ফেলানী হত্যা মামলা না নেয়ায় ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের রুল

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৫

কাগজ ডেস্ক : ফেলানী হত্যা মামলা কেন নেয়া হয়নি তা ভারতের সরকার ও দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’র (মাসুম) সম্পাদক কিরীটি রায়ের বিষয়টি জানান। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে বাবার সঙ্গে সীমান্তের কাঁটা তার পেরিয়ে নিজের দেশে ফিরছিল বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন। তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল দেশে। দালালদের সাহায্যে বেড়ার গায়ে তিনটি মই লাগিয়ে ফেলানী যখন সীমানা পেরচ্ছিল, সেই সময়ে প্রহরারত অমিয় ঘোষ তার সার্ভিস রাইফেল থেকে গুলি চালান। বিএসএফ নিজেই তার বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা করে। আইন অনুযায়ী বিএসএফ তাদের নিজের আদালতেই বিচার করে ২০১৩ সালে অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে রায় দেন। ওই রায় নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রশ্ন তুলে। সরাসরি বিচার প্রত্যাখ্যান করে ফেলানীর পরিবার। ওই সময় বিএসএফের আদালতের ওই রায়কে ভারতের আদালতে চ্যালেঞ্জ করে রিট করতে চেয়েছিল দেশটির মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’র (মাসুম)। কিন্তু তখন ফেলানীর পরিবারের কাছ থেকে সংস্থাটি প্রয়োজনীয় নথি আর সহযোগিতা পায়নি।

এ পরিস্থিতিতে বিএসএফের আদালতে গত বছর ফেলানী হত্যার পুনর্বিচার শুরু হয়। চলতি বছর পুনর্বিচারের রায় প্রকাশ হয়। সেখানেও অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়া হয়। দ্বিতীয় দফা রায় প্রকাশের পর ভারতের হাইকোর্টে রিট করে ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ’র (মাসুম)। রিট পিটিশনে বলা হয়- বিএসএফের নিজস্ব আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তারা বেশকিছু আইনি পয়েন্ট খুঁজে বের করেছে, যেগুলো ভারতের সংবিধান আর ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

কিরীটি রায় জানান, আমাদের দেশের সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট করে বলেছে কোথাও কোনো অন্যায়-অবিচার হলে যে কেউ প্রতিবাদ করে আদালতে আসতে পারে। আগের ধারণা পাল্টে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। ফেলানীর পরিবারের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়। তিনি জানান, আমাদের সংগঠন ও ফেলানীর বাবা সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন করে। এক সপ্তাহ আগে এর কাগজপত্র জমা দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট মামলা না নেয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন বিএসএফ ও স্টেট গর্ভনমেন্ট অব ইন্ডিয়ার কাছে।

কিরীটি রায় আরো জানান, সুপ্রিম কোর্ট সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন, কেন এত দিন মামলা নেয়া হয়নি। অনেক দিন ধরেই বিচারের নামে অবিচার চলছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কিরীটি রায় আরো জানান, ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেকের জীবনের অধিকার রয়েছে। শুধু ভারতের নাগরিক নয়, দেশের মাটিতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির। এ ক্ষেত্রে সেটাও লঙ্ঘিত হয়েছে।

তবে ভারতের সংবিধান আর আইন এ ব্যাপারে অত্যন্ত কড়া।

এদিকে বিএসএফের কর্মকর্তারা বলছেন তাদের নিজস্ব আদালত যে রায় দিয়ে অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ আখ্যা দিয়েছে, বাহিনীর মহাপরিচালক চাইলে তা খারিজ করে দিতে পারেন। সেই ক্ষমতা তার আছে। তবে তৃতীয়বার এই মামলার বিচারের আর কোনো সুযোগ নেই, কারণ দুবারের বেশি তিনবার জিএসএফসি বা কোর্ট মার্শাল হয় না।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ