সাক্ষাৎকার . বইমেলা উদযাপন করি : স্বকৃত নোমান

রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

কাগজ প্রতিবেদক : বইমেলা তো আসলেই প্রাণের মেলা। বাংলাদেশের সাহিত্য চর্চা তো এখন অনেকাংশেই বইমেলা কেন্দ্রিক। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বেশিরভাগ লেখক মেলাকে সামনে রেখেই পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেন। প্রায় সব লেখকেরই নতুন বই প্রকাশিত হয় মেলায়। ফলে গোটা ফেব্রুয়ারি লেখক-প্রকাশক-পাঠকদের উদযাপনের মাস হয়ে ওঠে। আমরা যারা লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত, এ মাসটি সত্যি সত্যি উদযাপন করি। সারা বছর এ মাসটির অপেক্ষায় থাকি। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে ফেব্রুয়ারি মানেই অন্যরকম আনন্দের একটি মাস। শুধু যে নতুন বই প্রকাশের আনন্দ তা নয়, মেলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে পরিচিত-অপরিচিত লেখকরাও আসেন। তাদের সঙ্গে দেখা, পরিচয়, আড্ডা হয়। পরিচয় হয় নতুন নতুন পাঠকের সঙ্গেও।

বইমেলা প্রসঙ্গে ভোরের কাগজের এক প্রশ্নের জবাবে তরুণ কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বইমেলায় প্রথম তিনদিন গিয়েছিলাম। নানা ব্যস্ততার কারণে তারপর আর সময় করে উঠতে পারিনি। মেলার শুরুর দিকে না গেলে আসলে ভালো লাগে না। নতুন বইয়ের বা প্রকাশক বন্ধুদের খোঁজখবর নিতে যেতে হয়। তাছাড়া এবারের মেলায় আমার দ্বিতীয় গল্পের বই ‘বালিহাঁসের ডাক’ বেরিয়েছে অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে। দ্বিতীয় দিনই বইটি মেলায় এসেছে।

প্রথম কখন মেলার সঙ্গে পরিচয় ঘটে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রথম কবে বইমেলায় গিয়েছিলাম এখন আর মনে নেই। অনুমান করি প্রায় ষোল-সতের বছর আগে প্রথম বইমেলায় যাই। তবে নিয়মিত যাচ্ছি গত এক যুগ ধরে। আমার প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে। তারপর থেকে মেলার আটাশদিনের মধ্যে বলা যায় বিশ দিনই গিয়েছি।

এবার তো মেলার পরিসর আরো সম্প্রসারিত হলো। কেমন লাগছে জানতে চাইলে নোমান বলেন, এবারের মেলার একটা ইতিবাচক দিক হচ্ছে এটিকে এক জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এর আগে মেলা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। এক ভাগ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ, অন্যভাগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো। লেখক-পাঠকদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতো। এবার আর এটি থাকছে না। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান মেলাকে এক জায়গায় এনে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন। আর গত তিন বছর বইমেলার অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত তিন বছর মেলা ঠিকমতো জমেনি। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ছিল অবরোধ। এ কারণে ঢাকার বাইরের লেখক-পাঠকরা মেলায় যোগ দিতে পারেননি। এছাড়া মেলার মাঝামাঝি সময়ে ঠুনকো কারণে বন্ধ করে দেয়া হয় একটি প্রকাশনীর স্টল। শেষদিকে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হলেন একজন লেখক। ব্যক্তিগতভাবে আমিও নানা অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হই। আশা করি, এবারের মেলায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। বাকি দিনগুলোতে বইমেলার নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করি যতœবান হবেন। লেখক-পাঠকরা যাতে ভালোভাবে মেলায় যোগ দিতে পারেন সেই পরিবেশ বজায় থাকুক। বাঙালির এই মেলা হয়ে উঠুক প্রাণবন্ত।

বইমেলার কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে কদিন গিয়েছি তাতে অসঙ্গতি কিছু চোখে পড়েনি। তবে লিটলম্যাগ চত্বরটা একাডেমি চত্বরে না রেখে উদ্যানে নিয়ে এলে আরো ভালো হতো। লেখকদের আড্ডা তো হয় আসলে লিটলম্যাগ চত্বরে। মেলায় গিয়ে লিটলম্যাগ চত্বরে না গেলে যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আগামী বছর আশা করি লিটলম্যাগের জন্য বরাদ্দ দেয়া স্টলগুলো উদ্যানে নিয়ে আসা হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj