রেজাউদ্দিন স্টালিন-এর কবিতা

শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি ২০১৬

** অনির্দিষ্ট দীর্ঘশ্বাস **

দীর্ঘশ্বাসের দিন ক্রমশ বিবর্ণ হতে থাকে

পাণ্ডুর আশ্চর্য ধূসর প্রাচীন

দৃষ্টির সমান্তরাল শূন্যে হতভাগ্য হানা দেয়

অবরুদ্ধ আবহাওয়া ঘেরা ঘরে

টুপটাপ ঘড়ির কান্না

যতদূর দৃষ্টি যায়

স্মৃতির জায়গা থেকে সরে গেছে ছায়ার সজল

পাখিদের অর্থহীন আত্মরক্ষা

খড়কুটোর তাঁবু থেকে খসে পড়ছে ডানার নরম

অমূল্য অবয়ব থেকে ছায়াদের প্রতিরোধ প্রত্যাহৃত

সুদূর প্রসারী স্বপ্ন ভস্মীভূত জাদুর আগুনে

অজস্র মৃত্যু আর বিদীর্ণ কণ্ঠস্বরের থরদিন-কানসাট

ঘৃণা আর কুটিল টিউয়ের দিন- ফুলবাড়ি

সর্বনাশ আর হেকাটির হিংস্র প্রেতের দিন-ঝঞ্ঝা সিডর

অথচ শুচিশুদ্ধ হৃদয়ের উপভোগ্য হতে পারে

একটা দুর্লভ দিন

আহ্লাদে উদ্ভিদের আলোর উজ্জ্বল

এবং অনুপস্থিতির ফাঁকা মাঠ পদধ্বনি পান করে প্রমূর্ত

এমন হতাশাগ্রস্ত অন্তরীক্ষ দিন

নড়বড়ে নক্ষত্র পড়ে যাচ্ছে পথে ঘাটে

প্রকৃতির আদল ছন্নছাড়া স্মৃতি

বিষাদের দৈত্যদানো হৃৎপিণ্ডের ঘণ্টা ধরে টানে

হাপরের হা-হুতাশ শোককে তাতিয়ে তোলে আরো

এবং দূরত্ব দীর্ঘ করে প্রত্যাবর্তনের

দুর্ভাগ্যের ভাটিয়ালি যন্ত্রণার নাভিমূল খোঁজে

সিদ্ধান্তের দোদুল্যমান উত্তরাধিকার নিয়ে

দীর্ঘশ্বাসের দিন সীমাহীন দীর্ঘ হতে থাকে

ঘটে বৃক্ষের নিষ্পত্র অঙ্কুরোদগম

** এত ছোট নই **

এত ছোট নই

খাদ্য হবো গৃহপালিতের

কিংবা এমন উদার

ষড়যন্ত্রকারীদের ক্ষমা করে দেবো

আমার জন্মস্থান শত্রুদের

বুটের শব্দে শঙ্কিত

সম্ভাবনার সবুজ শাখায় ঘুণ বসত বানাবে

আর শস্যের সংকট দেখে লজ্জা পাবে খরা

বোধিবৃক্ষের বীজ ভুলে যাবে অঙ্কুরোদগম

এত নম্র নই

নির্মমতা সুন্দরের নিয়ন্ত্রক হবে

বরফের বিস্তার দেখে ভীত হবে বেগবান নদী

অগ্নি ও অস্ত্রের মূল্য আমরাও বুঝি

অভিমানে অন্ধ নই

মধুসূদনের মতো মেনে নেবো স্বেচ্ছা নির্বাসন

কিংবা এমন চলৎশক্তিহীন

ক্রুশের কণ্ঠে জয়মাল্য দেবো

দুধের পাত্রে বিষ অ¤ø নাকি ক্ষার

এই বলে অশ্রæপাত কর্ণদের কাজ

ঈশ্বরপাটনী জানে আমার সন্তানের দুধ

মাতৃস্তনে

** তাঁকে ডাকো **

ছড়িয়ে রয়েছে নদী নানাদিকে, সমতলে সাঁকো,

তাঁকে ডাকো

ডেকে আনো; পার হতে হবে পথ একা নয় আর,

ফুরিয়েছে আকাশের আয়ু, বয়স হয়েছে কবিতার।

মনের মুখের ’পরে জলরঙ বিকেলের রোদ

নাগরিক বোধ

কতটা হয়েছে আঁকা, আর কটা সাদা পৃষ্ঠা বাকি?

জীবনের ক্যানভাস কতদূর, নিঃসঙ্গ একাকী

তাঁকে ডাকো, শ্রাবণের দিন শেষ শহরের মুখ

উৎসুক

হয়ে আছে আবার দেখবে সাদা শরতের মেঘ,

দুচোখে উঠবে ভরে আরক্তিম সন্ধ্যার আবেগ।

রাজধানী তন্দ্রাতুর স্বপ্নগুলো দুঃখভারানত,

ছায়া ক্রমাগত

হেঁটে হেঁটে পার হোক অন্ধকার অবনত সাঁকো;

ফেরানো যাবে না আর, খুব প্রয়োজন তাঁকে ডাকো।

** প্রশ্ন **

অগ্রপথিক কিভাবে এগুবে দ্যাখো,

সব পথ গেছে নির্বাসনের দিকে।

আর সব নদী চরের নিমন্ত্রণে,

বৃক্ষরা যেন হলুদ হয়েছে ফিকে।

গুলবাগিচায় বুলবুলি সব বোবা,

সৃষ্টি সুখের উল্লাস গেছে থেমে।

লৌহকপাট ভাঙতে কে নেবে ঝুঁকি?

বিদ্রোহী যারা পড়েছে ভীরুর প্রেমে।

খুনিরা এখন সমাজে প্রিয়লোক,

খলনায়কেরা পদকে সম্মানিত।

সমাজপতিরা ভয়াবহ প্রতারক,

বেগম রোকেয়া স্বেচ্ছা নির্বাসিত।

সত্য বলার কেউ নেই, নজরুল-

বিবেকের কাছে কবিরাও পরাজিত।

রবীন্দ্রনাথ শত সঙ্গীত দিয়ে

জাগাতে পারেনি আছে যারা নিদ্রিত।

উন্নত শির অবনত কেন হবে?

এ প্রশ্নে আজ উদ্যত সারাদেশ।

প্রয়োজনে সব নজরুল হবো আজ,

বাতাসে ওড়াবো বাবরি দোলানো কেশ।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj