নায়ক হয়েই ফিরলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৫

আমাদের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। প্রায় ৩০০টির মতো দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। মাঝখানে দীর্ঘদিন পর্দায় বাইরে ছিলেন। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় ‘হঠাৎ দেখা’ চলচ্চিত্রে মধ্য দিয়ে ফের ‘নায়ক’ হিসেবে আবার ফিরলেন। এ চলচ্চিত্রে তার কাজের অভিজ্ঞতাসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে জানালেন তিনি। প্রতিবেদনটি সাজিয়েছেন- এস এইচ রাখী

হঠাৎ দেখা…

গত নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনীত নতুন ছবির শুটিং শুরু হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হঠাৎ দেখা’ কবিতা অবলম্বনে ছবিটির নির্মাণ করছেন শাহাদাৎ হোসেন বিদ্যুৎ ও কলকাতার রেশমী মিত্র। এ ছবিতে কাজের প্রসঙ্গে জানাতে গিয়ে কাঞ্চন জানালেন দুই দেশেই ছবির শুটিং হবে। বাংলাদেশের লোকেশনে আমার ও দেবশ্রীর শুটিং শেষ হয়েছে।

ভারতে শুটিংয়ের সিডিউল এখনো পায়নি। হয়তো শিগগিরই পাব। দেবশ্রীর অনেক সিনেমা আমি দেখেছি। এবার তার সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাটা দারুণ। গুণী শিল্পী। তার সঙ্গে কাজটা করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।

ছবি করে দেখাব কাকে!

চলচ্চিত্রে এখন এত অনিয়মিত কেন? জানতে চাইলে তিনি বললেন, সত্যি বলতে আমাকে তো সিনেমায় নেয় না। যখন আমি চলচ্চিত্রে নাম্বার ওয়ান ছিলাম তখন বছরে শতাধিক সিনেমা মুক্তি পেত। তার বেশিরভাগ সিনেমায় আমি থাকতাম। কিন্তু এখন সিনেমা নির্মাণই কমে গেছে। বছরে বড়জোর পঞ্চাশটা ছবি মুক্তি পায়। সেগুলোতে এখনকার ইয়াং নায়কদের মধ্যে শাকিব, ইমনরাই অভিনয় করছে। আমাদের বয়স বেড়েছে। আমাদের নিয়ে আলাদা করে গল্প হচ্ছে না। তারপরও আমি মনে করি নিয়মিত অভিনয়ের সামর্থ্যটা আছে, চাইলে করতে পারি। কিন্তু করছি না। কারণ ছবি করে আমি দেখাব কাকে? সিনেমার হলগুলোর পরিবেশই তো ভালো না। হলগুলো কমিউনিটি সেন্টারের মতো হয়ে গেছে। কমিউনিটি সেন্টারে পর্দা ফেলে ডিজিটাল ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেশিন ভাড়া করে আমার ছবি কমিউনিটি সেন্টারে দেখাব না।

মান্ধাতার আমলের প্রেক্ষাগৃহ

আপনার কি মনে হয়, বাংলা চলচ্চিত্রের অগ্রগতির পেছনে অন্তরায় হলো প্রেক্ষাগৃহ? প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে ইলিয়াস কাঞ্চন জানালেন, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবকিছুতেই আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। কিন্তু যেটা আসল মানে সিনেমা হল সেখানেই লাগেনি। হলগুলো এখনো সেই মান্ধাতার আমলের মতোই চলছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের রুচিরও পরিবর্তন হয়েছে। সেটা মাথায় রেখেই দেশের সিনেমা হলগুলোর দিকে নজর দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু এতদিনেও তার পরিবর্তন হয়নি। এটাই সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা। আগে হল মালিকদের নিজেদের মেশিন ছিল। তার পরিবর্তে এখন এসেছে ডিজিটাল পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে দেখা যায়, বানানোর সময় ভালো রেজ্যুলেশন থাকলেও হলে প্রদর্শনের সময় রেজ্যুলেশন বাজে দেখা যায়। পাশাপাশি ওরা টেকনিক্যালি অনেক ভালো অবস্থানে গেছে। একই কায়দায় বাংলাদেশেও হলগুলোর উন্নতি করা যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমি বহুবার বলছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

বাপ-মা হারা ইন্ডাস্ট্রি…

চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নের পেছনে সীমাবদ্ধতা কোথায় জানতে চাইতে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য কিছু যদি করে থাকে তাহলে তা বঙ্গবন্ধুই করেছে। অনেক প্রতিক‚লতাকে সামনে রেখে তিনি এফডিসি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর ইন্ডাস্ট্রি বাপ-মা হারা হয়েছে। কেউ আর এগিয়ে আসেনি। বাপ-মা ছাড়াই চলছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি। বাপ-মা ছাড়া সন্তান কিভাবে বেড়ে উঠে? বঙ্গবন্ধুর আদর্শে যারা রাজনীতি করছে তাদেরও এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি। উল্টো পাশের দেশের চলচ্চিত্র দেশে প্রদর্শন চলছে।

নীতিলঙ্ঘন মন্দ কাজ…

যৌথ সিনেমা নির্মাণকে ঘিরেও এখন নানা বিতর্ক। এ ব্যাপারে ইলিয়াস কাঞ্চনের মন্তব্য- সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে করলে ঠিক আছে। কিন্তু এর পেছনে যদি কোনো উদ্দেশ্য থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই খারাপ। যৌথ প্রযোজনার তো একটা নীতি আছে। সেই নীতির ভেতর করলে সমস্যা দেখি না। কিন্তু নীতি লঙ্ঘন করা তো অবশ্যই মন্দকাজ।

অভিনয় নকল করা যায় না…

নকল সিনেমা নির্মাণের প্রসঙ্গে কি বলবেন? শুনতে চাইলে তিনি জানান, আটত্রিশটা গল্প থেকে হাজার গল্প তৈরি হয়েছে। প্রত্যেকটা গল্পই যে যার মতো করে তৈরি করে। একটা সিনেমা ফ্্েরম টু ফ্্েরম করলে সেটা অবশ্যই উচিত না। তবে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে অনেক কিছু নকল হলেও একজন আরেকজনের অভিনয়টা কিন্তু নকল করতে পারে না। নকলের চেষ্টা করলেও তার মধ্যে নিজস্ব কিছু ঢুকে যায়। একইভাবে ক্যামেরাম্যানও একই লোকেশনে কাজ করে না। তাই গল্প কিছু মিলে যায়।

কিন্তু মাথায় রাখতে হবে খুব বেশি যেন মিলে না যায়।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj