ফিফার স্বীকৃতি পেল বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ

বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৫

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আর মাত্র এক সপ্তাহ পর ঢাকা এবং সিলেটে শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ । ১৯৯৬ সালে এবং ১৯৯৯ সালে অনেকটাই দায়সারাভাবে এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথম আসর ছিল ক্লাব নিয়ে। দ্বিতীয় আসরের দল নিয়েই হয়েছিল হাসাহাসি। ২০১৫ সালে জাতির জনকের নামের টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে গর্জিয়াসভাবে।

আর সেই কারণেই তৃতীয় আসরের ম্যাচগুলো ফিফা আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেতে যাচ্ছে। এ টুর্নামেন্টে জয় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অংশ নেয়া দলগুলোর র‌্যাংকিং ওঠা নামা করবে। এবারের আসরে ম্যাচগুলো যেন ফিফা স্বীকৃতি পায় সেই জন্য অনেক আগে থেকেই চেষ্টা চালাচ্ছিল বাফুফে। ফিফায় অংশ নেয়া দেশগুলোর তথ্য উপাত্ত চেয়েছিল বাফুফের কাছে। বাফুফেও বিভিন্ন দেশে চিঠি দিয়ে তাদের দল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিল। এরপর অংশ নেয়া পাঁচ দেশ তথ্য পাঠায় ফিফার কাছে। বিশ্ব ফুটবলের মোড়ল ফিফা সব কিছু যাচাই-বাছাই করে ২৯ জানুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপকে আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বীকৃতি দিয়েছে। গতকাল বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ এ তথ্য দিয়েছেন।

এবার বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা জাতীয় দল খেলবে। অবশিষ্ট চার দেশ সিঙ্গাপুর, বাহরাইন, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়া তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠাচ্ছে। প্রথম দিকে বাফুফের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন ছয় দেশের জাতীয় দল নিয়ে এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। পরে জানা গেল শক্তিশালী বাহরাইন তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠাবে। কিন্তু এরপর সিঙ্গাপুর জানায়, তারাও এই টুর্নামেন্টে অলিম্পিকের দল পাঠাবে। সিঙ্গাপুরের পর বাফুফে তথ্য দিল মালয়েশিয়াও অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠাবে এই টুর্নামেন্টে। সর্বশেষ গতকাল এ তালিকায় যোগ হলো থাইল্যান্ডের নাম।

২৯ জানুয়ারি সিলেটে তৃতীয় বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার মোকাবেলা করবে। ২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টিটুর শিষ্যরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে। ৬ দলের এ টুর্নামেন্টে দুই গ্রুপ থেকে চারটি দল সেমিফাইনালের টিকেট পাবে। অতীত হিসাব বলছে, বাংলাদেশ অবধারিতভাবে সেমিফাইনালের টিকেট পাবে। কারণ কয়েক মাস আগে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আর ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বাংলাদেশ দল ১-১ গোলে স্বাগতিকদের রুখে দিয়েছিল।

গ্রুপ পর্বে মামুনুলরা একটি ম্যাচে জিতলেই সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। ৪ এবং ৫ ফেব্রুয়ারি সেমিফাইনাল ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে। ৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ জানুয়ারি সিঙ্গাপুর থাইল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ৩১ জানুয়ারি মালয়েশিয়া শ্রীলঙ্কার মোকবেলা করবে। সিলেটে এই তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ১ ফেব্রুয়ারি বাহরাইন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে, ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবং ৩ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ড বাহরাইনের মোকাবেলা করবে। এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সেমিফাইনাল এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনালসহ ৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। স্বাগতিক বাংলাদেশ এবারের আসরে সেমিফাইনালে খেলার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে বিকেএসপিতে বাংলাদেশ অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। ডাচ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ঢাকায় আসছেন বলে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ জানান। ক্রুইফের বাবা কয়েকদিন আগে ক্যান্সারে মারা গেছেন। বাবা হারানোর শোক কাটিয়ে ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসছেন তিনি। ক্রুইফ হল্যান্ডে থাকলেও তার অনুপস্থিতে ভারপ্রাপ্ত কোচ সাইফুল বারী টিটু হল্যান্ড থেকে কোচিংয়ে যে ছক পাঠাচ্ছেন সেই ছকে দলের প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে টিটু।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj