Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

ড. ইউনূসের কর ফাঁকির অনুসন্ধানে নেমেছে এনবিআর


প্রকাশঃ ৩১-০১-২০১৭, ১০:০৫ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ৩১-০১-২০১৭, ১০:০৫ অপরাহ্ণ

younusকাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও কর ফাঁকির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ১৭ নভেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান, তদন্তসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে একজন পরিচালক ও একজন উপ-পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কমিটি এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আয়কর রেকর্ড পরিষ্কার নয়। তার ঘোষিত আয়ের পরিমাণ, উৎস, পরিশোধিত কর, দান প্রদানসহ ইত্যাদি বিষয়ে রয়েছে নানা ধরনের অস্বচ্ছতা। বিগত এক দশকে তিনি যে পরিমাণ আয়ের ওপর কর দিয়েছেন এবং করমুক্ত আয়ের হিসাব দিয়েছেন, তার চেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে তার। যে কারণে একটি অনুসন্ধানী সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে দেশে-বিদেশে তার সম্পদের তথ্যের অনুসন্ধান করেছে। ওই সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও সংস্থার সঙ্গে এই নোবেলজয়ীর আর্থিক লেনদেন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুুল মুহিতও ড. ইউনূসের কর সুবিধা অপব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এনবিআর সূত্র জানায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও কর ফাঁকির বিষয়ে এনবিআর তদন্ত শুরু করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালীন বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকটির তহবিল স্থানান্তরের বিষয়টি আইনানুগভাবে হয়েছে কিনা; কিনটন ফাউন্ডেশনে দানকৃত অর্থের উৎস এবং সম্প্রতি রিও অলিম্পিকে মশাল বহনে তার দেওয়া চাঁদার উৎস, বকেয়া করদাবি পরিশোধ না করে হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত মামলাসমূহ মনিটর, দান গ্রহীতা তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ট্রাস্ট, ইউনূস ফ্যামিলি ট্রাস্ট ও ইউনূস সেন্টারের দান গ্রহণের প্রকৃতি, আয়ের অন্যান্য উৎস ও গৃহীত দান/অনুদান ব্যয়ের বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে এনবিআর।

আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ধারা ২ (২৫ এএ) ক্ষমতাবলে এনবিআর গ্রামীণ ব্যাংকের তথ্য অনুসন্ধান, তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য সংগ্রহ এবং ব্যাংকসহ যে কোনো প্রতিষ্ঠানে একক বা যৌথ নামে পরিচালিত লেনদেন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।

সূত্র জানায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০১১-১২ হতে ২০১৩-১৪ কর বছর মেয়াদে দান কর আইন, ১৯৯০-এর বিধান অনুুযায়ী প্রযোজ্য দান কর ফাঁকি দিয়ে তার নামে প্রতিষ্ঠিত তিনটি ট্রাস্ট যথাক্রমে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ট্রাস্ট, ইউনূস ফ্যামিলি ট্রাস্ট ও ইউনূস সেন্টারকে সর্বমোট ৭৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দান করেন। পরবর্তী সময়ে আয়কর বিভাগ দান কর আইন, ১৯৯০-এর ধারা ১০ অনুুুযায়ী তার উপরোক্ত দানের বিপরীতে প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা কর ধার্য করে।

সূত্র আরও জানায়, ড. ইউনূস কর বিভাগের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল কমিশনার ও কর ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মামলা করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।



পাঠকের মতামত...

Top