Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, সোমবার, ১৭ই জুন, ২০১৯ ইং | ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

মাইকেল মধুসূদন দত্ত’র ১৯৩ তম জন্মদিন আজ


প্রকাশঃ ২৫-০১-২০১৭, ১২:০৯ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ২৫-০১-২০১৭, ১২:০৯ অপরাহ্ণ

image-3কাগজ অনলাইন ডেস্ক: সতত, হে নদ তুমি/ পড় মোর মনে/ সতত তোমার কথা/ ভাবি এ বিরলে… দূর প্রবাসে বসে কবি শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদ নিয়ে কবিতা লিখে কালজয়ী হয়েছেন। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অমিত্রাক্ষর (সনেট) ছন্দের প্রবর্তক বাংলা সাহিত্যের মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। বাবা জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল ছিলেন। জমিদার ঘরে জন্মগ্রহণ করেও শুধুমাত্র সাহিত্যকে ভালোবেসে মধুসূদন সমাজ সংসার থেকে পেয়েছেন বঞ্চনা আর যন্ত্রণা। সাহিত্যে অমর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মহাকবির স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।

১৯৩ তম জন্মদিনেও চিরভাস্বর মাইকেল মধুসূদনের অমর সৃষ্টি। যুগ যুগ ধরে মানুষের অন্তর জুড়ে রয়েছেন তিনি। মধুসূদনের শৈশব, শৈশর, যৌবন আর শেষ জীবন ছিল ঘটনাবহুল।

জানা যায়, মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্ববধানে শিক্ষা আরম্ভ হয় মাইকেল মধুসূদন দত্তের। প্রথমে তিনি সাগরদাঁড়ির পাঠশালায় পড়াশুনা করেন। পরে সাত বছর বয়সে কলকাতার খিদিরপুর স্কুলে ভর্তি হন। এরপর ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। এই কলেজের অধ্যয়নরত অবস্থায় বাংলা, সংস্কৃত, ফারসি ভাষা শেখেন। ১৮৪৪ সালে তিনি বিশপস কলেজে ভর্তি হন। ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত ওই কলেজে অধ্যয়ন করেন। এখানে তিনি ইংরেজি ছাড়াও গ্রিক, ল্যাটিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখার সুযোগ পান। এসময় ধর্মান্তরের কারণে মধুসূদন তার আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তার পিতা এসময় অর্থ পাঠানো বন্ধ করে দেন। তাই অগত্যা ১৮৪৮ সালে ভাগ্যান্বেশষণে মাদ্রাজ গমন করেন তিনি। ১৮৪৮-৫২ সাল পর্যন্ত মাদ্রাজ মেইল অরফ্যান অ্যাসাইলাম স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এরপর ১৮৫৬ সাল পর্যন্ত মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। এসময় সাংবাদিক ও কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। একই সঙ্গে হিব্র, ফরাসি, জার্মান, ইটালিয়ান, তামিল ও তেলেগু ভাষা শিক্ষাগ্রহণ করেন। মাদ্রাজে অবস্থান কালে প্রথমে রেবেকা ও পরে হেনরিয়েটা’র সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ১৮৬২ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে বিলেত গমন করেন এবং গ্রেজ ইন এ যোগদান করেন। ১৮৬৩ সালে প্যারিস হয়ে ভার্সাই নগরীতে যান। এরপর ১৮৬৫ সালে আবার ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন। ১৮৬৬ সালে গ্রেজ ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন। ১৮৬৭ সালে দেশে ফিরে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৮৭০ সালে হাইকোর্টে অনুবাদ বিভাগে যোগদান করেন। ১৮৭২ সালে কিছুদিন পঞ্চকোর্টের রাজা নীলমণি সিংহ দেও এর ম্যানেজার ছিলেন। এখানে কিছুদিন কাজ করার পর  পুনরায় আইন পেশায় যোগদান করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সাহিত্য কর্মের মধ্যে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ১২টি গ্রন্থ এবং ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ৫টি গ্রন্থ রয়েছে। Timothy PenPoem ছন্দনামে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ, The Captive ladie (১৮৪৮), দ্বিতীয় গ্রন্থ vissions of The past। পদ্মবতী নাটক, তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য, মেঘনাদ বধ মহাকাব্য, বীরাঙ্গনা (১৮৬২), কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১), ব্রজাঞ্জনা (১৮৬১), হেক্টের বধ (১৮৭১), মায়াকানন (১৮৭৩), বঙ্গভাষা’কপোতাক্ষ নদ’ ইত্যাদী সনেট। এই সনেটগুলো ১৮৬৬ সালে চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলী নামে প্রকাশিত হয়। দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকটি তিনি ইংরেজি অনুবাদ করেন। Eurasion (পরে eastern Guardian), Madras Circulator and General Chronicle I Hindu Chronicle এর সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ১৮৪৮-১৮৫৬ সাল পর্যন্ত। ১৮৬২ সালে তিনি হিন্দু প্যার্টিয়ট পত্রিকার সম্পাদনা করেন। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় মারা যান মহাকবি মাইকেল মধুসূদন। মৃত্যুর পর ভাইয়ের মেয়ে কবি মানকুমারি বসু ১৮৯০ সালে মহাকবির প্রথম স্মরণসভার আয়োজন করেন সাগরদাঁড়িতে। সেই থেকে শুরু হয় মধু মেলার। এর ধারাবাহিকতায় এবারও মধুসূদন দত্তের ১৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্টপোষকতা ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাগরদাঁড়িতে শুরু হয়েছে সপ্তাহ ব্যাপি মেলা শুরু হয়েছে। মেলা চলবে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত সাগরদাঁড়ি।



পাঠকের মতামত...

Top