Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং | ৭ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
মুদ্রানীতি ঘোষণা

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, সূচক কমেছে দুই পয়েন্ট


প্রকাশঃ ২৯-০১-২০১৭, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ২৯-০১-২০১৭, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

stockকাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: সূচকের ব্যাপক দরপতন দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুনের) মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে রবিবার (২৯ জানুয়ারি)। আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ১১৭ পয়েন্ট।

লেনদেনের শুরুতে রবিবার ডিএসইএক্স ছিল ৫৬১৮.৬৪ পয়েন্ট। দিনশেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫০০.৮৫ পয়েন্টে। একদিনেই ডিএসইর প্রধান এ সূচকটির পতন হয়েছে ১১৭.৭৯ পয়েন্ট। ডিএসইর পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় প্রধান শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের বড় ধরনের পতন হয়েছে। সিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ২৫২ পয়েন্ট।

সম্প্রতি শেয়ারবাজারে কিছুটা গতির সঞ্চার হয়েছিল। তবে রবিবার সেই গতির বিপরীতে বড় ধরনের হোঁচট দেখা গেল পুঁজিবাজারে।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই দরপতনকে আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন হিসেবে দেখলেও মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রভাব বলেও মনে করছেন। আজ মুদ্রানীতি ঘোষণায় শেয়ারবাজারে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর—এটাও বাজারে সূচক পতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তারা।

রবিবার দিনের শুরুতে মূল্য সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টায় নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকেই পাল্টে যায় পুঁজিবাজারের দৃশ্যপট। একের পর এক কোম্পানির দর কমতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দরপতন ঘটতে শুরু করে বাজারে। এই পতন থেকে আর বের হয়ে আসতে পারেনি শেয়ারবাজার। মূল্য সূচকের বড় ধরনের পতন দিয়েই শেষ হয় দিনের লেনদেন।

অবশ্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে তেমন কোনো পরিবর্তনই আনা হয়নি। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মু্দ্রানীতিতে পরিবর্তন না হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির শেয়ারবাজার পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গভর্নরের বক্তব্যের কারণেই বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় গভর্নর বলেছেন, ২০১০ সাল থেকে বিরাজমান মন্দাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসছে শেয়ারবাজার। এই প্রক্রিয়াটি যাতে সুস্থ ধারায় থাকে সে জন্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি করা অতীব জরুরি। না হলে অতীতের মতো এবারও প্রলুব্ধ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশঙ্কা থাকবে।

ডিএসইর পরিচালক ও সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান বলেছেন, মুদ্রানীতি ঘোষণা করার সময় শেয়ারবাজার নিয়ে গভর্নরের করা মন্তব্যের কারণেই বাজারে বড় দরপতন হয়েছে। তিনি যে ধরণের নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন, তা এ মুহূর্তে কোনো দরকার নেই। নেতিবাচক কথা বললে বাজারে এর একটি প্রভাব পড়বেই।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রবিবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ২৭৫টিরই দরপতন হয়েছে। অপরদিকে, ৪৭টির দাম বেড়েছে এবং ৫টি কোম্পানির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ডিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৩২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। লেনদেন হওয়া ২৬৩টি ইস্যুর মধ্যে দাম বেড়েছে ৪২টির, কমেছে ২১৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির।



পাঠকের মতামত...

Top