Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, রবিবার, ১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৭ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান দিতে হবে


প্রকাশঃ ৩১-০১-২০১৭, ৮:২৯ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ৩১-০১-২০১৭, ৮:২৯ অপরাহ্ণ

barnicutকাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট রোহিঙ্গা সমস্যাকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এ সমস্যা ওই দেশের (মিয়ানমার) নিজস্ব, তাই সমাধানও তাদেরকেই দিতে হবে।

রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট আজ মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে শুরু থেকেই মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে উল্লেখ করে বার্নিকাট বলেন, ‘তার দেশ আগামী দিনগুলোতেও এ চাপ অব্যাহত রাখবে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ মানবিক সহযোগিতা দিচ্ছে এটা খুবই প্রসংশনীয়।’

তিনি বলেন- রোহিঙ্গা সমস্যার পথ খুঁজতে ও তাদের অবস্থান জানতে তিনি ক্যাম্প পরির্দশনে এসেছেন।

আন্তাজার্তিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশ অফিসের প্রধান পেপি ছিদ্দিকী, টেকনাফস্থ বিজিবি ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ, উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাউলা মারমা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন।।

সকাল ১০টায় লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসার পরপরই মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা বস্তি ঘুরে দেখেন। এরপর আইওএম কার্যালয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১৮ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সাথে কথা বলেন। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত টেকনাফের নয়াপাড়ার নিবন্ধিত শিবির পরিদর্শনে যান।

টেকনাফে লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তির সভাপতি মো. দুদু মিয়া বলেন, ‘লেদা ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা বার্ণিকাটকে তাদেও দুঃখ-দুর্দশার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন- মিয়ানমার সেনাবাহিনী সন্ত্রাসীদের ধরার নামে রোহিঙ্গাদের হত্যা ধর্ষণ নির্যাতনে লিপ্ত রয়েছে। যেদিন যে পাড়ায় খুশি ঢুকে পড়ছে। তারা কিশোরী যুবতীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। মালমাল লুট করছে, ঘরে আগুন দিচ্ছে। রোহিঙ্গারা প্রাণে বাচঁতে এপারে প্রবেশ করেছে। এখানে তাদের জন্য কোন খাবার নেই, থাকার ব্যবস্থা নেই।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সোমবার বিকালে কক্সবাজারে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এম এম রেজওয়ান হোসেন এবং জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন এর সঙ্গে বৈঠক করেন।

উল্লেখ্য গত বছর অক্টোবরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের পুলিশ ফঁড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় ৯জন নিহত হয়। এ ঘটনার জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দায়ী করে রাখাইন রাজ্যে কথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে’ নামে দেশটির সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী বর্বরতা চালাচ্ছে। ফলে সীমান্ত অতিক্রম করে দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে।



পাঠকের মতামত...

Top