে যন্ত্র ঢুকিয়ে) প্রক্রিয়ায় উৎসাহী হবে না।

তাদের মতে, স্রেফ ক্যানসার হওয়ার ভয়ে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ব্রেস্ট বাদ দিয়েছেন। দুনিয়া জুড়ে সাড়া পড়েছে। ক্যানসারের নেপথ্যে থাকা বিআরসিএ জিন নিয়ে চর্চা হচ্ছে। ডাক্টোস্কোপি’তে বিপদের সঙ্কেত আরও সহজে পাওয়া যাবে। যাঁদের পরিবারে এক বা একাধিক ক্যানসার রোগী (অর্থাৎ হাই রিস্ক গ্রুপ), তাঁদের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি খুবই ফলদায়ী। বিজ্ঞানী মনে করেন, সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রে সস্তার ডাক্টোস্কোপি চালু হলে বহু জীবন বাঁচতে পারে।

অপূর্ব নামে এক গবেষক জানিয়েছেন, এতে যন্ত্রণা বা রক্তক্ষরণ হয় না। দু’টি স্তন মিলিয়ে সময় লাগবে পঁয়তাল্লিশ মিনিট। এমন ভাবে যন্ত্রটা বানিয়েছি যে, হাসপাতালে মজুত সরঞ্জাম দিয়েই পরীক্ষা হবে। খরচ সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা। প্রি ক্যানসারাস সেলের অস্তিত্ব মালুমের পাশাপাশি স্তনে অন্য অস্বাভাবিকতা থাকলে ডাক্টোস্কোপি তাও বলে দিতে পারে।

অপূর্ব চল্লিশ বছর যাবৎ আমেরিকায়। বার্কলের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় গবেষণা শুরু করেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল সরঞ্জাম নিয়ে গবেষণা করেন। এরই ফলশ্রুতি কম খরচে ডাক্টোস্কোপি’র যন্ত্র।

ভিন্নমতও আছে। যেমন ক্যানসার সার্জন সৈকত গুপ্তের জবাব, ডাক্টোস্কোপিতে প্রি-ক্যানসারাস অবস্থা বোঝা গেলেও এক-দু’সেন্টিমিটারের বেশি গভীরে কিছু বোঝা যায় না। ব্রেস্ট কনসালট্যান্ট তাপ্তি বলেন, ডাক্টোস্কোপি’র খরচ তিরিশ-চল্লিশ হাজার টাকা। কম খরচে করা গেলে কিছু ভাবা যেতে পারে। ক্যানসার সার্জন গৌতম মুখোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, খুবই সূক্ষ্ম বিষয়। আগে প্রশিক্ষিত কর্মী দরকার। নচেৎ হিতে বিপরীত হবে।



পাঠকের মতামত...

Top