Bhorer Kagoj logo
ঢাকা, শনিবার, ২৪শে জুন, ২০১৭ ইং | ১০ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রমযান, ১৪৩৮ হিজরী

বইমেলা দুপুর ১টা পযর্ন্ত শুধুই ওদের


প্রকাশঃ ০৩-০২-২০১৭, ১:২৪ অপরাহ্ণ | সম্পাদনাঃ ০৩-০২-২০১৭, ১:২৪ অপরাহ্ণ

boi-bg20170203125605কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক: বাবার হাত ধরে মেলায় ঢুকছিলো মুমতাহীনা দানিয়েল বিনতে হাসান। মুখে ভুবন ভোলানো হাসি। বাম হাতে বাবার ডান হাতটা শক্ত করে ধরা। কাছে গিয়ে ‘মা মণি একটু দাঁড়াবে’ বলতেই আপন খেয়ালে হাঁটতে থাকা বাবা দানিয়েল হাসান মাহবুবকে থামিয়ে দিল সে।

কী নাম, বয়স কত, কোন ক্লাসে পড়-? বাবার সাহায্য ছাড়াই এ প্রশ্ন গুচ্ছের ঠিক ঠিক উত্তর দিলো শিশু শ্রেণিতে পড়া ৫ বছর বয়সী মুমতাহীনা দানিয়েল বিনতে হাসান!

অতঃপর তার পাল্টা প্রশ্ন-তুমি কোন ক্লাসে পড়? রাজধানীর একটি মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. দানিয়েল হাসান মাহবুব মেয়ের এমন প্রশ্নে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বললেন বড়দের এটা জিজ্ঞেস করতে নেই মা!

হয়তো বা তাই! বড়দের এভাবে প্রশ্ন করতে নেই! কিন্তু পাঁচ বছর বয়সী শিশুর এ ধরনের প্রশ্নের মধ্যে যে কত মধু, কত সরলতা, কত মুগ্ধতার ফল্গুধারা বহমান- সেটা হয়তো দানিয়েল হাসানও কম জানেন না।

অমর একুশে গ্রন্থমেলার তৃতীয় দিন শুক্রবার (০৩ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ১১টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশদ্বার খোলার কিছুক্ষণ আগে দেখা হয় সুমাইয়া জামান অহনার সঙ্গে।

বাবা নুরুজ্জামানের হাত ধরে এবারের মেলার প্রথম শিশু প্রহরে হাজির সুমাইয়া। মেলার ঢোকার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের কোনো এক ছাত্র সুমাইয়ার বাম গালে সবুজ রং দিয়ে এঁকে দিয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

সাড়ে চার বছর বয়সী সুমাইয়া জামান অহনা প্লে-গ্রুপে পড়ছে। ছুটির দিন স্কুলে যেতে হয়নি। রাস্তাও ফাঁকা। তাই ব্যবসায়ী বাবা নুরুজ্জামান আদরের সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসেছেন।

মেলায় প্রবেশের আধা ঘণ্টা পর ফের দেখা অহনার সঙ্গে। এবার তার হাতে ছোট সোনামণিদের রঙিন “ঠাকুরমার ঝুলি’’ এবং ছোট সোনামণিদের শিক্ষামূলক গল্প ‘গল্পে গল্পে উপদেশ’।

নতুন বই পেয়ে বেজায় খুশি সুমাইয়া জামান অহনা। বইয়ের ব্যাগ হাতে ধরে নেচে নেচে পথ চলছে সে। শুক্রবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পযর্ন্ত শুধু অহনাদের জন্য। আজ যে শিশু প্রহর!

মেলার তৃতীয় দিন উভয়াংশের প্রবেশদ্বার খোলা হয়েছে সকাল ১১টায়। চলবে রাত সাড়ে ৮টা পযর্ন্ত। এর মধ্যে প্রথম দুই ঘণ্টা কেবল শিশুদের জন্য। এ সময় শিশুদের জন্য শুধু অভিভাবকরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন-এমন ঘোষণা দিলেও সকাল থেকেই নানা বয়সী মানুষ মেলায় অবাধে ঢুকতে পারছেন।

যারা শিশুদের নিয়ে আসছেন তারা তো বটেই। স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুযা ছাত্র/ছাত্রী, প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারী সবাই ঢুকতে পারছেন অমর একুশে গ্রন্থমেলায়।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিস্তৃত পরিসরে আয়োজিত এ মেলায় ধাক্কা-ধাক্কির কোনো সম্ভবনা নাই। শিশুরা অবাধে চলা-ফেলা করতে পারছেন অভিভাবকদের সঙ্গে।

প্রতিদিনের মতো আজও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলার মূল মঞ্চে রয়েছে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কোনো দর্শনী ও প্রবেশমূল্য ছাড়াই সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত।



পাঠকের মতামত...

Top