কলকাতায় ইন্দো-বাংলা সিলেট উৎসব উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী

শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪

সাইফুল ইসলাম সুমন, কলকাতা থেকে : বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কলকাতায় তিন দিনব্যাপী ‘ইন্দো-বাংলা সিলেট উৎসব ২০১৪’-এর শুভ উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টায় বেলুন উড়িয়ে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

উদ্বোধন শেষে দুদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। তারপর শুরু হয় ‘ইন্দো-বাংলা সিলেট উৎসব ২০১৪’ বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমকে উৎসর্গ করে ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ থিমের ওপর ভিত্তি করে এই গানটিসহ করিমের বেশ কয়েকটি গান, ধামাইল, প্রামাণ্যচিত্র। ঢাকায় জালালাবাদ এসোসিয়েশন এবং দক্ষিণ কলকাতা সিলেট এসোসিয়েশনের যৌথ আয়োজনে ২৬ থেকে ২৮ ডিসেম্বর কলকাতার যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুল মাঠে তিন দিনের এই ‘ইন্দো-বাংলা সিলেট উৎসব ২০১৪’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকায় জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপিত সিএম তোফায়েল সামির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জগলুল পাশার উপস্থাপনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সিএম শফি সামি, সাবেক এমপি ও পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার, জাতীয় অধ্যাপক ডা. শায়লা খাতুন, গ্রিন ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানির প্রধান উপদেষ্টা নাসির এ চৌধুরী, সাবেক সচিব ড. এ কে আব্দুল মুবিন, আব্দুল কাদির, স্বাগত বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ কলকাতা সিলেট এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রদোষ রঞ্জন দে। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উৎসবের যুগ্ম আহ্বায়ক নারী নেত্রী কৃষ্ণা দাস।

এদিন আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে সিলেটের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যর কথা তুলে ধরে বলেন, এই সিলেট আমাদের সবার পূর্বপুরুষদের দেশ এবং আমাদের অনেকের বর্তমান বাসভূমি। সিলেটের আর্কষণ আগে যেমন ছিল তেমন নয়, এখন বরং আরো বেড়েছে। সর্বোপরি সিলেটবাসী এখনো তাদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে, সৌভ্রাতৃত্বের আদর্শে অটুট থেকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এ উৎসবে বাংলাদেশ, ভারত এবং বহির্বিশ্বে অবস্থানকারী বৃহত্তর সিলেটের অধিবাসীদের এক বিশাল মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই উৎসবের ফলে দুদেশের প্রবাসী সিলেটি অধিবাসী ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়বে। উৎসব চলাকালে দুদেশের সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে চলবে পারস্পরিক মতবিনিময়। এছাড়াও থাকবে নাট্যানুষ্ঠান, গুণীজন সংবর্ধনা, প্রদর্শনী, মেলা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বৃহত্তর সিলেটের সাহিত্য, সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শিত হবে এবং এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত ও বহির্বিশ্বে আবস্থানকারী বৃহত্তর সিলেটের প্রতিনিধিত্বশীল শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেবেন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj