জয়পুরহাট চিনিকলের মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন

রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৫

কবির হোসেন, জয়পুরহাট থেকে : দেশের বৃহত্তম চিনি শিল্প জয়পুরহাট চিনিকলের ৫৩তম মাড়াই মৌসুম গত শুক্রবার বেলা ১১টায় চিনিকল চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২০১৫-১৬ সালের মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট সামছুল আলম দুদু।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জয়পুরহাট জেলাপরিষদের প্রসাশক ও জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলাইমান আলী, চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের সচিব আখতার হোসেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান, জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যপস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লি.-এর ইভিপি হেড অব ফিন্যান্সিয়াল ইক্লুশন ডিভিশন, ঢাক আবুল কাশেম খান, জয়পুরহাট চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, জয়পুরহাট পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরুণ সমাজসেবক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক প্রমুখ। এবার চলতি মাড়াই মৌসুমে ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ৭৫ হাজার টন আখ মাড়াই করে ৫ হাজার ২৫০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার ২০১৫-১৬ মাড়াই মৌসুমে চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে ৭.৫০।

গত মাড়াই মৌসুমে চিনি আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭.২৫ সেখানে অর্জিত হয়েছে ৭.২৯। অনুষ্ঠনে কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ চিনিকল কর্পোরেশনের নিযন্ত্রণাধীন জয়পুরহাট চিনিকলে আখ মাড়াই করে বছরে ২০ হাজার ৩২০ টন চিনি উৎপাদন সম্ভব। সেখানে গত কয়েক মৌসুমে আখ মাড়াই করে উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৫/৭ হাজার টন চিনি।

ফলে প্রতি কেজি চিনির উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ১ শত টাকা এবং প্রতিকেজি চিনিতে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা লোকসান দিয়ে প্রতি কেজি চিনি বাজারে বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ৩৫ টাকায়। অপরদিকে উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করা সম্ভব হলে প্রতি কেজি চিনির উৎপাদন খরচ পরবে মাত্র ৪০/৪২ টাকা। এতে লোকসান কমবে এবং এ লাকার তথা দেশের সর্ববৃহৎ চিনি শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব হবে। আখের মূল্য পরিশোধ ও চাষিদের ভর্তুকীর ব্যাপারে অতিতের ভুলভ্রান্তির জন্য তিনি কৃষকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন এবার আখের মূল্য পরিশোধের জন্য আর কোনো সমস্যা হবে না, ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাৎক্ষণিকভাবে আখের মূল্য পরিশোধ করা হবে। গুদামে আর কোনো চিনিও অবিক্রিত পরে থাকবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সামছুল আলম দুদু বলেন, এ সরকার শিল্প বান্ধব সরকার, শিল্প উন্নয়নে অগ্রাধীকারের ভিত্তিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে না এবং শিল্পের সঙ্গে জড়িত কোনো শ্রমিক বেকার থাকবে না। দেশের বৃহত্তম এ চিনি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারের পাশাপাশি কৃষকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। দেশের বৃহত্তম এ চিনিকলকে বাঁচিয়ে রাখতে ও লাভজনক শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত করতে বেশি করে আখ লাগাতে হবে। আখের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে আলু, সরিষা ও বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করা যায়। এতে কৃষক অধিক লাভবান হবে। এছাড়া এসটিপি পদ্ধতির মাধ্যমে আখ চাষ করলে আখের ওজন বাড়ে ও চিনি আহরণ বেশি হয় এবং একবার আখ লাগিয়ে ৫/৭ বছর ফলন পাওয়া যায়। তিনি আখের মূল্য বৃদ্ধিসহ কৃষকদের সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj