Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

চাঁদে সোনার খনি!


প্রকাশঃ ০৩-০২-২০১৭, ১২:৪১ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ০৩-০২-২০১৭, ১২:৪১ অপরাহ্ণ

Moon_1120170203104139কাগজ অনলাইন ডেস্ক: আজ থেকে ২০০ বছর আগে পশ্চিমা দেশগুলো উপনিবেশ স্থাপন করত। লুট করত ইচ্ছেমতো। তারপর লুণ্ঠিত সব সম্পদ নিয়ে যেত নিজেদের দেশে এবং দেশটিকে সাজাতো নিজেদের মতো করে।

ঠিক যেমন, ব্রিটিশরা প্রায় ২০০ বছর ধরে আমাদের ভারতবর্ষে লুটপাট চালিয়ে নিয়ে গেছে অনেক মূল্যবান সম্পদ। যেমন: মূল্যবান কোহিনূর হীরা এখন রয়েছে ব্রিটেনে। ময়ূর সিংহাসন অবশ্য নিয়ে যেতে পারেনি, সেটি কেড়ে নিয়েছে আরব সাগর।

তারপরও থেমে যায়নি মানুষ। তাদের লোভের কাছে হার মেনেছে দুনিয়ার সবকিছু। এমনকি চাঁদও রেহাই পাচ্ছে না। আগামী বছরের গোড়ার দিকে সেখানে যাচ্ছে মানুষ। লুটপাট চালাবে ইচ্ছেমতো, অবাধে। বাধা দেওয়ার যে কেউ নেই।

নবীন জৈন নামে এক ভারতীয়র প্রতিষ্ঠান মুন এক্সপ্রেস চাঁদে অভিযানের নেতৃত্ব দেবে। এ বছরের শেষ নাগাদ কয়েকটি মহাকাশ যান রওনা দেবে চন্দ্রাভিযানে। খুঁজে দেখা হবে চাঁদের মাটিতে কী কী আছে। মাটি খুঁড়ে দেখা হবে, নেওয়ার মতোই বা কী আছে।

মুন এক্সপ্রেসকে এরইমধ্যে চন্দ্র অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার চাঁদে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা। এ পর্যন্ত ধনাঢ্য লোকজনের কাছ থেকে চাঁদাও পেয়েছে ২০০০ কোটি ডলার। পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহটিতে এই অর্থ দিয়ে খনি খনন করা হবে। অনুসন্ধান করা হবে সোনা, প্লাটিনাম ও অন্যান্য বিরল সব মূল্যবান সম্পদের।

শুরুতেই এই অভিযান কিন্তু পুরোদমে শুরু করা হচ্ছে না। নবীন জৈনের মুন এক্সপ্রেস শুরুতেই সেখানে পাঠাচ্ছে ছোট আকারের রোবোটিক মাহাকাশ যান। এ বছরের শেষের দিকে সেটা রওনা দেবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে আসলে কী ধরনের সম্পদ আছে চাঁদে এবং কী পরিমাণে। উত্তর সন্তোষজনক হলে শুরু হবে মূল অভিযান।

মুন এক্সপ্রেসের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন নবীন জৈন আশা করছেন, চাঁদের মাটিতে পানি, হিলিয়াম-৩, সোনা, প্লাটিনাম তো পাওয়া যাবেই। এ ছাড়া অন্যান্য বিরল পদার্থও পাওয়া যেতে পারে।

‘চাঁদের মাটিতে এ বছরের নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরে ছোট রোবোটিক মহাকাশ যাওয়ার মতো অর্থ এরইমধ্যে মুন এক্সপ্রেসের হাতে এসেছে,’ সিএনবিসিকে বলেছেন মাইক্রোসফটের প্রাক্তন এই কর্মকর্তা।

চাঁদের মাটিতে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালানোর পর কোম্পানি নজর দেবে খনিজসম্পদের দিকে। তখন অবশ্য আরো অর্থের দরকার হবে।

প্রতিষ্ঠানটি এরইমধ্যে নাসার প্রকৌশলীদের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। মানুষের ব্যবহারের উপযোগী খনিজসম্পদ পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য। যদি পাওয়া যায়, তাহলে চাঁদকে একটি উপনিবেশ বানিয়ে ফেলা হবে।

মার্কিন সরকার গত বছর কোম্পানিটিকে বাণিজ্যিকভাবে চন্দ্রাভিযান পরিচালনার একটি লাইসেন্স দিয়েছে। এর আগে কাউকে এ ধরনের লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।

বেসরকারি এই অভিযান চালাতে খরচ পড়বে প্রায় ৩৬০০ কোটি পাউন্ড।

এতে সমর্থন দিচ্ছে ট্রাম্পের বিখ্যাত দাতা পিটার থিয়েল এবং প্রকৌশল সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অটোডেস্ক।



পাঠকের মতামত...

Top