‘এখন তো আর বেঞ্চে বসে প্রেম করতে পারব না’

শনিবার, ৬ জুন ২০১৫

নব্বই দশকের শেষ দিকে দারুণ ক্রেজ নিয়ে ছোট পর্দায় হাজির হন লিটু আনাম। অতি অল্প সময়েই তাবত দর্শকের মন জয় করে প্রিয় একজন হয়ে ওঠেন। ১৯৯৮ সালে শমী কায়সারের বিপরীতে মোহন খানের দূরে কোথাও নাটক দিয়ে শুরু এরপর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ সময়। অভিনীত নাটকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। একজন অভিনেতার জীবনে এর চেয়ে বেশি আর কী পাওয়ার আছে? আছে কী কোনো অতৃপ্তি?

লিটু আনাম বলেন, এটা হলো ভালোবাসার জায়গা।

প্রতি মুহূর্তে শেখা এবং আধুনিক হওয়া। অর্থনৈতিক মুক্তি এখানে প্রধান বিষয় নয়; খ্যাতিও নয়। প্রধান বিষয় হচ্ছে ভালোবাসা। প্রতিনিয়ত এই ভালোবাসার তাগিদেই শিল্পীরা রয়ে যায়, কাজ করে। কাজ করলে খ্যাতি আর অর্থ তো পেছনে পেছনে ছুটবেই। একজন অভিনয় শিল্পী তার যে চরিত্রায়নটি করছে, সেই চরিত্রায়নে যে জীবনযাপন করে প্রতিটি অভিনীত চরিত্র স্ব-স্ব ক্ষেত্রে এক মহাকাব্য।

তাই এক জীবনে অনেক জীবনযাপনের যে বৈচিত্র্যময় উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতা তা অবশ্যই তৃপ্তির। তবে এ তৃপ্তি একজন অভিনয় শিল্পীর জীবনে বারংবার নতুন নতুন তৃপ্তির হাতছানি।

নিজের কিছু কাজের কথা বলতে গিয়ে লিটু বলেন, পরিচালক রিঙ্গোর টেলিফিল্ম স্বপ্ন, আহমেদ ইউসুফ সাবেরের তিনি একজন, বিপুল রায়হানের নাটক বনফুল, লাকী ইনামের আপদ, ফেরদৌস হাসান রানার কানামাছি ও বিবর, ধারাবাহিক সম্পূর্ণ রঙিন ও শেঁওলা, হৃদি হকের আমাদের আনন্দ বাড়ি ও সেই সব দিনগুলো ১৯৭১, সাজ্জাদ হোসেন দোদুলের লালঘুড়ি, মুখোশ, জাল ও খড়ের পুতুল নাটকগুলোর জনপ্রিয়তা আমাকে শুধু সামনের দিকে এগিয়ে দিয়েছে। মানুষের হৃদয়ে শক্ত আসন করে দিতে সাহায্য করেছে।

কাজের স্বীকৃতি কিংবা পুরস্কার নিয়ে বলতে গিয়ে লিটু আনাম বলেন, পুরস্কার সব সময় বিতর্কিত বিষয়। আমি মনে করি, শিল্পের কোনো মাপকাঠি নাই। আনুষ্ঠানিক যেসব পুরস্কার দেয়া হয় তা সম্মান করি কিন্তু‘ আকাক্সক্ষা করি না। বরং আমার কাছে অনেক বড় পুরস্কার যখন একজন মৃত্যু পথযাত্রী রোগী বলেন যে, আমি আপনাকে দেখেছি এই মুহূর্ত মরে গেলেও আমার কোনো দুঃখ নেই। কিংবা অনেক বড় পুরস্কার যখন একজন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা আমার জন্য ডালের বড়া দিয়ে শিং মাছ রান্না করে ৮ মাইল পথ হেঁটে এসে আমাকে খাওয়াতে চায়। অথবা অনেক আক্ষেপ নিয়ে যখন দর্শকরা বলেন, আজকাল আপনাকে নাটকে কম পাচ্ছি বলেই নাটকও খুব কম দেখছি এমন ভালোবাসা পুরস্কার চাই, আকাক্সক্ষা করি, স্বপ্ন দেখি।

সত্যিই তো ইদানীং কম দেখছি আপনাকে এর কারণ কী? এমন প্রশ্নে লিটু বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে এখন আমি আমার জীবনের এমন একটি বয়সে আছি যখন আমি চাইলেই কিংবা আমার প্রযোজক পরিচালক চাইলেই আমি ২০/২১ বছর বয়সের চরিত্রে উপনীত হয়ে ক্লাসরুমের বেঞ্চে বসে প্রেম করতে পারব না, করা উচিতও নয় বলেই অনেক চরিত্র করি না। স্বাভাবিকভাবেই নাটকের একটি অংশ সংখ্যায় কমে এসেছে। আর যত নাটকে অভিনয় করেছি যতটুকু অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে তাতে করে এই অধিকারটুকুও তো অর্জন করেছি যে, কোন ডিরেক্টর, কোন প্রযোজকের নাটক করব তা নির্বাচনের। তাই সার্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী নাটকের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

নাটকই তার ধ্যান-জ্ঞান আর স্বপ্ন। বিয়েও করেছেন নাটকেরই একজন, অভিত্রেী হৃদি হককে। সংসার জীবনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা হচ্ছি বিবাহিত ব্যাচেলর। আমাদের সন্তানরা এভাবেই বেড়ে উঠছে। হৃদি গ্রুপের কাজ নিয়ে, প্রডাকশন নিয়ে ব্যস্ত। নিজের এবং তার ব্যস্ততার কারণে রাতের বেলা ঘুমানোর সময় ছাড়া তার সঙ্গে আমার দেখা হয় না।

:: ময়ূরাক্ষী দুলাল

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj