এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ছে : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৬

কাগজ প্রতিবেদক : দেশে বিনিয়োগ মন্দা পরিস্থিতি সত্ত্বেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণ বেড়েছে। গেল বছরের ৯ মাসে এ খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৯৫৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৯ হাজার ৮২৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বা ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ শতাংশ। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট ৯০ হাজারের বেশি নতুন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এমফ উদ্যোক্তাদের মাঝে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার নতুন নারী উদ্যোক্তা ৫১১ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গ, প্রতিবন্ধী ও সামাজিক সুবিধাবঞ্চিত উদ্যোক্তাদের ১ কোটি টাকার অধিক ঋণ বিতরণ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৫ সালে এসএমই খাতে এক লাখ ৪ হাজার ৫৮৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। বছরের নয় মাস শেষে লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

যা এর আগের বছরে একই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার ৮১ দশমিক ০২ শতাংশ ঋণ বিতরণ হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সেবা খাতে ৮ হাজার ৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ে বিতরণ হয়েছিল ৫ হাজার ৬৬৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এতে নয় মাসে সেবা খাতে ঋণ বেড়েছে দুই হাজার ৪১৩ কোটি বা ৪২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আর ব্যবসা খাতে ৫২ হাজার ৪২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৬ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। সে হিসেবে ব্যবসা খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, শিল্প খাতে ২১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২০ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সুতরাং শিল্প খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময় সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে সেবা খাতে। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। যদিও গত বছরের একই সময়ে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে ব্যবসা খাতে। যা মোট ঋণের ৬৩ শতাংশ ছিল। আর চলতি বছরের একই সময়ে ব্যবসা খাতে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এ সময়ে শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় বলেন, দেশে চলমান বিনিয়োগ মন্দার মধ্যেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ বিতরণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। যার ফলে এ খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়ছে। বিতরণের এ গতি অব্যাহত থাকলে বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বিতরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যান্য বছর ঋণের বড় অংশ ব্যবসা খাতে গেলেও এবার সেবা খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময়ই উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে জোরালো মনিটরিং করে আসছে। এসএমই খাতে উচ্চ সুদ প্রদান সম্পর্কে তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তারা ১০ শতাংশ ঋণ পাচ্ছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির বেশিরভাগই ১০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়াও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণের ঋণ বিতরণ করছে, সেক্ষেত্রে সুদের হার কিছু বেশি হচ্ছে। যদিও তা আগের তুলনায় কমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো দেখা যায়, বছরের প্রথম নয় মাসে নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বেশ কিছুটা কমে গেছে। এ সময় নারী উদ্যোক্তা খাতে দুই হাজার ৫২১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ০৫ শতাংশ কম। এছাড়া নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে ১৪ হাজার ৮৬৪ কোটি ২১ লাখ টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন নারী উদ্যোক্তাদের দেয়া হয়েছে ৫১১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ’১৫ শেষে এসএমই খাতে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ খাতে সর্বমোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৩৩০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ সময়ে ঋণ আদায় হয়েছে ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তথ্যে আরো দেখা যায়, ব্যাংকগুলো এসএমই খাতে ৭৯ হাজার ২১৭ কোটি ৩২ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে, যা চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুই হাজার ৭৩৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করায় লক্ষ্যমাত্রা ৫২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj