আলোচনার বাইরে পপি

শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০১৪

একটি ম্যাগাজিনের ফটো সুন্দরীর তকমা দিয়ে চলচ্চিত্রে নায়িকা সংকটের মুহ‚র্তে নায়িকা হিসেবে পপির আগমন। প্রথম ছবি ‘কুলি’ দিয়েই শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিলেন। এরপর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। মিডিয়াপাড়ার সবখানেই জোর আওয়াজ পড়ে যায় পপিকে নিয়ে। তাকে নিয়েই ছবি বানাতে হবে- এমন আগ্রহও বাড়তে থাকে প্রযোজক-পরিচালকদের মধ্যে। এভাবে বেশ দ্রুত আলোচনায় চলে আসেন পপি। এরই মধ্যে রূপালী পর্দায় প্রায় ১৭ বছর সময় পার করে ফেলেছেন। অভিনয় করেছেন দেড় শতাধিক ছবিতে। ক্যারিয়ারের ঝুলিতে রেখেছেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। কিন্তু শুরু থেকেই পপিকে নিয়ে মিডিয়ায় প্রচলিত আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে বেশ। নানাবিধ কারণে সমালোচনা হজম করতে হয়েছে তাকে। অনেকদিন ধরে বড় পর্দায় অনুপস্থিত থাকায় তাকে নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। দুই বছর আগে সর্বশেষ ‘গার্মেন্টস কন্যা’র মাধ্যমে বড় পর্দায় এসেছিলেন তিনি। এরপর পপির হাতে কোনো ছবি নেই কিংবা ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রকে বিদায় জানাচ্ছেন এমন খবরও ভক্তদের মনে বিষাদের ছায়া ফেলেছে অনেকবার। গত কয়েক মাসে নতুন কোনো ছবি হাতে পাননি পপি। অবশ্য এ বিষয়ে পপি মন্তব্য করেছিলেন- ‘আগে ছবির মান ও বাজেট ভালো ছিল। এখন ডিজিটাল হাওয়ায় বাজেটের পরিমাণ কমে গেছে। কিন্তু আমি নামমাত্র ছবিতে কাজ করতে চাই না।’ তাই তো বিশেষ দিবসের নাটক দিয়ে তিনি এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছেন দর্শকদের কাছাকাছি থাকবার। তবুও কিন্তু ধীরে ধীরে কাজ নিয়ে আলোচনার বাইরে চলে আসতে থাকেন তিনি। কাজ নিয়ে আলোচনায় না থাকলেও তাকে নিয়ে সমালোচনা করতে ছাড়েননি মিডিয়া। কিছুদিন আগেও গোপনে বিয়ে করেছেন পপি- এ খবর নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন তিনি। যেখানে উল্লেখ করা হয় পপির বর গাজী মিজানুর রহমান পেশায় চিকিৎসক। সম্পর্কে পপির কাজিন। কিন্তু এ সংবাদকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে পপি শক্ত জবাব দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি নায়িকা বলে কি আমার মান-সম্মান থাকবে না? যে যা খুশি লিখে দেবে? আমার মা-বাবার চেয়ে মনে হয় কিছু সাংবাদিক আমার বিয়ে নিয়ে বেশি চিন্তিত! তারাই যখন ইচ্ছা আমার বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। সংবাদ ছাপছে। মিডিয়া ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখতে পাবে যে, কাউকে জড়িয়ে আমার কোনো স্ক্যান্ডাল নেই।

পপি আগে যেসব ছবিতে কাজ শুরু করেছিলেন তাও এখন বন্ধ। তার বেশিরভাগ ছবির শুটিং জাঁকজমকভাবে শুরু হলেও কিছুদিন পরই তা বন্ধ হয় যাচ্ছে। গত দুবছরে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সাদ্দাম হোসেনের ‘বিয়ে হলো বাসর হলো না’, সালমান হায়দারের ‘দেহ’ এবং মিঠুর ‘মন খুঁজে বন্ধন’। এ তিনটি ছবির কাজই আটকে আছে বেশ কিছুদিন। গত বছর পপি টানা কয়েকদিন শুটিং করে ‘বিয়ে হলো বাসর হলো না’ ছবির বেশ কিছু অংশের শুটিং সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু তারপর আর এ ছবির শুটিং হয়নি। এছাড়া ‘দেহ’ ও ‘মন খুঁজে বন্ধন’র শুটিং দীর্ঘদিন ধরেই আটকে আছে। ছবিগুলোর শুটিং আর শুরু হবে কিনা তাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে পপির আশা এখন অনেকটাই হতাশায় পরিণত হয়েছে। চলচ্চিত্রে এখন খুব একটা নিয়মিত অভিনয় না করলেও পপি অভিনীত বেশ কিছু ছবি এখন মুক্তির অপেক্ষায় আছে। এর মধ্যে চার অক্ষরের ভালোবাসা, দুই বেয়াইয়ের কীর্তি, শর্টকাটে বড়লোক ও পৌষ মাসের পিরিতি ছবিগুলোর মাধ্যমে আবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরতে পারেন পপি।

:: শ্রাবণী হালদার

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj